Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাধা দিলে জখম, লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব, ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে একের পর এক ডাকাতি

মহিউদ্দীন জুয়েল, চট্টগ্রাম থেকে: ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে একের পর এক ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। দেশের অন্যতম আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণ ক্রমেই হয়ে উঠছে অনিরাপদ। ডাকাতদলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সব যাত্রীরা। ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রতিমাসেই তাদের কাছ থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকা-পয়সা। বাধা দিলে তাদের জখম করতে দেরি করছে না ডাকাত সদস্যরা।
এ ব্যাপারে প্রশাসন থেকে নানা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু সব উদ্যোগ আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালন কিছুতেই ডাকাতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে ক্ষোভ অনেক যাত্রীর।
চট্টগ্রাম রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপসহ নানা কৌশলে দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেনকে থামিয়েছে ২৪ বার। এর মধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১১ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যাত্রীরা। ডাকাতদের কবলে পড়তে হয়েছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীকেও। বাঁচতে গিয়ে চলন্ত অবস্থায় নিচে পড়ে এক যাত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতের ট্রেনে ঘটেছে আবারও ডাকাতির ঘটনা। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছাড়ে চিটাগাং মেইল। এ ট্রেনে আগে থেকে যাত্রী বেশে অবস্থান করছিল একদল ডাকাত সদস্য। ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডাকাত দল রেলের কর্মকর্তা সেজে একটি বগিতে টিকিট চেক করার নামে ডাকাতি শুরু করে। এতে বাধা দিতে এগিয়ে আসলে দু’জন যাত্রীকে গুরুতরভাবে জখম করা হয়।
এই মেইল ট্রেনের ২২৭ নম্বর কোচের ৫ ও ৬ নম্বর কূপের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৫-১০ জনের একটি শক্তিাশালী গ্রুপ রাত ২টার সময় নরসিংদী স্টেশন ছেড়ে আসার পর যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। তারা কার কাছে কি আছে তা দিয়ে দিতে বলে। অন্যথায় খুন করে ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। ডাকাত সদস্যদের কয়েকজন এই সময়  ওই কোচের নিরাপত্তা কর্মীকে বেঁধে ফেলে। পরে কুমিল্লার দাউদকান্দি স্টেশনের কাছাকাছি এসে দ্রুত নেমে যায়। নেমে যাওয়ার আগে তারা ২২৭ নম্বর কোচের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর কূপে ডাকাতি করে। পরে সকালে ট্রেনটি চট্টগ্রাম পৌঁছলে ওই বগির বাথরুম থেকে নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের কথা জানান। তিনি যাত্রীদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘গভীর রাতে কেউ যদি টিকিট চেক করার জন্য আসে তাহলে যাত্রীরা যেন কখনোই স্লিপার কোচের দরজা না খোলেন। বিশেষ করে রাত ১১টার পর থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত। কেননা, এ সময়ের মধ্যে মেইল ট্রেনে টিকিট চেক করার নিয়ম নেই।’
নিয়মিত যাতায়াতকারী এমন কয়েকজন যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে কুমিল্লা ও আখাউড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়াতে ডাকাতদল এখানে বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলে আখাউড়া-গঙ্গাসাগর এলাকার মধ্যবর্তী এলাকায় ট্রেনের ইঞ্জিন কক্ষে ঢুকে চালক ও সহকারীকে ছুরিকাহত করে ডাকাতির দু’টি ঘটনা ঘটে।
আর ডাকাতি সংঘটিত করার আগে সন্ত্রাসীরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। কখনও পাথর নিক্ষেপ করে বা এলার্ম চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়। এক বগি থেকে অন্য বগিতে বাতাস সংযোগের পাইপ (হোস পাইপ) খুলে ফেলা, ইঞ্জিন কক্ষে ঢুকে চালক ও সহকারী চালককে জিম্মি করেও ঘটছে ডাকাতির অনেক ঘটনা।
তবে এসব ঘটনার বেশির ভাগই দায়িত্ব এড়াতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘দুষ্কৃতকারী কর্তৃক পাথর নিক্ষেপ’ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ফলে বরাবরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে একের পর এক ডাকাতি বেড়েই চলেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট