Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আপনাদের সময় শেষ, মানুষ এখন তাড়া করবে: খালেদা

লালমনিরহাট, ২৭ ফেব্রুয়ারি: আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “আপনাদের সময় শেষ এখন মানুষ তাড়া করবে। ১২ মার্চ হয় দাবি মানবেন না হয় বিদায় নেবেন। আপনারা কোথায় যাবেন সেই জায়গা ঠিক করুন।”

তিনি বলেন, “দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই সরকারকে বিদায় করা হবে। এই সরকার খুনি সরকার। তাদের হাতে জনগণের রক্ত। তাদের আর সময় দেয়া যায় না।”

সোমবার বিকেলে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই সরকার শুধু মিথ্যা কথা বলে। তারা অতীতেও কখনো লালমনিরহাটের উন্নয়ন করেনি। এবারো করেনি। এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন দুলু মন্ত্রী হওয়ার পর সব উন্নয়ন কাজ হয়েছিল। আওয়ামী লীগ শুধু আমাদের করা কাজের ওপরে ফলক বসায়। নামের ওপরে নাম বসায়। তারা কোনো উন্নয়ন করে না।”

তিনি বলেন, “এই সরকার বিনামূল্যে সার দেয়ার কথা বললেও বিনামূল্যে সার দেয়নি। আমাদের সময়ের ২৬০ টাকার সার এখন এক হাজার ৬০টাকা। কয়েকগুণ বেশি মুল্যে সার বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যুৎ, ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। কৃষকেরা বড় কষ্টের মধ্যে আছে। তারা হতাশ। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, তাই কৃষকদের আগে বাঁচাতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই কৃষককে ভালো রাখা। বিদেশ থেকে আমদানি করা নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে কমমূল্যে সার, কৃষি উপকরণ দেব। কৃষকদের ভালো রাখা হবে।”

তিনি বলেন, “এই সরকার বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। আপনারা চাকরি কি পেয়েছেন? তাহলে সরকারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন না কেন? এই সরকার চাকরি না দিয়ে চাকরি খেয়েছে। ৮৮৫ জনকে ওএসডি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ১০০ শিক্ষককে কোনো কারণ ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। এখন তাদের লোকদের চাকরি পেতে কোনো ইন্টারভিউ লাগে না।”

খালেদা জিয়া বলেন, “তিস্তা নদী, পদ্মা নদী শুকিয়ে গেছে। ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এখন ভারত এক ফোটাও পানি দেয় না। যদি পানি না দেয় তাহলে ট্রানজিট, করিডোর সব বন্ধ করে দিতে হবে। একতরফা কিছু চলতে পারে না। একতরফা বন্ধুত্ব হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত গার্মেন্টস শিল্পের অবস্থা এখন খারাপ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সমস্যার কারণে গত তিন বছরে নতুন কোনো শিল্প কারখানা হয়নি। পুরোনো যে সব গার্মেন্টস শিল্প ছিল তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে সব কারখানা ভারতীয়রা কিনে নিচ্ছে। আমাদের ওষুধ শিল্প খুব ভালো। ৬৪ দেশে ওষুধ রফতানি করতাম। সেই ওষুধ শিল্পের ওপর ভারতীয়দের নজর পড়েছে। তারা নাকি ওষুধ শিল্প কিনে নিবে। এর ফলে এদেশের যারা মালিক ছিল তারা কর্মচারি হয়ে যাবে।”

লালমনিরহাটের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখেন কিভাবে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ১৪ বছরের মেয়ে ফেলানীকে মেরে কাটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল। চাপাইনবাবগঞ্জের একজন নীরিহ মানুষকে কাপড় খুলে নিয়ে কিভাবে নির্যাতন করেছে। আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। স্বাধীন দেশের মানুষকে কিভাবে অন্যদেশ হত্যা করে? সরকার এর কোনো প্রতিবাদ করে না।”

তিনি বলেন, “বিডিআরের ৫৭জন অফিসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। কিছু হলেই বিএনপি জামায়াতকে দায়ী করা হয়।”

তিনি বলেন, এরশাদও বলেছেন এই হত্যার বিচার করতে। সেতো মহাজোটের শরীক একসময় সেনা প্রধান ছিলেন। সে কেন এগিয়ে আসেননি। প্রধানমন্ত্রী হত্যাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। একদিকে অফিসারদের হত্যা করা হয়। অন্যদিকে তাদের শেরাটন থেকে খাবার এনে খাওয়ায়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পদে সব সময় তিনি থাকবেন না।”

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কি নিয়ে এসেছেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিল, তিনি বলেছেন, আশ্বাস পেয়েছেন। সবকিছুতে তারা শুধু আশ্বাস পায়। এর আগে আশ্বাস দিয়েছিল টিপাইমুখ বাঁধ হবে না। এখনতো টিপাইমুখে কাজ চলছে। তিনি আশ্বাস পেয়েছেন বর্ডারে হত্যা হবে না। দেখবেন কয়দিন পর আবার হত্যা শুরু হবে।”

