Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লড়াকু ম্যাচ খেলেই জিতলো চট্টগ্রাম কিংস

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি: নিজেদের মাটিতে চট্টগ্রাম যা পারেনি তা আজ শুক্রবার ঢাকার ভেন্যুতে করে দেখিয়েছে ঢাকারই বিপক্ষে। মাথা ঝাঁকি দিয়ে উইকেটে রানের গতি বাড়ানো কোনো সুযোগই দেয়নি মাশরাফির ঢাকা। চট্টগ্রাম কিংসকে ৬ উইকেটে ১২০ রানেই আটকে দিয়েছে। এটা সেই উইকেট যেখানে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউট হয়েছি। তারপরও অবিশ্বাস হলেও সত্য ঢাকা ১২১ রানের টার্গেট তাড়া করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রামের বিপক্ষে হেরেছে ১৩ রানে।

সেই উইকেটে সেমিতে যাবার অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচে মাথা ঠাণ্ডা রাখার পরীক্ষায় চট্টগ্রামই পাস করেছে। কিংসদের উইকেট বেশি পড়েনি। কিন্তু ঢাকায় কঠিন নিয়ন্ত্রণের কারণে বড় স্কোর গড়তে পারেনি কিংসরা। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে ঢাকার বোলিং ইনিংসে কোনো অতিরিক্ত রান হয়নি। চট্টগ্রাম মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে কোনো অতিরিক্ত রান পায়নি। যা বিপিএলে প্রথম ঘটনা। কিন্তু তারপরও ১২১ রানের স্কোরকে চট্টগ্রাম জয়ের জন্য যথেষ্টই প্রমাণ করেছে।

ঢাকার বোলার মাশরাফি, নাভেদ উল হাসান, পোলার্ড, ইলিয়াস সানী আর আজহার মাহমুদ চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের দম ফেলার তেমন একটা সুযোগ দেয়নি। একই বিষয় চট্টগ্রামের বোলারদের ক্ষেত্রেও খাটে।

তবে বড় স্কোর গড়তে না পারার কারণে জয়টাও নিশ্চিত ছিল না চট্টগ্রামের। কিন্তু ঢাকা যে ১২১ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে এভাবে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দেবে তা হয়তো চট্টগ্রাম চিন্তাও করেনি।

১২১ রানের জবাবটা ১০৭ রানে অলআউট হয় ঢাকার এই হারের ফলে সেমি যাবার পথ কঠিন হয়ে গেল। ৮ ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ১০ আর ঢাকার সেই ৮ই বহাল থাকল। শেষ দুই ম্যাচে ঢাকাকে এখন জয় পেতেই হবে। যদি সেমিতে টিকিট কাটতে হয়।

টস জিতে শুরুতেই মানসিকভাবে খানিকটা এগিয়ে যায় ঢাকা। চট্টগ্রামকে ব্যাট করে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। টস জিতেও কেন ঢাকা ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে তা কিছুক্ষণ পরই টের পেয়েছে প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম।

স্কোরে কোনো রান যোগ হবার আগেই ইনিংস শুরু করতে আসা মাশরাফি ওভারের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার নাসির জামসেদকে নাভেদ উল হাসানের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন। তখনও বোঝা যায়নি ২০ ওভার পার করতে চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের যুদ্ধ করতে হবে।

তবে ব্যতিক্রম ছিলেন অপর ওপেনার জহুরুল ইসলাম। কিন্তু ওয়ান ডাউনে আসা জেশান রায় ফিরে যান ১৮ রান যোগ করে ইলিয়াস সানীর হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

অন্যদিকে সেট হওয়া ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম ১০.৪ ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে চট্টগ্রামের নামের পাশে স্কোরে ৪০টি মূল্যবান রান যোগ করেন। ফেরত গেলেন পোলার্ডের বলে ক্যারভিজির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। ৩ উইকেটে স্কোর ৬৬ রান।

৪র্থ ব্যাটসম্যান হিসাবে ক্রিজে এসে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সেট হয়েও কেন ওমন শট খেলতে গেলেন তিনিই ভাল বলতে পারবেন।

৬৬ রান থেকে দলীয় ৭৬ রানে রিয়াদ সানীর বল রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আশরাফুলের হাতে ক্যাচ দেন। আর এতে চট্টগ্রাম আরও একধাপ পেছনে পড়ে যায়। ৪ উইকেটে ৭৬ রান। অথচ বল বাকি ছিল ৩৯টি।

স্কোর বাড়লেই বা কতটা বাড়বে! এই প্রশ্নটি প্রেস বক্সে বার বার সকলের মুখে শোনা যায়। কারণ চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের ঢাকার বোলিং আর ফিল্ডিং এতোটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে যে ১৩ ওভার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৭৫ রান সংগ্রহের পথে একটি চার ও একটি ছয় মারা কৃতিত্ব দেখিয়েছেন জেশান রায়।

টি২০-র ম্যাচে কিনা ১৩ ওভারে ১টি চার আর ১টি ছয়! স্কোর যে বাড়বে না তা জানা হয়ে গেছে যারা ক্রিকেট যারা বোঝেন তাদের কাছে। বাস্তবে তাই হয়েছে।

রিয়াদের আগেই ব্যাট করতে নামা ব্রাভো যদি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪৮ রান না করতেন তাহলে চট্টগ্রামের স্কোর কি হত সেটা চিন্তা না করাই ভাল।

শামসুর রহমান ৫, জিয়াউর রহমান ১ আর কুপার ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

