Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাড়তি টাকা ফেরতের নির্দেশ ২০ স্কুলকে

সোলায়মান তুষার: সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অর্থ আদায়কারী কমপক্ষে ২০টি স্কুলকে বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সব ক’টি প্রতিষ্ঠানই রাজধানীর। বাড়তি অর্থ ফেরত না দিলে স্কুলের এমপিও স্থগিত, শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন বাতিল, বিভিন্ন পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাড়তি অর্থ আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এসব সুপারিশ করে ব্যবস্থা নিতে  শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে। বৃহস্পতিবার ওই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন। তদন্ত কমিটি রাজধানীর প্রায় ৪০টি স্কুল পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি স্কুলে ভর্তিতে বাড়তি অর্থ আদায় ও নানা অনিয়ম পেয়েছে। বাড়তি অর্থ ফেরতের দু’টি উপায়ও বলে দিয়েছে কমিটি। প্রথমত, সরাসরি অভিভাবকদের কাছে বাড়তি টাকা ফেরত। অথবা বাড়তি টাকা শিক্ষার্থীদের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় (কনভার্ট) করা। এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া বাড়তি অর্থ ফেরত দিয়েছিল। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে গলাকাটা ফি নেয়া হয়েছে রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি ফি ছাড়াও ডোনেশনের নামে নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। ওই টাকা নেয়া হলেও দেয়া হয়নি কোন রসিদ। এছাড়া ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে বাংলা ভার্সনে ভর্তির জন্য ১২ হাজার ২০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আদায় করা হয় ১৪ হাজার ১০০ টাকা। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি বাবদ ৬৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। আইডিয়াল স্কুলের মূল শাখায় বাংলা মাধ্যমে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, কলোনি শাখায় ৬৭০০ টাকা এবং মুগদা শাখায় ৩৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী ক্যাম্পাসে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ১২ হাজার ১০০ টাকা, উইল্‌স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে ৯ হাজার টাকা, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৮৮০ টাকা, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২০০ টাকা, মতিঝিল মডেলে শ্রেণীভেদে প্রাথমিকে ১২ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাড়তি আদায়কারী সব প্রতিষ্ঠানকেই অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীর নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ই ডিসেম্বর নীতিমালা জারি করে। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, ভর্তির আবেদনের ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে মফস্বল এলাকায় ৫০০ টাকা, উপজেলা সদর এলাকায় ১০০০ টাকা, জেলা সদর এলাকায় ২০০০ টাকা, ঢাকা মেট্রোপলিটন ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০০০ টাকা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০০০ টাকার বেশি নেয়া যাবে না। ভর্তি ফি ও ভর্তি ফরম বাবদ সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি আদায় করলে এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনেক ক্ষেত্রে সরকারি এ নীতিমালাকে তোয়াক্কাই করেনি নামী স্কুলগুলো। এদিকে বাড়তি অর্থ আদায়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ৯ই জানুয়ারি বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ ওই রুল জারি করেন। সূত্র জানায়, বোর্ডের তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন স্কুলে সরজমিন পরিদর্শন করেন। তারা অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন। তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষও বাড়তি অর্থ নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত কমিটি সরজমিনে গিয়ে দেখতে পায় নামী স্কুল সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাজধানীর স্কুলে ভর্তিতে কোনক্রমেই ৫০০০ টাকার বেশি নেয়া যাবে না। মনিপুর স্কুলে বাড়তি অর্থ নেয়া সংক্রান্ত রিপোর্ট করতে গেলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে মনিপুর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে। সার্বিক বিষয় নিয়ে ৪ঠা জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বাড়তি অর্থ আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা না মানলে স্কুলের এমপিও বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল এমনকি তাদের শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয়া বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। সূত্র জানায়, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত রিপোর্ট তৈরি হয়। কমিটি বাড়তি অর্থ নেয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও ভবিষ্যতে যাতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করতে না পারে ওই বিষয়েও সুপারিশ করে। এছাড়া বাড়তি অর্থ ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয়। সূত্র জানায়, কমপক্ষে ২০টি স্কুল রয়েছে যেখানে কোন নিয়মনীতি মানা হয়নি। সরকারি নির্দেশনাকে তারা পাত্তা দেয়নি। তাদের বিষয়ে নির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কেও বক্তব্য রয়েছে রিপোর্টে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে বাড়তি অর্থ আদায়ের প্রমাণ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। কি ধরনের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে। স্কুলগুলো সরকারি নীতিমালা মানতে বাধ্য। তারা বাড়তি টাকা ফেরত দেবে। দিতে না পারলে শিক্ষার্থীদের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবে আর নিয়ম মানবে না তা তো হতে পারে না। তিনি বলেন, কোন স্কুল নিয়ম না মানলে এমপিও স্থগিত, শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন বাতিল ও রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। নিয়ম মানানোর জন্য যা করা দরকার তা সবই করবে সরকার। 

 

নিউজ সোর্স মজমিন

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


4 Responses to বাড়তি টাকা ফেরতের নির্দেশ ২০ স্কুলকে

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 6:47 am

    Truly essential submit admin fantastic a person i bookmarked your world-wide-web site see you in up coming blog put up.

  2. ucuz notebook

    March 14, 2012 at 4:31 am

    I was looking for this excellent sharing admin very much thanks and have nice running a blog bye

  3. sikvar

    March 14, 2012 at 6:10 am

    Superb submit admin thank you. I located what i used to be trying to find here. I’ll review complete of posts with this day

  4. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 2:56 pm

    i cant get how it is possible to share like this incredible posts admin much thanks