তিনি বলেন, “সাগর-রুনি হত্যার পেছনে কি রহস্য। এখন পর্যন্ত একজন আসামিও ধরতে পারেনি। আসলে ধরা ঠিকই পড়েছে। কিন্তু তারা সরকারের লোক। তাই ধরে পার করে দেয়া হয়েছে। অনেকে বলেন এদের মারার পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। বাসায় কোনো জিনিস হারায়নি। শুধু ল্যাপটপ, আর মোবাইল কেনো হারিয়েছে। কারণ সেই ল্যাপটপে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। যে তথ্য প্রকাশ হলে দেশে ও বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নস্ট হতো। তাই তাদের খুন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করেছি। রোডমার্চে দেখেছেন সারারাত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। সর্বশেষ চট্টগ্রামের রোডমার্চ থেকে ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সরকার মানুষ ভয় বলে তারাও ২৯ জানুয়ারি পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছিল। মানুষের ঢল দেখে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। পরে আমরা একদিন পিছিয়ে ৩০ তারিখে করেছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে চারজনকে হত্যা করেছে।”

তিনি বলেন, “১২ তারিখে কর্মসূচি দেয়া বন্ধ রাখেন। আমরা দেড় মাস আগে কর্মসূচি দিয়েছি। ১২ তারিখে ঢাকার মানুষ ঢাকায় নামবে এবং সারা দেশের মানুষ ঢাকায় যাবে। অশান্তির সৃষ্টি করলে দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। বোমা গুলি নয় জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি আমারা। ওরা সেটাতে বিশ্বাস করে না। মানুষের জলাতঙ্ক হয়। পানি দেখলে ভয় পায়। আর এই সরকারের হয়েছে জনআতঙ্ক। তারা মানুষ দেখলে ভয় পায়। আমরা জনগণকে নিয়ে এদের বিদায় করবো।”

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, “আপনারা কি ঢাকা যাবেন? তখন সবাই হাত তুলে সায় দেয়। তখন খালেদা জিয়া বলেন, ইনশাল্লাহ জনগণকে দিয়েই এই সরকারকে বিদায় করবো।”

খালেদা জিয়া বলেন, “আগামী দিনে ক্ষমতায় আসলে এই লালমনিরহাট আর অবহেলিত থাকবে না। লালমনিরহাটের সব উন্নয়ন হবে। আজকে লালমনিরহাট যেভাবে সাজানো হয়েছে আমি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।”

তিনি বলেন, “এই সরকার শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতুর টাকা লুট করেছে। তাই এই সরকার একটা লুটেরা সরকার। সেজন্য তাদের আর সময় দেয়া যায় না। সরকারের টপ টু বটম সবাই শেয়ারবাজার থেকে লুট করেছে।”

তিনি বলেন, “আমি ঢাকার মহাসমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো। কর্মসূচি দেব। তাই সবাইকে ঢাকায় আসার আহবান জানান তিনি।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় নি। তাই তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। যদি নির্বাচন না হয় তাহলেও আওয়ামী লীগকে বিদায় নিতে হবে।”

সরকারকে তিনি বলেন, “মনে করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না আর নির্বাচন হবে। আপনারা ক্ষমতায় বসে থাকবেন তা হবে না।”

ইভিএম এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নিজেদের অধীনে নির্বাচনেও তারা ভয় পায়। কারণ জনগণ আর তাদের ভোট দেবে না। সেজন্য ইভিএম মেশিনে ভোট করে কারচুপি করতে চায়।”

তিনি বলেন, “ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “গুম হত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে এই সরকারের নামে মামলা হয়েছে। আপনারা গুম হত্যা বন্ধ করুন না হয় আরো মামলা হবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “আপনাদের সময় শেষ। এখন মানুষ তাড়া করবে। মন্ত্রী এমপি’রা এলাকায় গেলে জনগণের তারা খেয়ে আসতে হবে। এসব আপনারাই করেছেন। এজন্য আপনারাই দায়ী। মানুষের জমি জায়গা দখল করছেন, হিন্দুদের জমি দখল করছেন। এসব আপনাদের পুরোনো অভ্যাস। আবার শুরু করেছেন। আমি সকল ধর্মের মানুষকে বলবো, আসুন আমরা সবাই মিলে এই দেশকে গড়ে তুলি।”

এর আগে বগুড়া থেকে দুপুর সোয়া বারোটায় সড়ক পথে রওয়ানা করে বিকাল সাড়ে তিনটায় লালমনিরহাট সার্কিট হাউজে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। কিছু সময় বিশ্রাম নেয়ার পর চারটা দশ মিনিটের সময় মঞ্চে উঠেন তিনি।

এসময় লাখো জনতা খালেদা জিয়া, জিয়া খালেদা স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে পুরো কালেক্টরেট মাঠ। মঞ্চে ওঠেই খালেদা জিয়া হাত নেড়ে জনগণের অভিবাধনের জবাব দেন।

বা২৪/এমএইচ/জাই

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to আপনাদের সময় শেষ, মানুষ এখন তাড়া করবে: খালেদা

  1. Tuhin

    February 27, 2012 at 8:39 pm

    বাংলাদেশের বর্তমান সব রাজনীতি বিদদের সরানো উচিত কারণ এরা শুধু জনগনের সাথে প্রতারনা করে