Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্বজনদের দাবি, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সবই জানে পুলিশ

নূরুজ্জামান: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সবই জানে পুলিশ। তারা সবকিছুই উদ্ধার করেছে। প্রভাবশালী মহলের চাপে সত্য প্রকাশ করতে পারছে না। হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর  এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাগর সরওয়ারের ঘনিষ্ঠজনরা। তদন্ত নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন মেহেরুন রুনির স্বজনরাও। গতকাল নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ারের পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড ও মেহেরুন রুনির মায়ের বাসা  পশ্চিম রাজাবাাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুই সাংবাদিকের দুই মা শয্যাশায়ী। ছেলে ও মেয়ে হারানোর শোকের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নানা আশঙ্কা। তারা বলেন, আইওয়াশের জন্য আসামি ধরা হবে। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে বিচার থেকে সহজেই খালাস পাবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, খুনিদের বিচার দেখে যাওয়ার জন্যই আমি বেঁচে আছি। ধৈর্য ধরে আছি। বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘আজ কত দিন পেরিয়ে গেল। ছেলে আমার একবারও ফোন করেনি।’ বলেনি, ‘মা, তুমি কেমন
আছো? একবারও জিজ্ঞেস করেনি, মা তুমি খেয়েছো? তিনি বলেন, ব্রাশফায়ার করলে যেমন ছিদ্র হয়ে যায়, সাগরের শরীর তেমনি করে ছিন্নভিন্ন করে গেছে ওরা। এ সময় তিনি দেখাতে থাকেন সাগর-রুনির বিয়ের ছবি ও সাগরের লেখা বইগুলো। একপর্যায়ে বুকে চেপে ধরে বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে লেখকও ছিল।’  লিখেছিল ‘শেষ বিকালের ছেলে’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী, ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’, ‘জাদুঘরের ভূতগুলো’, ও ‘ছুঁয়ে জোছনার ছায়া’। শেষোক্ত বইটি দেখিয়ে বলেন, এটি সাগর দেখে যেতে পারেনি। এসব বইয়ের কথা বলতে বলতেই তিনি সাগরের নানা স্মৃতিকথা উল্লেখ করেন। বলেন, সাগর আমাকে বলতো, মা তুমি যুদ্ধের গল্প লিখবে। তুমি এত সুন্দর করে বই পড়তে পারো, অবশ্যই গল্প লিখতে পারবে। তিনি আরও বলেন, সাগর যদি অপরাধী হয়, আমি খুনিদের ক্ষমা করে দিব। না হলে বিচার চাই। সাগরকে যতগুলো আঘাত করেছে, সবগুলোই আমার বুকে বিধেছে। রুনিকে যতো কোপ মেরেছে ওর মায়ের বুকে লেগেছে।
যারা মারলো, তারাও তো কোন মায়ের সন্তান! একবারও কি তাদের মায়ের কথা মনে পড়লো না?  আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য স্লিপিং পিল খাওয়ায়। কিন্তু আমার ঘুম আসে না। খেতে পারি না। কিছু গিলতেও পারি না। কথাগুলো তিনি বলছিলেন সাগরের বন্ধু গালিব লস্কর, হিমেল ও মাছরাঙা টেলিভিশনের সহকর্মীসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয়র কাছে। পরম মমতায় জড়িয়ে আতঙ্কিত  কণ্ঠে বলে ওঠেন, ‘বাবারা, তোরাও সাবধানে থাকিস।’ পরক্ষণেই আর্তনাদ করে সাগরকে ডাকতে শুরু করেন।  ‘ও সাগর’, ‘ও সাগর’ হিমেল এসেছে, গালিব এসেছে। তোর বন্ধুরা সবাই আছে। ওরা এখন আমার চারপাশে। তুই কি মায়ের ডাক শুনতে পাস না? মাকে সান্ত্বনা দেন গালিব লস্কর। বলেন মন ভুলানো কথা। ‘সাগর শুধু একা না। আমরা অনেক সাগর আছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, তার ঘণ্টা কি শেষ হয়নি? নাকি ৪৮ দিনে এক ঘণ্টা? এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি। হয়তো আইওয়াশের কারণে আসামি ধরা হবে। সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে ছেড়েও দেয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে এমন কেউ জড়িত, যার ধারে কাছেও যেতে পারছে না পুলিশ। সবকিছু জেনেও না জানার ভান করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। সাগরের ভগ্নিপতি শরীফ বলেন, সরকারের কাছে জানতে চাই, কারা হত্যা করেছে?  হাইকোর্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে বিচার ত্বরান্বিত করা যাবে না। এটি মোটেও ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমেরিকা প্রবাসী সাগরের বন্ধু হিমেল বলেন, নিউ ইয়র্ক থাকাকালে বন্ধু সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর পাই। তখনই মনে হয়েছে এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হবে না। কারণ  এ পর্যন্ত দেশে যতোগুলো বড় বড় ঘটনা ঘটেছে তার একটিরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি।  অসহায়ের মতো এখন শুধু আল্লাহর কাছেই বিচার চাই। তাদের এসব কথা শুনে বসে থাকতে পারছিলেন না সাগরের মা। অজানা আতঙ্ক ও কষ্টে কাতর তিনি বিছানায় গড়িয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্ষেপ করে বলেন, কত কিছু স্বপ্নে দেখি। কিন্তু সাগরের হত্যাকাণ্ড কেন স্বপ্নে দেখলাম না?
একই আক্ষেপ ও হতাশা ভর করেছে মেহেরুন রুনির পরিবারেও। পশ্চিম রাজাবাজারের ৬০/১১ নম্বর বাড়িতে রুনিকে হারিয়ে মা নুরুন নাহার মির্জা শয্যাশায়ী। রুনির ভাই নওশেদ আলম রোমান বলেন, তদন্ত কর্মকাণ্ডে আমরা চরম হতাশ। গত ৪ দিন ধরে বিষয়টি আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে।
মেঘ-এর আতঙ্ক কাটেনি: তখন বিকাল ৪টা। পশ্চিম রাজাবাজারের ৬০/১১ নম্বর বাড়ির নিচ তলায় মামা নওশেদ আলমের হাত ধরে নেমেছে নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে মাহী সারওয়ার মেঘ। চোখে ছিল তার কালো রঙের সানগ্লাস। দাদিকে দেখার জন্য পুলিশ পাহারায় গেট থেকে বের হচ্ছিল। হঠাৎ ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরার ফ্লাশ জ্বলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে আঁৎকে ওঠে মেঘ। ভয়ে জড়িয়ে ধরে মামাকে। কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর আদর করতে আসে মামার পরিচিত এক সহকর্মী। এতেও বিরক্ত হয়ে ওঠে। নওশেদ আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই মেঘ-এর মানসিক অবস্থা ভাল নেই। অপরিচিত কেউ এগিয়ে এলেই ভীতি কাজ করে তার মনে। পরে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই ইসরাইলের পাহারায় নওশেদ আলম ও তার একজন সহকর্মী মেঘকে নিয়ে দ্রুত সাদা রঙের প্রাইভেটাকারে (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৩০০৭৩) নবাবপুর ২নং রোডে সাগর সরওয়ারের বাসায় যাত্রা শুরু করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to স্বজনদের দাবি, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সবই জানে পুলিশ

  1. Digonto

    March 4, 2012 at 1:00 am

    That’s our shara khatun and her police wonderful try to find out the murderer now 20 days already gone how long time we believe in police……………

  2. ahmed azim

    March 4, 2012 at 1:06 am

    jara a kaj korase tara manush noy tara omanush,