Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিপিএল ঘিরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র

নূরুজ্জামান: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ঘিরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। বাংলাদেশে অবস্থানকারী এ চক্রের সদস্যদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী প্রতারকদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দারা জানান, বিপিএলের কয়েকটি ক্রিকেট ম্যাচের গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত জুয়াড়ি পাকিস্তানি নাগরিক সাজিদ খান। দু’দিন রিমান্ডের প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সাজিদ জানায়, তার সঙ্গে আরও একজন পাকিস্তানি জুয়াড়ি ছিল। তারা দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিপিএল উপলক্ষে একসঙ্গেই বাংলাদেশে এসেছে। থেকেছে একই হোটেলে। সে গ্রেপ্তার হওয়ার দু’দিন আগেই ওই জুয়ারি ঢাকা ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন জুয়াড়িদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। গোয়েন্দারা জানান, পাকিস্তানে অবস্থিত প্রিন্স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছে সাজিদ। তবে কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, কিংবা এ লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে চিটাগং কিংস সহ সন্দেহভাজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বর্তমানে সন্দেহভাজন সবাইকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা  স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স লাউঞ্জের পাশ থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মাইনুল তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মিরপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, মিরপুরে  শেরেবাংলা  স্টেডিয়ামে চিটাগং কিংস ও বরিশাল বার্নাসের খেলা চলাকালে সাজিদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিসিবি’র নিরাপত্তা প্রধান কর্নেল এটিএম মেসবাহউদ্দিন সেরনিয়াবাত মিরপুর থানায় তাকে আসামি করে মামলা করেন। গোয়েন্দারা জানান, সাজিদ খানের কাছে চিটাগং কিংসের একজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের  মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপিএল খেলা সংক্রান্তে মোবাইল ফোনে তথ্য দিয়ে প্রতারণাপূর্বক অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চিটাগাং কিংস দলের খেলোয়াড় নাসির জামসেদ আটক সাজিদ খানের বন্ধু। করাচিতে দীর্ঘদিন তারা একই ক্লাবে ক্রিকেট খেলতো। নাসির জামসেদ ও ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের রানা নাভিদের মাধ্যমেই গত রোববার সে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করেছিল। এসময় সে ওই দু’জন খেলোয়াড় ছাড়াও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে। গোয়েন্দারা আরও জানান, বিপিএলের  খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার আর্থিক যোগাযোগাগের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে- ম্যাচ গড়াপটার সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র জড়িত। সাজিদের ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে এখন সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সূত্র জানায়, সাজিদ খানের বাড়ি পাকিস্তানের করাচি শহরের সি-৬৫ নম্বর এম্পায়ার সেন্টার, গুলশান জহুরে। তার পিতার নাম ফরিদ খান। গত ১০ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ১৫ দিনের ভিসা নিয়ে ঢাকায় আসে সে। প্রথমে মতিঝিলের প্যাসিফিক হোটেলে উঠলেও পরে মিরপুরের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেলে ওঠে। সাজিদের মোবাইল ফোন থেকে লাহোরের সিল্ক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর (০০৩২০১১০০০৯২২৬০১) উদ্ধার করা হয়েছে।  গোয়েন্দারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজিদ দাবি করছে, ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি সে কাপড় ব্যবসায়ী। এর বাইরে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার যন্ত্রপাতির ব্যবসা আছে তার। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই সে ঢাকায় এসেছে। গত সোমবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। গোয়েন্দারা জানান, আগে থেকেই সাজিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। ১৮ থেকে ২২শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামে বিপিএলের খেলার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় টার্গেট করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি নকিয়া মোবাইল ফোন, কিছু নগদ টাকা, রুপি, পাকিস্তানি আইডি কার্ড এবং তিনটি ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে। গোয়েন্দারা জানান, এর আগে গত বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দশম আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে সন্দেহভাজন ২৫ জুয়াড়িকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তারা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিমানবন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি  সন্দেহভাজন জুয়াড়িদের এ তালিকা বিসিবি’র কাছে হস্তান্তর করেছিল। দেশের প্রথম বিপিএল উপলক্ষে তারাও গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। ওই জুয়াড়ি চক্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে- অসীম খিতির পাল, অতনু দত্ত, পাপু ভুটানি, চেতন বালরাম চন্দন, বরুণ গান্ধী, অরবিন্দ সিং খোসা, রাজপাল আরোরা, সুনীল পাশসামালাল ভাটিয়া, অরুণ ভাট, রাহুল গুপ্তা ও  সমীর খান্না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to বিপিএল ঘিরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র

  1. M hoque shouvo

    February 29, 2012 at 11:01 am

    Sala Pakistani Kuttar bacchhara eibar Bpl keo kolonkitho korse.oi kutta der Fashi howa uchith