১২১ রানের মাঝারি স্কোর তাড়া করতে ঢাকার দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান আশরাফুল-ক্যারভিজি বেশি দূর যেতে পারেনি। ক্যারভিজি ব্যক্তিগত ৮ রানে শামসুর রহমানে বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরত গেলেও আশরাফুল টিকে রইলেন বিপিএলে তৃতীয় বার ওপেনার হিসাবে পরীক্ষাটা দেবার জন্য।

ওয়ান ডাউনে আসা আজহারও দ্রুতই ফেরত গেলেন। ব্যক্তিগত ১২ আর দলীয় ৩০ রানে এই পাকিস্তানি আরাফাত সানীর বলে কুপারের হাতে বন্দি হন। মিডল অর্ডারে স্টিভেন যখন ৩য় উইকেটে এনামুল হক জুনিয়রের বলে রায়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান তখন সত্যি সত্যিই ঢাকা চাপের মুখে। কারণ স্কোরে জমা হয়েছে ৩ উইকেটে ৪৮ রান!

আশরাফুলের সঙ্গে ইনিংস মেরামত করতে মেহেরাব হোসেন জুনিয়রকে পাঠানো হল। কিন্তু দলীয় ৫২ রানে কুপারের বলে মেহেরাব বোলার অ্যান্ডের পাশে ফিল্ডিং করা রিয়াদের হাতে কয়েক গজ দূর দিয়ে মেহেবার তুলে দিলেন। রিয়াদ কয়েক পা দৌড়ে বল তালুবন্দি করলেন। ৪ উইকেটে ৫২।

কঠিন পরিস্থিতিতে ঢাকা। ৫ম উইকেটে আশা-ভরসার প্রতীক আশরাফুল-পোলার্ড ধীরে ধীরে সেট হবার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ঢাকার দলীয় রান ৫৫-তে, তখনই এনামুল হক জুনিয়রকে মেরে খেলতে গিয়ে পোলার্ড বল তুলে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার আশার আলো যেন নিভু নিভু করতে শুরু করে।

আর ৬ষ্ঠ উইকেটে আনামুল হক বিজয়ের সঙ্গী হিসাবে আশরাফুল যখন ব্যক্তিগত ২০ রানে আর দলীয় ১১.৫ ওভারে কুপারের বলে ব্রাভোর হাতে বন্দি হলেন তখন আর বুঝতে বাকী ছিল না জয় ঢাকার হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। কারণ স্কোর ৬ উইকেটে ৬০ রান। জয়ের জন্য দরকার ৬১ রান আর বল বাকী ছিল ৪৮টি।

ঢাকার ভাগ্যে কি আছে এই যখন চিন্তা, তখন ক্রিজে ৭ম উইকেটে আনামুল আর ধীমান ঘোষ। এই জুটিই ছিল ঢাকা শেষ আশা-ভরসা। ঢাকার দর্শকরা তখন গ্যালারিতে একে বারেই চুপ মেরে বসেছিল।

অবশ্য আনামুল-ধীমান ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। তার প্রমাণ মেলে ৭ম জুটি ২১ রান যোগ করা। কিছুটা আশা জাগিয়েছেন। ১৫ ওভার শেষে রান ৮১ রান। ঢাকার জয়ের জন্য দরকাল ৩০ বলে ৪০ রান।

এক পর্যায়ে ঢাকার টার্গেট ২৩ বলে ৩৪ রান। কয়েকটি বাউন্ডারি ঢাকার জন্য খুবই জরুরি ছিল। আর তা করতে গিয়ে আনামুল হক ব্রাভোর স্পিনের বিপরিতে সোজা ব্যাটে বল তুলে দিলেন। ২২ বলে ২২ রান করা আনামুল হক সহজ ক্যাচে পরিণত হলেন আরাফাত সানীর হাতে। কিন্তু ধীমান ঘোষ ছিলেন।

৮ম ব্যাটসম্যান হিসাবে ধীমার ঘোষ ব্যক্তিগত ১১ রানে বল আকাশে ভাসিয়ে ঢাকার শেষ আশাটা শেষ করে দিলেন। শেষ দিকে মাশরাফি আর নাভেদ উল হাসান বেশি কিছু করতে না পারাটাই স্বাভাবিক। ৯ম জুটিতে ১১ রান যোগ হয়। ১ রান করা মাশরাফি ব্রাভোর বলে বোল্ড হন আর নাভেদ উল হাসান ৯ রানে অপরাজিত রইলেন। ঢাকার ইনিংস শেষ হয় ১০৭ রানে।

বা২৪/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


6 Responses to লড়াকু ম্যাচ খেলেই জিতলো চট্টগ্রাম কিংস

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 4:06 am

    Wonderful article admin thank you. I identified what i was trying to find right here. I will review entire of posts on this time of day

  2. alışveriş rehberi

    March 14, 2012 at 4:04 am

    i cant get how you are able to reveal like this amazing posts admin very much thanks

  3. escort ilanlari

    March 14, 2012 at 4:54 am

    hey admin thanks for fantastic and easy understandable article i adored your webpage site seriously significantly bookmarked also

  4. su arıtma cihazı

    March 14, 2012 at 11:10 am

    hey admin thanks for wonderful and easy understandable article i loved your webpage web site genuinely much bookmarked also

  5. termal

    March 14, 2012 at 1:44 pm

    Hello admin good post considerably thanks cherished this blog seriously considerably

  6. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 2:38 pm

    Truly vital submit admin fantastic one i bookmarked your word wide web page see you in up coming blog article.