Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

২০১৬ সালে আয়োডিন ঘাটতিমুক্ত হবে বাংলাদেশ

ঢাকা, ৪ মার্চ: ২০১৬ সালে দেশের শতভাগ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় আসবে। ঘাটতিমুক্ত হবে বাংলাদেশ। জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হয়তো মিলবে আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এসব স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই ঘটবে। এমনটি আশা করছেন, ‘সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ (সিআইডিডি) প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

তিন দশক আগেও আয়োডিন ঘাটতি সম্পর্কে এ দেশের মানুষ সচেতন ছিল না। ফলে আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগের বিস্তার ঘটে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর ও জামালপুর জেলায় গলগণ্ডের প্রকোপ ছিল বেশি।

আশির দশকে এ রোগের শিকার হতো ৪৫ শতাংশ মানুষ। শুধু গলগণ্ডই নয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়- আয়োডিন ঘাটতিজনিত পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুর দৈহিক, মানসিক ও মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং গর্ভাবস্থায় শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার ১৯৮৯ সালে ‘আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করে। এই আইনে দেশে আয়োডিনবিহীন ভোজ্য লবণের উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণের পর্যায়ে ভোজ্য লবণে আয়োডিনের মাত্রা ১৫-২০ পিপিএম থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।

জানা গেছে, আইন প্রণীত হওয়ার পরও মানুষের মধ্যে আয়োডিনয্ক্তু লবণ ব্যবহারে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় সর্বস্তরের মানুষ ও লবণের মিল মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন) ১৯৯৩ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের নামই ‘সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ (সিআইডিডি) প্রকল্প’।

ইউনিসেফ’র সহায়তায় এই প্রকল্প চলছে প্রায় ২০ বছর ধরে। এ প্রকল্পের দু’টি পর্যায় (১৯৯৩ থেকে জুন ২০১১) শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে তৃতীয় পর্যায়ের (জুলাই ২০১১-জুন, ২০১৬) কার্যক্রম।

সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক আবু তাহের খান জানান, এ পর্যায়ে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় আসবে। আর এ সময়ে পরিমিত পরিমাণ আয়োডিন মিশ্রণ নিশ্চিত করা হবে ৯০ শতাংশ লবণে।

তিনি জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিসেফ’র সহায়তায় দেশের আটটি লবণ জোনে ২৬৭টি সল্ট আয়োডাইজেশন প্লান্ট (এসআইপি) বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এসব কারখানায় আগে বিনামূল্যে আয়োডিন সরবরাহ করা হতো। এখন তা ভর্তুকি মূল্যে দেয়া হচ্ছে।

বিসিক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিসিকের এই প্রকল্প গত ২০ বছর ধরে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৯৩ সালে দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়োডিন ঘাটতির হার ছিল ৬৮.৯৪ শতাংশ। যা এখন ৩৩.৮০ শতাংশে নেমে এসেছে। আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গলগণ্ড রোগের প্রকোপ ছিল। এখন আর তা দৃশ্যমান নয়।”

বিসিকের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ধাপে ধাপে। এ বিষয়টি প্রকল্পে শ্লোগানের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে উঠে।”

তিনি জানান, উদ্বুদ্ধকরণের প্রথম পর্যায়ে আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলে গলগণ্ড রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায় এমন বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। পরে শ্লোগান হয় ‘যদি সুস্থ থাকতে চান- আয়োডিনযুক্ত লবণ খান।’ আর বর্তমানে শ্লোগান হচ্ছে- ‘বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে চাই- আয়োডিনযুক্ত লবণ খাই।’

জানা গেছে, দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের ওপর ২০০৫ সালে ইউনিসেফ একটি সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়, বাংলাদেশে ৮৪ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ ব্যবহার করে। বর্তমানে এর পরিমাণ আরো বেশি হবে বলে ধারণা করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, ইউনিসেফ এ-ব্যাপারে আরেকটি সমীক্ষা চালাচ্ছে, যার চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে শিগগির।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে আয়োডিন সহায়তা করে। তাই মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ ব্যবহারের বিকল্প নেই।

এদিকে লবণে যথাযথভাবে আয়োডিন মিশ্রিত হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন আইসিডিডিআরবি’র (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র) পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা কেন্দ্রের পরিচালক তাহমিদ আহমেদ। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিসিকের এক নীতি নির্ধারণী আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “যথাযথভাবে আয়োডিনযুক্ত করা হয়েছে এমন লবণ ব্যবহার করে ৫০ শতাংশ মানুষ।” তবে তিনি এ-ও বলেন, “১৯৯০ দশকের শুরুতে ৪৫ শতাংশ মানুষ গলগণ্ড রোগের শিকার হতো, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশে। লবণের সঙ্গে যথাযথভাবে আয়োডিন যুক্ত করা হচ্ছে কি-না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।”

সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের পরিচালক আবু তাহের খান বলেন, “আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের সমীক্ষাটি ইউনিসেফ করেছিল ২০০৫ সালে। ওই সমীক্ষায় বলা হয়, ৮৪ শতাংশ পরিবার এ লবণ ব্যবহার করে। বর্তমানে এই হার আরো বেড়েছে। এ ব্যাপারে বর্তমানে যে সমীক্ষা চলছে তাতে সার্বিক বিষয় আরো স্পষ্ট হবে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশ থেকে আয়োডিন ঘাটতি দূর করার বিষয়টি আমরা কমিটমেন্ট হিসেবে নিয়েছি। যাতে ২০১৬ সালে আমরা বলতে পারি, আমাদের দেশ আয়োডিন ঘাটতিমুক্ত দেশ। এতে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলবে।
লবণে যাতে সঠিক মাত্রার (১৫-২০ পিপিএম) আয়োডিন ব্যবহার করা হয় তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ ব্যাপারে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে।”

গণবিজ্ঞপ্তিতে আয়োডিনবিহীন ও অপরিমিত মাত্রার ভোজ্য লবণের উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহারের মত বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সচেতন মানুষেরা মনে করেন, আয়োডিনের মাত্রা সঠিক রাখার ব্যাপারে লবণের মিলগুলোকে কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সূত্র: বাসস

বার্তা২4/জবা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


5 Responses to ২০১৬ সালে আয়োডিন ঘাটতিমুক্ত হবে বাংলাদেশ

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 2:31 am

    Superb publish admin thank you. I discovered what i was in search of right here. I will review entire of posts in such a day

  2. Genclik Platformu

    March 14, 2012 at 3:51 am

    Hello admin beneficial publish a lot thanks liked this website actually significantly

  3. escort ilanlari

    March 14, 2012 at 4:45 am

    I needed for this web site post admin seriously thanks i will search your up coming sharings i bookmarked your blog site

  4. su arıtma cihazı

    March 14, 2012 at 11:01 am

    i cant get how it is possible to reveal like this amazing posts admin much thanks

  5. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 4:13 pm

    I used to be searching for this fantastic sharing admin a lot thanks and also have great blogging bye