Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হায় হায় কোম্পানি

অন্তত ৫শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এনএমএন ফাউন্ডেশন নামের একটি অনুমোদনহীন বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। গতকাল সংস্থার মগবাজারের কার্যালয়ে গিয়ে আমানতকারীরা দেখতে পান কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পালিয়ে গেছেন। বেশ কয়েকটি সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করছিল সংস্থাটি। তারা জমাকৃত আমানতের ওপর ৬ থেকে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর ৬০৪ বড় মগবাজারের একটি ৫ তলা ভবনের ৪র্থ তলায় সংস্থাটির কার্যালয়। সংস্থাটির বিভিন্ন পোস্টারে বলা হয়েছে, এটি একটি সেচ্ছাসেবী মানব উন্নয়ন সংগঠন। প্রতিদিনের মতো গতকাল টাকা জমা ও তোলার জন্য এনএমএন ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যান গ্রাহকরা। সেখানে গিয়ে দেখেন কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছে। সেখানে একটি নোটিশ ঝোলানো। তাতে লেখা রয়েছে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হানিফের মৃত্যুর কারণে কোম্পানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় নোটিশটি কখন ঝোলানো হয়েছে তা জানাতে পারেননি আমানতকারীরা। তবে নোটিশে ৫ই মার্চের তারিখ দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফের মৃত্যুর কারণে প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। পরবর্তী কার্যক্রম পত্রিকা মারফত জানানো হবে। কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ’ আমানতকারী বড় মগবাজারে সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে ছুটে আসেন। বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা কয়েকদফা মিছিল করে। এ সময় রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রতারিতদের অভিযোগ শোনে। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেয় পুলিশ। রমনা থানার এসআই শামীম আহমেদ বলেন, এখানে বিক্ষোভ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমরা এসেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ করেনি। অনেকদিন ধরেই এ প্রতিষ্ঠানটি চলছে বলে আমানতকারীরা আমাদের জানিয়েছেন। তারা থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শ’ শ’ আমানতকারীর জটলা। আমানতকারীদের বেশির ভাগই নারী এবং নিম্নআয়ের মানুষ। হালিমা নামের এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, আমি এখানে ১০ বছর ধরে টাকা জমা রেখে আসছি। কয়েকদিন আগে শুনেছি কোম্পানির মালিক হানিফ মারা গেছেন। কোম্পানি চালাচ্ছেন তার ভাতিজা তুহিন। এরপর আসব আসি করেও আর আসতে পারিনি। আজ ২৫ হাজার টাকা উঠাতে এসেছিলাম। এসে দেখি কোম্পানির অফিস বন্ধ। সংস্থাটি গ্রাহক আকৃষ্টের জন্য কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে নানা বিজ্ঞাপন লাগিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে একটি দ্বিগুণ বৃদ্ধি প্রকল্প। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হলে ৩ বছর পর জমাকৃত অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দেয়ার প্রলোভন দেয়া হয়েছে। এছাড়া আছে ৫ বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানত প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী মাসিক ২শ’ টাকা জমা রাখলে ৫ বছর পর দেয়া হবে ১৬ হাজার ৮ শ’ টাকা। মাসিক ৫ হাজার টাকা করে জমা রাখতে ৫ বছর পর দেয়া হবে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। গতকাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সব আমানতকারীকে যোগাযোগের জন্য যে নম্বর দেয়া হয়েছিল (০১১৯৯০৬৬৮৬০) তা বন্ধ পাওয়া যায়। হঠাৎ করে সবগুলো নম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া ও কার্যালয়ে তালা ঝোলানো দেখে শ’ শ’ আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা সাংবাদিকদের কাছে সহায়তা চান। আমানতকারীরা জানিয়েছেন, আবু হানিফ সাহেব বেঁচে থাকতে টাকা-পয়সা নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। ভালভাবেই জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হতো। গ্রাহকরা জানান, নানা কোম্পানি নানারকম সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে দৈনিক ২০-৩০ টাকা জমার সঞ্চয় প্রকল্প ছিল। আবার ২০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকার স্থায়ী আমানত প্রকল্পও ছিল। সুবিধাজনক হওয়ায় অনেকে দৈনিক ২০-৩০ টাকা করেও জমা রাখতেন আবারও ২০-৫০ হাজার টাকাও জমা রাখতেন। ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে অসহায় আমানতকারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই তাদের কাছে থাকা অর্থ জমার প্রমাণপত্র দেখান। সব গ্রাহকের কাছেই দেখা যায় আমানতের চুক্তিপত্র। বিভিন্ন মূল্যের স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি আমানত সংগ্রহ করেছে। সিএনজি চালক সরওয়ার বলেন, এক বছর ধরে কোম্পানির ডিপিএসে ২৫ হাজার টাকা জমা করেছি। আরেক সিএনজি চালক খলিল বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। এরমধ্যে ৫০ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিট ছিল। আসিয়া বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, আমরা কয়েক ভাই বোন মিলে ৮ লাখ টাকা জমা করেছিলাম কোম্পানিতে। ২০০, ৫০০ করে কয়েকটি সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে এটা জমা করা করেছি। নাসিমা নামের আরেক গৃহবধূ জানান, তার ২ লাখ টাকা জমা আছে। তিনি বলেন, কোম্পানির মালিক হানিফ মারা গেছে তা আমরা জানি না। খাদিজা, আনিকা, সালমা ও তোতা মিয়া নামের কয়েকজন আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমার টাকা নিয়ে আসতো। গার্মেন্টস কর্মী পারুল বলেন, ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে আমার ৪০ হাজার টাকা জমা আছে। কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে লাভ পেতাম। কিন্তু সে টাকাও আমি কোম্পানিতে জমা করেছি। অপু নামের এক স্কুলছাত্র বলে, দৈনিক ২০, ৩০ টাকা করে ২০ হাজার টাকা জমা করেছিল। হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বাসাবাড়ির গৃহকর্মী মাহমুদা। তিনি তার হাত দেখিয়ে বলেন, লোকের বাড়িতে কাজ করতে করতে আমার হাতে ঘা হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে যে বেতন পেতাম তার সবই এ কোম্পানিতে জমা রাখতাম। আমার আড়াই লাখ টাকা জমা হয়েছিল। গত ১০ বছর ধরে এ টাকা জমা করেছি। গার্মেন্টস কর্মী ঝুমা বলেন, তিনি ১০ হাজার টাকা জমা করেছেন। কলি নামের আরেক গার্মেন্টস কর্মী বলেন তার জমার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা। জরিনা নামের এক গৃহবধূ বলেন, তার জমা ৮২ হাজার টাকা। তিল তিল করে এ টাকা তিনি জমা করেছেন। সালাম নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন তার জমা ছিল ৮ লাখ টাকা। একটি বিশুদ্ধ পানীয় উৎপাদন কোম্পানির নিরাপত্তারক্ষীর স্ত্রী আঁখি বলেন, তিনি অনেক কষ্ট করে ৪০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। বিএসএমএমইউ’র পরিচ্ছন্নকর্মী সাহানা বেগম বলেন, তিনি তার বেতনের পুরো টাকাই এখানে জমা করতেন। তার ৭ লাখ টাকা জমা হয়েছিল। ৩ বছর ধরে এ কোম্পানিতে টাকা জমা দিচ্ছিলেন তিনি। যোগাযোগ করা হলে রমনা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, আমরা প্রতারিত আমানতকারীদের লিখিতভাবে অভিযোগ করতে বলেছি। তাদের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যারা আমানত সংগ্রহ করছিল তাদের খোঁজ চলছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


5 Responses to ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হায় হায় কোম্পানি

  1. imran

    March 4, 2012 at 7:11 am

    a vabe dasteny o ki vagbe ,uttor ta karo jana thakle janaben.

  2. Alok Dey

    March 4, 2012 at 11:08 am

    Bangladesh Cyber Armyr এখন কিছু Bangladeshi website hack করা দরকার যেমনঃ Dolancer, Skylancers, Adssourcing, Skywalkerltd, microclicker etc… কারন এই সব কোম্পানী মানুষকে নানা ভাবে প্রতারিতু করছে………

  3. Sanaullah Sanu

    March 4, 2012 at 11:22 am

    Destiny sara r kono jayga apnara khuje passen na taina??
    Destiny, Dolancer, Neway…… eder eysob business er raw material holo manusher lov. Amra nijeder lov controll korte na parle life time e eysob cheater der kase matha namaya e rakhte hobe.

    Apni jodi sikkhito hoya thaken tahole nijer lov ( লোভ ) controll e rakhun. Apnar lov kore oidike pa baraya fese gele arekjon ke join koraya or khoti kore nijer lov pusaya nissen. C… C… c..
    eto hinomonosko hoye manusher sonaje thaken kmne??
    Nijer lov controll e rakhte na prle Destiny, Neway, Dolancer keno aro o oneek company apnar pase darabe apnar jihba boro korar jonno.

    Life e Success eto easy na. Hardwork korun… & Seta obossoy honest way te korun.
    Mind It Guys.

  4. ABDUL MALEK RANA

    March 4, 2012 at 4:48 pm

    Govt. should take necessary steps to stop this type of company and bring under punishment as soon as possible.

  5. Kh-shahalam swapon

    March 6, 2012 at 6:47 pm

    Destiny holo (bd) r cancer sara (bd) te sorie porese ..jati ke sotorko hote hobe..akhoni..