Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রোববার হতে সকল কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা, অচল সড়ক ভবন

সিরাজুল ইসলাম: অচল হয়ে পড়েছে সড়ক ভবনের কার্যক্রম। এক সপ্তাহ ধরেই থমকে আছে। প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাটাচ্ছেন অলস সময়। এ অবস্থায় রোববার থেকে সারা দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে অধিদপ্তরের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।
গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের এক আদেশের পর থেকেই সড়ক ভবনে এ অবস্থা বিরাজমান। আদেশ অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়ক ভবন খালি করার কথা। গতকাল ছিল নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন। শেষ দিনে সড়ক ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অফিসের সংস্থান না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সড়ক ভবনেই অবস্থান করছিলেন। গতকালও ট্রাক ও ভ্যানে করে মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। তাড়াহুড়া করে নথিপত্র সরিয়ে নেয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সড়ক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন- হাইকোর্ট, শিশু একাডেমী এবং সড়ক ভবনের জায়াগাটুকু সরকারি সম্পত্তি ছিল। সড়ক ভবনকে দেয়া হয় প্রায় ৮ একর জমি। ১৯৭৯ সালে তৈরি করা হয় সড়ক ভবন। তখন কেউ এত বাঁধা দেয়নি। গত ৪০ বছরে কেউ এ জমির মালিকানা দাবি করেনি। আমরা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছি। এখানে ৩টি ব্লকে ৪টি ভবন রয়েছে। রয়েছে ৪ শতাধিক কক্ষ। ৫ শতাধিক কর্মকর্তা ও প্রায় ২০০০ কর্মচারী এখানে কাজ করেন। বছর খানেক আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে একটি সংগঠন সড়ক ভবনের জায়গাকে হাইকোর্টের জায়গা উল্লেখ করে রিট করে। সওজের একজন কর্মকর্তা জানান, সড়ক জনপথের বিভিন্ন ইউনিট এখানে ছিল। ছিল টোটাল ডিজিটাল সিস্টেম। যে কোন সময় স্বল্প সময়ে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। কাজের মধ্যে ছিল সমন্বয়। এখন সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেল। রাজধানীসহ বাইরের ৬টি জায়গায় আমাদের মালামাল সরিয়ে নিতে হচ্ছে। অনেক মামলামাল ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট মিসিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার জায়গাও নেই। কোথায় বসে কাজ করবে, কবে থেকে কাজ করতে পারবে তাও অনিশ্চিত। সওজ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়, ঢকা জেলার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়, ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস উইং এবং অধীনস্থ কার্যালয়ের মালামাল এলেনবাড়ীস্থ ঢাকা সার্কেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের মালালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে মিরপুরের আরএইচডি ট্রেনিং সেন্টারে। এমআইএস অ্যান্ড এস্টেটস সার্কেল ও ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট ইউনিটকে তেজগাঁওস্থ কারখানা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মেকানিক্যাল উইং এবং কর্ণফুলী সেতু প্রকল্পও সেখানে যাচ্ছে। মিরপুরের সড়ক গবেষণাগারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, আরএনআইএমপি-১, ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন সড়ক প্রকল্প, সেতু প্রকল্প-৩ এবং দপদপিয়া সেতু প্রকল্প। এডিবি প্রজেক্ট, টেকনিক্যাল এসিসটেন্স ফর সাব রিজিওনাল, রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফেসিলিটি যাচ্ছে বনানীস্থ সওজ ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাবে। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জামাদি নিয়ে যাওয়া হয়েছে টঙ্গী সড়ক উপবিভাগের অফিসে। এখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টও। নিরাপত্তা কার্যালয়, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিভাগ যাচ্ছে তেজগাঁওয়ে। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন খন্দকার জানান, ‘এ,’ ‘বি’ এবং ‘সি’ ব্লকের মধ্যে ‘বি’ ব্লক পুরোপুরি খালি করে দিয়েছি। নিজস্ব ভবন তৈরির পূর্ব পর্যন্ত অপর দু’টি ব্লকে আমরা থাকতে চাচ্ছি। এ বিষয়ে আদালতে টাইম পিটিশন দেয়া হয়েছে। এটা মানা না হলে রোববার থেকে সারা দেশের সওজের সব অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি জানান, আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সড়ক ভবন পরিদর্শন করেছেন। আমরা তার কাছে বলেছি- দাবি বাস্তবায়ন না অমরা সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধসহ আমরণ অনশনে যাব।
এ বিষয়ে চিফ ইঞ্জনিয়ার আমিনুর রহমান লস্কর, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা পৃথকভাবে জানান, এ মুহূর্তে আমরা কোন বক্তব্য দিলে আদালত অবমাননা হতে পারে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, এখানে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল সিস্টেম সংক্রান্ত একটি সার্ভার বসানো হয়েছে। এটা খুলে ফেলতে হচ্ছে। এর এটা করা হলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু করাও সম্ভব হবে না। ফলে ৬ মাস টেন্ডার এবং বিল পেমেন্টসহ সড়ক ভবনের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকবে। তাছাড়া ৬ মাস পর সার্ভারটি চালু হলেও এর কার্যকারিতা থাকবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে আমরা ৫০ বছর পিছিয়ে পড়ব।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহকারী পরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম জানান, আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আড়াই বছরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে কাজ করছি। আমাদের মূল কাজ সড়ক ভবনে। এর কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়ায় আমরা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। একেকটি ইউনিট একেক জায়গায় চলে যাওয়ায় আমাদের অনুসন্ধান কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তাছাড়া সড়ক ভবনের কার্যক্রম চালু হওয়ার পর তাদের কাছে কোন ডকুমেন্ট চাইলে তারা সেসব নাও দিতে পারেন। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সেসব কাগজপত্র গায়েব করে হারিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখাতে পারেন।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, আমি সরেজমিন গিয়ে দেখেছি, ৩টি ব্লকের মধ্যে একটি ব্লক পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অরেকটি ব্লকের অংশবিশেষ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সমস্যা শুধু ‘এ’ ব্লক নিয়ে। আশা করছি এ নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। আদালতে সময় চাইলে আদালত সময় দেবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট