Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে ফেরার চাপে বিএনপি

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২
কাফি কামাল: সংসদে ফেরা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিএনপি। একদিকে চাপ, অন্যদিকে সংশয়। বিদেশী কূটনীতিকদের পাশাপাশি দেশের সুশীল সমাজ ও দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীদের তরফ থেকে সংসদে ফেরার চাপ বাড়ছে দিন দিন। দলের তরুণ এমপিরাও সংসদে ফেরার জন্য মুখিয়ে উঠেছেন। বাড়ছে অনুপস্থিতির পরিধিও। তবে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহাল ইস্যুতে সংসদের ভূমিকা নিয়ে সংশয়ের আবর্তে পড়েছে দলটি। এ ইস্যুতে সংসদের আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ করতে পারবে বিরোধী দল। নাকি পুরো বিষয়টিই ঢাকা পড়ে যাবে সরকারি দলের বিরোধিতায়- এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সময় নিচ্ছে দলটি। ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে চাইছেন তারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুকসহ কয়েকজন তরুণ এমপির সঙ্গে আলাপকালে এমন মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন তারা।
এদিকে সমপ্রতি বাংলাদেশ সফরকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক ও জ্যঁ ল্যামবার্টের নেতৃত্বে ইইউ পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দল বিএনপিকে সংসদে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। ভাষার মাস উপলক্ষে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের সঙ্গে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একই পরামর্শ দেন। কয়েকদিন আগে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক সেমিনারেও খালেদা জিয়াকে দেশী-বিদেশী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একই পরামর্শ দেন।
বিরোধীদলীয় এমপিরা জানান, তারা সংসদে গিয়ে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধান এবং নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ব্যাপারে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করতে চান। এছাড়া প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে চান- সামপ্রতিক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সাংবাদিক দম্পতি হত্যা, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা, ডিসিসি বিভক্তি, বিরোধী দল নির্যাতন, জ্বালানি তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ট্রানজিট, টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে। এজন্য বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন কয়েকজন দলীয় এমপি। কিন্তু সিনিয়র নেতাদের তরফ থেকে সংসদে ফেরার ব্যাপারে ইতিবাচক কোন বক্তব্য আসছে না। ফলে সংসদে ফেরার নৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে বিরোধী দল। শেষ পর্যন্ত চলতি অধিবেশনে সংসদে ফিরবে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারছে না নীতিনির্ধারক মহল। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থানকারী এমপিদের এখনও তলব করা হয়নি।
সিনিয়র নেতারা যুক্তি তুলে ধরে বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহাল বিষয়ে বারবার বিরোধী দলকে সংসদে বিল উত্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছে সরকার। কিন্তু রাজনৈতিক কারণেই এ আহ্বানকে সরলভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহাল ইস্যুতে সংসদে বিল উত্থাপন করে বিরোধী দল খুব বেশি লাভবান হবে না। এ নিয়ে সংসদের আলোচনায় কিনারা পাবে না তারা। সরকারি দলের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধিত্বের বক্তব্যের তোড়ে ঢাকা পড়ে যাবে চলমান আন্দোলনের মূল ইস্যু। এমন কি সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সংসদে ভোটাভুটির আয়োজন করলেও বিরোধী দলের পরাজয় নিশ্চিত। ফলে এ ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। তাই অপেক্ষা করে সুবিধাজনক সময়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে স্বল্প সময়ের জন্য সংসদে ফেরা উচিত।
বিএনপি’র একটি সূত্র জানায়, সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে এড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধী দল। সংসদে চলতি অধিবেশন আগামী ৮ই মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা কয়েক কার্যদিবস বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে নজরে রাখছে বিরোধী দল। অধিবেশনের পরিধি বাড়ানো হলে হঠাৎ করেই সংসদে ফিরতে পারেন তারা। অন্যথায় আগামী অধিবেশনের শুরুর দিকে একটি সুবিধাজনক সময়ে সংসদে ফিরবে বিরোধী দল। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলেই সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে বিরোধী দল আপাতত সে আশঙ্কায় ভুগছে না। তাদের বেশির ভাগের সামনে রয়েছে আরও ৩০ থেকে ৩৭ কার্যদিবস। ফলে ৮ই মার্চ পর্যন্ত চলতি অধিবেশন চললে পদ হারানোর কোন আশঙ্কা নেই। সে ক্ষেত্রে আগামী অধিবেশনেও প্রায় ১০ থেকে ১২ কার্যদিবস সময় পাবেন তারা। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদের ১১টি অধিবেশনে ১৯৪ কার্যদিবস সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় এমপিদের গড় উপস্থিতি এক-পঞ্চমাংশের মতো। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫০দিন অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। আর মাত্র ৬দিন অংশ নিয়েছেন স্বয়ং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদের উপস্থিতির সংখ্যা ৭ থেকে ৪৮ কার্যদিবস। বিরোধীদলীয় এমপিদের মধ্যে পদ হারানোর ঝুঁকির মধ্যে আছেন বিদেশে চিকিৎসাধীন শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এমপি বলেন, সংসদ অকার্যকর হওয়ার দায় সরকারের। কারণ, সেখানে সরকারি দলের এমপিরা এমন ভাষায় কথা বলেন যা ভদ্রতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। এমন ভাষায় গালি দেন যা সহ্য করা অসম্ভব। কথা বলার সুযোগ ও পরিবেশ পেলে বিএনপি সংসদে ফেরার জন্য উন্মুখ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক বলেন, সংসদে গিয়ে চেহারা দেখানোর তো মানে নেই। সরকার ফলপ্রসূ আলোচনা করতে চাইলে বিএনপি অবশ্যই যাবে। কক্সবাজার সদর আসনের এমপি লুৎফর রহমান কাজল বলেন, আমরা সংসদে যেতে চাই। তবে সরকারি দলের অসহযোগিতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি, সরকার সংসদকে কার্যকর করতে বিরোধী দলকে সুষ্ঠু পরিবেশ ও কথা বলার নিশ্চয়তা দেবে। আর দলের নীতিনির্ধারক মহলও সংসদে ফেরার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট