Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাকিবদের ৯ রানে হারিয়ে ফাইনালে ঢাকা

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি: ঢাকা-আফ্রিদি আর আফ্রিদি-ঢাকা, মিলে মিশে একাকার। বিপিএলের মুল আকর্ষণটাই যেন এতোদিন দেখা যায়নি। ঢাকার হয়ে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি মিরপুরের মাঠে নামা আর ঢাকাকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গেই যেন সেই আকর্ষণটা পূর্ণতা পায়।

খুলনাকে ৯ রানে হারিয়ে বুধবার বিপিএলের প্রথম আসরের ফাইনালে বরিশালের প্রতিপক্ষ মাশরাফির ঢাকা। এরফলে বিপিএলের লিগ পর্যায়ের খেলার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল দুটি সেমিফাইনালে হেরে ফাইনালের টিকিট লাভে ব্যর্থ হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ঢাকা ও বরিশাল ফাইনালের জায়গা করে বিপিএলের প্রথম আসরে নিজেদের স্মরণীয় করে রাখলো।

বিপিএলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ঢাকা খেলবে খুলনার বিপক্ষে। ভেন্যুটা ঢাকার নিজস্ব। ঢাকার দর্শকদের মিছিল হবে এটাতো জান কথা। সেই সঙ্গে আফ্রিদি ঢাকার হয়ে খেলবেন। মিরপুরের রাস্তা আর স্টেডিয়ামের মূল ফটকে দাঁড়ানোর উপায় ছিল না।

কী পুলিশ, র‌্যাব, আর্মি, অভিনেতা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা কোনো লেভেলের দর্শকেরই অভাব ছিল না মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে। সবার দৃষ্টি আফ্রিদির দিকে। ১১ বলে ৩টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে আফ্রিদিও মিরপুরের দর্শকদের প্রত্যাশা মেটানোর চেষ্টা করেন।

৬ উইকেটে ১৯১ রানের স্কোর গড়ে ঢাকার হয়ে ব্যাট করেন ৪ পাকিস্তানী আর ২ বাংলাদেশী। নাজিম উদ্দিন ব্যর্থ হলেও আশরাফুল বাংলাদেশের মান রেখেছেন। কারণ আফ্রিদির সঙ্গে ব্যাট করার সময় আশরাফুলের ছক্কার মারার স্টাইল দেখে মুগ্ধ হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন আফ্রিদি। অন্যদিকে হেরে যাবার কারণে সাকিবের হার না মানা ৮৭ রানের ইনিংসটা ব্যর্থ হয়েছে বলতে হবে। খুলনা ৭ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৮২ রান।

টস জিতে ঢাকা প্রথমে ব্যাট করতে নামে। ওপেনার ইমরান নাজিরের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে মাঠে নামেন দুবাই থেকে উড়ে আসা ওয়াইজ জিয়া। যদিও ঢাকার ২১ রানের মাথায় জিয়া (৫) সাকিবের স্পিনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান।

স্কোরে ১ রান যোগ করে ওয়ানডাউনে আসা নাজিম উদ্দিন রান আউটের শিকার হন। পরপর দুই উইকেট পতনে খানিকটা চাপে পড়ে ঢাকা। ইমরান নাজির ও আশরাফুলের ৩য় উইকেটে জুটি ঢাকাকে ৬৩ রান পর্যন্ত টেনে নেয়ার পর ইমরান নাজির (৪১) স্বদেশী মোহাম্মদ হাফিজের বলে গিবসের তালুবন্দী হন।

চাপের মাত্রাটা কিছুটা হলেও বাড়ছিল। কারণ ৮ম ওভার মাত্র শেষ হয়েছে, অথচ ৩ উইকেটের পতন!

সেই চাপ কাটিয়ে তোলার দায়িত্বটা কাধে তুলে নিলেন মিডল অর্ডারে আজহার মাহমুদ এবং মোহাম্মদ আশরাফুল। কাজের কাজটা করে দিলেন আজহার মাহমুদ আর আশরাফুলই।

৯ম ওভার থেকে টানা ১৫.৩ ওভার পর্যন্ত খুলনার সকল আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গেই সামলানের এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। হামাদ আজমের বলে আজহার (৬৫) ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর ক্রিজে আসেন আফ্রিদি। সঙ্গে সঙ্গে পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম ‘আফ্রিদি’ ‘আফ্রিদি’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে।

২০ ওভারে আশরাফুল ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের পথে চিকি শর্টসহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় শট মিরপুরের দর্শকদের উপহার দেন। আর আফ্রিদি ১১ বলে তিনটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

১৯২ রানের টার্গেট, ওভার প্রতি ৯.৬ একেবারে কম নয়। ঢাকার বিপক্ষে সাকিবের খুলনার এই টার্গেট যে কতটা কঠিন তা মাশরাফি আর ইলিয়াস সানী হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

খুলনার ব্যাটসম্যানদের সাজঘরের পথে হাটার উদ্বোধনটা মাশরাফিই করেন। খুলনার দলীয় ৫ রানে হার্শেল গিবসকে (২) মাশরাফি সানীর হাতে ক্যাচে বানালেন। আর ওয়ানডাউনে নামা মোহাম্মদ হাফিজ (২৪) রান আউটের শিকার হন।

চন্দরপল (২৫) বেশ অনেকটা সেট হয়ে ব্যাট করার পর সানীর বলে ওয়াইজ জিয়ার হতে বন্দি হলেন ৭.১ ওভারে। খুলনার জয়ের জন্য বড় ভূমিকা যে দুই ওপেনারের বেশি হবার কথা তারাই সাজঘরে। ঐ ওভারের এক বল পরেই সানীর আক্রমণের শিকার হলেন আগের ম্যাচে ১০৩ রান করা স্মিথ (১)। স্কোর যেখানেরটা সেখানেই স্থির ৫৫-তে।

১০ ওভার শেষে খুলনার স্কোর ৪ উইকেটে ৭৬। ক্রিজে সাকিব আর নাসির। জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬০ বলে ১১৬ রান। হাত খুলে দুই নেই মারার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মাশরাফি, আজহার মাহমুদ, সাঈদ আজমল, শহীদ আফ্রিদি আর ইলিয়াস সানীর আক্রমণে সাকিব-নাসির জুটি শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি। ধীরে ধীরে সেট হয়ে যায় এ দুই ব্যাটসম্যান।

৪ উইকেট হারানো খুলনার মনোবল ভেঙ্গে যাবার কথা। সাকিব-নাসির জুটি দেখেশুনে খেলে রানের গতি বাড়াতে থাকেন। কতটা মারকুটে ছিল সাকিব! ২২ বলেই করেন ৫টি চার আর ২টি ছক্কা দিয়ে ফিফটিই এর বড় প্রমাণ। নাসির তখন ২৩ বলে ২৮ রানে ব্যাট করছেন। ১৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৫৫ থেকে ১৩৪! ঢাকা মানসিক চাপে পড়ে যায়।

আর ঐ সুযোগ লাগাতে চেষ্টা করে খুলনা। পঞ্চম উইকেটের এই জুটি ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। কারণ ২৪ বলে ৫০ রানের টার্গেটের বেশ কাছাকাছি এসে গিয়েছিল খুলনা। কিন্তু কোনো বোলার যখন সাকিব-নাসিরকে থামাতে ব্যর্থ, তখন আফ্রিদি আসল কাজটা করেন এবং ঢাকাকে ম্যাচে ফেরান তিনি। দলের ১৪২ রানে নাসির (৩৫) আফ্রিদিকে সোজা ব্যাটে তুলে মারলে আশরাফুলের তালুবন্দী হন নাসির হোসেন।

১৭ ওভার শেষে খুলনার দরকার ২১ বলে ৪৫ রান। ক্রিজে সাকিব আর হামাদ আজম। কিন্তু হামাদ (১) সাঈম আজমলকে তুলে মেরে আজহার মাহমুদের হাতে ধরা পড়েন।

৫৬ রানে অপরাজিত অধিনায়ক সাকিবের কাধে তখন বিশাল গুরুদায়িত্ব। সঙ্গে পেলেন নাজমুল হোসেন মিলনকে।

১৫৩ রান ৬ উইকেটে, ১৫ বলে ৩৯ দরকার। তখনই বিগ হিট করতে গিয়ে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন মিলন (৫)। খুলনার হারটা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। লোয়ার অর্ডারে এমন কেউ ছিল না যাকে নিয়ে সাকিব (৬৩ রানে অপরাজিত) ঢাকার বিপক্ষে যুদ্ধে জয়ী হতে পারেন। তারপরও বড় বেশি ব্যবধানে হারেনি সাকিবের খুলনা। শেষ ওভারের শেষ দুই বলে আজহার মাহমুদকে পর পর দুই ছক্কা মেরে যেন নিজের উপরই রাগ মেটাচ্ছিলেন সাকিব।

শেষ অবদি খুলনার ইনিংস শেষ হয় ৭ উইকেটে ১৮২ রানে। আর সাকিব আফসোসের সঙ্গে ৪১ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত রইলেন। ছিল তাতে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ঢাকার পাকিস্তানী ক্রিকেটার আজহার মাহমুদ।

২৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৬-৩০টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের প্রথম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং বরিশাল বার্নার্স।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট