Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

১২ মার্চ বাংলাদেশকে রক্ষার আন্দোলন: মির্জা আলমগীর

ঢাকা, ৩ মার্চ: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “১২ মার্চে যুদ্ধের সূচনা হবে। ঢাকা চলো আহবান কোনো সাধারণ আহবান নয়। এটা বাংলাদেশকে রক্ষা করার আহবান। আমি মনে করি এলডিপি দেশপ্রেমিক দল। আপনারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।”

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এলডিপি’র জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
আগামী ১২ মার্চ মহাসমাবেশ সফল করতে এলডিপি এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেদোয়ান আহমেদ।
আরো বক্তব্য দেন এলডিপির মহাসচিব অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দীদার বখত, মামদুদুর রহমান, এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
মির্জা আলমগীর বলেন, “১২ তারিখের মহাসমাবেশের প্রয়োজন ছিল না। ঢাকার রাজপথে সমবেত হয়ে দাবি দাওয়া তুলে ধরার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিলেন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, দিন বদল, দশ টাকায় চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ আশাহত হয়েছে। এখন তারা প্রাণ খুলে গান গাইতে চায়, ‘আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না’।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হত্যা খুন রক্ত ছাড়া কিছু বোঝেন না। এজন্যই তিনি জেনোসাইডের কথা বলেছেন। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর এটা কেন মনে হলো জানি না। তবে বিএনপি কখনোই জেনোসাইডে বিশ্বাস করে না।”
তিনি আলমগীর বলেন, “৭২-৭৫ সালে দেশে সবচেয়ে বড় দুঃশাসন ছিল। যখন যারা আওয়ামী লীগের দুশাসনের প্রতিবাদ করেছে তাদের গুম, হত্যা ও জেলে আটক করা হয়েছে। দেশকে বিভক্ত করে হানাহানি মারামারির দেশে পরিণত করেছিল। ৪০ হাজার কিশোর-তরুণকে হত্যা করেছে।”
তিনি বলেন, “গত তিন বছরে হাজার হাজার দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। নুরুল ইসলামের হত্যাকারীকে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে মাফ করিয়ে নিয়েছে।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, “শেখ হাসিনা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা দিনের পর দিন হরতাল করেছিল আজকে কোন কারণে সেই বিধান সংবিধান সংবিধান থেকে তুলে দিলেন? কারণ একটাই, আপনি জানেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আর নির্বাচিত হতে পারবেন না। আপনার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন পূরণ হবে না।”
তিনি বলেন, “৭২-৭৫ সালেও আপনারা জনগণকে কথা বলতে দিতেন না। সাংবাদিকদের লিখতে দিতেন না। সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন লেবাস পরিবর্তন করেছেন। গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে সাংবাদিকদের গলা টিপে ধরেছেন। এমনকি তাদের হত্যা পর্যন্ত করছেন। আমরা এর বিচার চাইলে বলেন, কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা বলছি।”
মির্জা বলেন, “সরকারের সমালোচনা করবো, সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো এর জন্য যদি হাজার বার আমাদের জেলে যেতে হয় তাও যাবো।”
তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিকে অনেক অপমান করেছেন। আজ আবার তাচ্ছিল্য করার জন্য বললেন, তাকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বানাতে। আমরা বুঝি আপনি ইউনূসকে নিয়ে সমস্যায় আছেন।”
মির্জা আলমগীর বলেন, “অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গার্মেন্ট শিল্প বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। টেক্সটাইল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে নতুন শিল্প না হতে পারে সেজন্য কৃত্রিম গ্যাস সংকটের সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসন মুখ থুবরে পড়েছে। ৮৮৫ সিনিয়র কর্মকর্তাকে প্রমোশন দেয়া হয়নি। চার শতাধিক কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিভিন্ন বিবৃতি দিয়ে সেনাবাহিনীকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায়। দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। জিয়াউর রহমানের মতো আমরাও সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাবো।”
এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “আমরা বিএনপি’র সহযোগি নই, সহযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি আমাদের কী খবর করবেন। আপনার খবর নিয়েই টানাটানি লেগে যাবে।”
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব সাহাদাৎ হোসেন সেলিম।
এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ দেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
বার্তা২৪/এমএইচ/জবা

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট