Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কি হতে যাচ্ছে ১২ই মার্চ

চারপাশে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। কি হতে যাচ্ছে ১২ই মার্চ। বিএনপি’র ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি ঘিরে টান টান উত্তেজনা। সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষে চলছে পাল্টাপাল্টি। সমাবেশ ঘিরে ইতিমধ্যে বড় দু’দলই নিয়েছে একাধিক প্রস্তুতি। চলছে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা। বিএনপি’র কর্মসূচির আগে-পরে সরকারি দলও একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, কিছু করলে খবর আছে। ১২ই মার্চ সামনে রেখে সরকারি মহল ৭ই মার্চ ও ১৪ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দু’টি জনসভা করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’টিতেই প্রধান অতিথি থাকবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ১২ই মার্চ নিয়ে একাধিক জনসভায় কথা বলেছেন। মহাসমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসছে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। দলের গুলশান কার্যালয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি নিয়ে। সভা-সমাবেশে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আশঙ্কিত দেশবাসী। টক অব দ্য কান্ট্রি ‘কি হতে যাচ্ছে ১২ই মার্চ।’ একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে নাশকতা হতে পারে- এমন আন্দাজ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল বলেছেন, রাজধানীর হোটেল ভাড়া দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে বাস ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না। ফখরুল আরও বলেন, হোটেল ভাড়া না পেলে আমরা রাস্তায় থাকবো। বাস না পেলে মানুষজন হেঁটে ঢাকায় আসবে। সংঘাত এড়াতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকায় অবস্থানরত ৩২ হাজার পুলিশের পাশাপাশি ১২ই মার্চ সামনে রেখে বাইরে থেকেও অতিরিক্ত ফোর্স আনা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে রায়ট ভ্যান, জলকামান (গরম পানি, ঠান্ডা পানি, রঙিন পানি), এপিসি (আর্মড পারসোনাল কেরিয়ার), রাবার বুলেট, শটগান, টিয়ারশেল, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে, কন্ট্রোল টাওয়ার, বর্ম পরা দাঙ্গা পুলিশ। সরকারি মহলে উদ্বেগ রয়েছে, ১৮ই ডিসেম্বরের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের মতো রাজধানী জুড়ে চোরাগোপ্তা হামলা হতে পারে। নজরদারি শুরু হয়েছে সর্বত্র। বিএনপি বলেছে, যেখানেই বাধা সেখানেই অবস্থান। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের রাখা হয়েছে সতর্কাবস্থায়। সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। গোলাম আযমসহ শীর্ষ জামায়াত নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তারে ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সারাদেশের জামায়াত কর্মীরা। ১২ই মার্চ প্রথম জামায়াত মুক্ত বাতাসে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের পর তাদের কর্মসূচিতে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় গলদঘর্ম হচ্ছেন গোয়েন্দারা। ১২ই মার্চ কি করবে জামায়াত? জঙ্গি সংগঠনগুলোর কর্মীরা তাদের ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়নে জামায়াত বা বিএনপি’র সঙ্গে মিলেমিশে অংশ নিতে পারে সমাবেশে। ঘটাতে পারে নাশকতা। আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে সরকারকেও। এ কারণে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিএনপি’র কর্মসূচির পাল্টা কোন কর্মসূচি না দিয়ে মাঠ দখলে রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর এবং ঢাকার আশপাশের জেলাসহ পুরো দেশের কর্মীদের ওয়ার্মআপে রাখা হয়েছে, যাতে হুইসল বাজলেই মাঠে নেমে পড়তে পারে তারা। ১৪ দলের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে একেবারে ১২ই মার্চের গা ঘেঁষে। ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আছে, আবার ১২ই মার্চের আগের দিনও তাদের কর্মসূচি আছে। ১২ই মার্চের পরে ১৪ই মার্চ ১৪ দলের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ১২ই মার্চ ঘিরে তাদের উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছেন। তারা উদ্বিগ্ন দু’কারণে- নাশকতা এবং বিএনপি’র ডাকে কি পরিমাণ লোক সমাগম হয় তা নিয়ে। গত ৩০শে জানুয়ারি বিএনপি’র পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে পালিত মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভা ফ্লপ হওয়ায় তাদের এই উদ্বিগ্নতা।
সতর্ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী: বিএনপি’র ডাকা ‘ঢাকা চলো কর্মসূচি’কে ঘিরে ঢাকা নগরী পুলিশের শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব জনবলের বাইরে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঢাকায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো জনবল রেখে বাকি জনবল ৯ই মার্চের মধ্যে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করেছে ১২ই মার্চ ঢাকায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এটি হলে দেশের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক পুলিশ কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে এবার গণগ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। মারমুখো না হয়ে পুলিশকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৩২ হাজার। এর বড় অংশ ১২ই মার্চ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবে। এর বাইরে আরও অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পুলিশ ঢাকার বাইরে থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি অন্তত ৫ হাজার র‌্যাব মোতায়েন করা হবে। এর বাইরে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন কয়েকটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সব মিলিয়ে আগামী ১২ই মার্চ ঢাকায় অন্তত ৪৫ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। গতকাল যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সব কিছু মাথায় নিয়েই নিরাপত্তা ছক তৈরি করছি। নিরাপত্তা পরিকল্পনা হবে নিশ্ছিদ্র। এটা বাস্তবায়নের জন্য যত লোকবল প্রয়োজন তা