Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মানে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবের সাফল্য

বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন এরশাদুল হক। শিক্ষা গ্রহণের সময় থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশল নিয়ে পড়তে গিয়ে মোবাইল ফোনের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেন। মূলত স্মার্টফোনের ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেই এ ধরনের ব্যবসার চিন্তা করেন তিনি। দেশে ফিরেই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজে মনোযোগ দেন।

২০০৯ সালের দিকে এরশাদুল হক দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর মাথায় আসে একটি ভিন্নধর্মী অ্যাপ্লিকেশন গেম তৈরির পরিকল্পনা। তবে ধারণাটি আসে মূলত তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ধারণা ছিল, এমন একটি গেম তৈরি করা হবে যে গেমটিতে মোবাইলের ডিসপ্লেতে একে একে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী আসতে থাকবে এবং আঙুল দিয়ে টিপে সেগুলোকে মারতে হবে। পরে তিনি অবশ্য ঠিক করলেন যে অনেক ধরনের প্রাণী নয়, কেবল এক ধরনের প্রাণী থাকবে আর সেটি হবে পিঁপড়া। এরপর তিনি লেগে গেলেন কাজে। চারুকলার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পিঁপড়ার ডিজাইন করলেন। রাতের পর রাত বসে কম্পিউটারে প্রোগ্রামিং করতে থাকলেন। প্রাথমিকভাবে একটি ছোট অফিসও নিলেন। আর এ জন্য বাবার কাছ থেকে লাখখানেক টাকাও নিয়েছিলেন তিনি।

দুই মাসের মধ্যে তৈরি হয়ে গেল তাঁদের প্রথম অ্যাপ্লিকেশন ‘ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্টস’। অবশ্য গেমটা তৈরি করার আগে তিনি স্টিভ জবসের অ্যাপল কম্পানিতে গেমটির রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রাখেন। কাজ শেষ করে পাঠিয়ে দেন অ্যাপলকে। তবে প্রথম দিকে আমেরিকায় খুব একটা কাটতি ছিল না গেমটির। তবে কিছুদিন পর প্রথমবারের মতো তাঁদের এ গেমটি র‌্যাংকিংয়ে দশের ঘরে চলে আসে। এর পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে জনপ্রিয়তা পায় গেমটি। এশিয়ার মধ্যে প্রথম জনপ্রিয়তা পায় সিঙ্গাপুরে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় র‌্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে উঠে আসে গেমটি।

একটি গেমই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের জগতে খ্যাতি এনে দেয় রাইজআপ ল্যাবসকে। এ থেকে আয় হয় ৭০ হাজার ইউএস ডলার। এর পর থেকে ব্যবসার পরিধি বড় করতে শুরু করলেন এরশাদুল হক। ঢাকার উত্তরায় ১৬ হাজার বর্গফুটের একটি অফিস নেন তিনি। একে একে নিয়োগ দেন ৬০ জন কর্মকর্তাকে। গুছিয়ে নেন ব্যবসা। একে একে তৈরি করেন শখানেক গেমিং অ্যাপ্লিকেশন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্যাপ ট্যাপ মার্বেল, শুট দ্য মানিক, লাভার ফ্রগ, ঘোস্ট সুইপারফল রেইনি ও বাবল অ্যাটাক। এবার হাত দিয়েছেন ফেসবুকের সবচেয়ে বড় গেম তৈরির কাজে। ‘ফ্যাক্টরি প্রজেক্ট’ শিরোনামের গেমটি তৈরির কাজ শেষ হবে আগামী এপ্রিল-মে নাগাদ।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে এমন একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন এরশাদুল হক। শুরুর দিকে পরিশ্রমের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তরুণ এই উদ্যোক্তা। বলছিলেন, প্রথম দিকে যখন তাঁরা কাজ শুরু করেন তখন তাঁদের অফিস ছিল খুব ছোট। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাবারও জায়গা ছিল না। এর পরও সবাই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সে দিনগুলোর কথা কখনোই ভোলার নয়।

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এরশাদুল হক এখন সিঙ্গাপুরসহ আরো কয়েকটি দেশে শাখা সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। বিভিন্ন দেশের বাজার উপযোগী গেমিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এর ফলে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী গেমিং অ্যাপ্লিকেশনের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেবে এবং এর সদর দপ্তর থাকবে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে এই কম্পানিতে এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এ তরুণ উদ্যোক্তা। মাত্র আড়াই বছরে শখানেক অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে রাইজআপ ল্যাবস লিমিটেড। আর এ থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ ইউএস ডলার আয় হচ্ছে।

সৌজন্য: দৈনিক কালের কন্ঠ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


4 Responses to মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মানে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবের সাফল্য

  1. Feerssh

    March 7, 2012 at 11:41 am

    A simple and itnelliegnt point, well made. Thanks!

  2. mhzrdwd

    March 9, 2012 at 8:34 pm

    oj37Ui qbekntwwxwel

  3. msogmikm

    March 11, 2012 at 12:10 am

    SvazFs , [url=http://peedrrwlfjto.com/]peedrrwlfjto[/url], [link=http://nxpklooscpid.com/]nxpklooscpid[/link], http://eqxtdtjeenow.com/

  4. zqqytq

    March 12, 2012 at 6:16 pm

    D6oSM2 ovciwfrkrnmt