মোতায়েন করা হবে। ওদিকে গতকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ডাইভারশন ও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ৯ই মার্চ থেকে রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে বলে জানিয়েছে সূত্র। ঢাকার সবগুলো প্রবেশমুখে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে। ইতিমধ্যে ঢাকার উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের যানবাহনে দফায় দফায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন ঢাকায় যাচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে যাত্রীদের। অনেকের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখা হচ্ছে। ১২ই মার্চকে ঘিরে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃথক পৃথকভাবে তাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে ১২ই মার্চকে ঘিরে কোন নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি। তবে অন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে কি বলা হয়েছে তা জানা যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার একজন অতিরিক্ত ডিআইজি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সবগুলো গোয়েন্দা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ১২ই মার্চ ঘিরে কি ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নির্ধারণের জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। আগামী ৯ই মার্চ থেকে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে। সূত্র জানিয়েছে, বড় ধরনের জনসমাবেশে বোমা হামলা বা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া, প্রস্তুত থাকবে ‘দ্রুত উদ্ধার এবং চিহ্নিতকরণ’ দল (মেসিভ রেসকিউ অ্যান্ড আইডেন্টিফাই)। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এপিসি (আর্মড পার্সোনাল কেরিয়ার) নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট টিমের সদস্যরা। জলকামান নিয়ে প্রস্তুত থাকবে দাঙ্গা পুলিশ। শটগান, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিয়ে মোতায়েন থাকবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। পুলিশের দাঙ্গা দমন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করবে। পল্টন এলাকার সবগুলো উঁচু ভবন থেকে পর্যবেক্ষণ দল কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিক বার্তা পাঠাবে। বড় ধরনের হামলা হলে তা ঠেকানোর জন্য বর্মজাতীয় বিশেষ ধরনের পোশাক পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ঢাকার বেশ কয়েকটি কৌশলগত পয়েন্টে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে।
জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে সতর্কতা: পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ১২ই মার্চ ঘিরে কোন ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই। তবে সামপ্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছে। এসব ঘটনায় জামায়াত ও কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন মদত দিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১২ই মার্চে কোন জঙ্গি গ্রুপ বা তৃতীয় কোন সংগঠন যাতে সুযোগ নিতে না পারে এজন্য পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নজরদারিতে আবাসিক হোটেল, মেসবাড়ি: রাজধানীর অন্তত ৫০০ আবাসিক হোটেল ও দেড় হাজার মেসবাড়ি এখন কঠোর নজরদারিতে। ইতিমধ্যে সবগুলো আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। আগামী ৯ই মার্চ থেকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত বোর্ডারদের সব ধরনের তথ্য থানা পুলিশকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে গতকাল থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দফায় দফায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। একসঙ্গে আসা ৩ জন অতিথিকে হোটেল কক্ষ বরাদ্দ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় থাকা মেসবাড়িগুলোও এখন নজরদারির আওতায়। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি মেসবাড়ি ও কিছু মাদরাসা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু, পদে পদে বাধা: জেলা পর্যায়ে কর্মিসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে বিএনপি মহাসমাবেশের প্রচারণা শুরু করেছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড কর্মিসভা প্রায় সম্পন্ন করেছে বিএনপি মহানগর। এসব কর্মিসভায় উপস্থিতি, সারাদেশ থেকে আগতদের সহযোগিতার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। তবে এতদিন অনেকটাই নীরব ছিল ঢাকা মহানগর বিএনপি। গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে রাজধানীতে। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ ও মিছিল করেছে বিএনপি। শনিবার রাতেই নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় সাঁটানো হয়েছে প্রথম দফা পোস্টার। তোলা হয়েছে প্যানাফ্ল্যাক্স ও ব্যানার। তবে লালবাগ ও চকবাজারে কর্মিসভার আগে বিএনপি’র সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রচার মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে আমাদের কর্মিসভায় বাধা দিচ্ছে পুলিশ। লালবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মিসভা করতে দেয়া হয়নি। পোস্টার লাগাতে গেলে শনিবার রাতে তেজগাঁও থানা পুলিশ বিএনপি’র ৪কর্মীকে আটক করেছে। অনেক জায়গায় ব্যানার টাঙাতে বা বিলবোর্ড স্থাপনে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ১২ই মার্চের মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার অংশ হিসেবে প্রচার কার্য বিঘ্নিত করতে সরকার বিভিন্নভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। তেজগাঁও থানা বিএনপি’র নেতা আবদুল আউয়াল, রফিক, শ্রমিক নেতা কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সরকার মুখে গণতান্ত্রিক আর আচরণে স্বৈরাচারী। তারা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিয়ে সংশয়ের কথা বলে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করছে। লিফলেট বিতরণে বাধা দিচ্ছে। পোস্টার লাগাতে গেলে গ্রেপ্তার করছে। তবে কোন কিছুই আমাদের কর্মসূচিকে রুখতে পারবে না। সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আগামী ৮ই মার্চ থেকে আমরা ব্যাপক প্রচারণা শুরু করবো। আশা করি এরই মধ্যে পুলিশের অনুমতি মিলবে। তখন মাইকিং চলবে রাজধানীতে। মিছিল করা হবে পাড়ায় পাড়ায়। এছাড়াও মহাসমাবেশের প্রচারে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। এদিকে বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, মহাসমাবেশের প্রস্তুতি উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় কর্মিসভা করতে যাওয়া বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের গাড়িবহরে, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়িবহরে এবং পিরোজপুরে সেলিমা রহমানের গাড়িবহরে হামলা চালায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় আমাদের কর্মিসভা করতে দেয়া হয়নি। এ প্রতিবন্ধকতা দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, জনগণকে ভয় দেখিয়ে মহাসমাবেশে অংশগ্রহণে বিরত রাখতেই এটা করা হচ্ছে।
জোট সমপ্রসারণের ঘোষণা: মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকেই আসতে পারে চারদলীয় জোট সমপ্রসারণের ঘোষণা। ওই দিনই সমপ্রসারিত নতুন জোটের নাম ঘোষণা করবেন বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোটের শরিক ও সমমনা দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। নেতারা জানান, জোট সমপ্রসারণের ঘোষণাপত্র তৈরির কাজ এরই মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। আগামী ১২ই মার্চ ওই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সূত্র জানায়, ২১শে ফেব্রুয়ারির বৈঠকে সমমনাদের সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ওই দিন গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠককালে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে জোট সমপ্রসারণের ঘোষণা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মহাসমাবেশ উপলক্ষে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে ওইদিন রাতে চারদলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। নেতারা জানান, জোট সমপ্রসারণে কালক্ষেপণ নিয়ে সমমনা দলের নেতারা হতাশা প্রকাশ করলে খালেদা জিয়া নিজেই জোট সমপ্রসারণের সম্মতির কথা বলেছেন। এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য রেদোয়ান আহমেদ বলেন, সরাসরি বলতে পারবো না। তবে সে ধরনের সম্ভাবনা আছে।
‘চলো চলো ঢাকা চলো’ সিডি: মহাসমাবেশের থিম সং ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ শীর্ষক একটি সিডির মোড়ক উন্মোচন করেছেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে মোড়ক উন্মোচনের পর তিনি কয়েকটি গানও শোনেন। জাসাস-এর উদ্যোগে তৈরি এ সিডির গানগুলো লিখেছেন দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ কিসলু। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মনির খান, রিজিয়া পারভিন, হাসান চৌধুরী, বাদশা বুলবুল ও জামাল উদ্দীন নাসির। সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গানের গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ: বিরোধীদলের ‘ঢাকা চলো’ মহাসমাবেশে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে পেশাজীবীদের। এ জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া নিজেই বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েকদিন আগে বৈঠক করেছেন ৩০টি সমমনা গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে। সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগম করতে তাদের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জনসংযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিরোধীদলের শীর্ষ এ দুই নেতা। ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন জানান, মহাসমাবেশে পেশাজীবীদের উপস্থিতি হবে লক্ষণীয়।
কর্মী ও প্রস্তুতি সভা: মহাসমাবেশ উপলক্ষে নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগঠনের মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলী রেজা রিপনের সভাপতিত্বে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের সকল বাধা উপেক্ষা করে যে কোন মূল্যে মহাসমাবেশ সফল করতে হবে। সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সদস্য সচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সংগঠনটির শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রস্তুতি সভা নয়াপল্টন হোটেল ভিক্টোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাত্রদল নেতৃত্বের প্রতি জোর প্রস্তুতির তাগিদ দেন। বলেন, ১২ই মার্চ মহাসমাবেশ বাংলাদেশ বাঁচানোর চূড়ান্ত সংগ্রামের সূচনা করবে। আর সে আন্দোলনের সূচনা করবেন খালেদা জিয়া। তবে তিনি অত্যন্ত সংযতভাবে সুশৃঙ্খল উপায়ে ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মহাসমাবেশকে সফল করে তুলতে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। মহানগর উত্তরের সভাপতি কামাল আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমসহ সিনিয়র নেতারা অংশ নেন। জেলা পর্যায়ে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই ও সালনা উপজেলা বিএনপি’র কর্মিসভা দিরাই উপজেলার বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কর্মিসভাটি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে একপর্যায়ে জনসভায় পরিণত হয়। সভায় প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন মহাসমাবেশে বিপুল অংশগ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। মহাসমাবেশ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি’র কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোজাম্মেল হক মুক্তার সভাপতিত্বে গোপীবাগে সূত্রাপুর থানা বিএনপি’র কর্মিসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার। বাড্ডা হোসেন মার্কেটে আবদুল কাদিরের সভাপতিত্বে বাড্ডা থানা বিএনপি’র কর্মিসভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র সহ-প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাছের মো. ইয়াহিয়া। একই কর্মসূচিতে বাড্ডা থানা সাঁতারকুল ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি’র সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি’র ৬৩ নং ওয়ার্ডের কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট