Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ভিকারুননিসায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি

সোলায়মান তুষার: দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত রিপোর্টে এ অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মাহফুজা বেগম, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হক, শিক্ষা পরিদর্শক জসিম উদ্দিন ও অডিট অফিসার আবদুল গফুর ২০০৮ সালের ৪ঠা মে থেকে ১৩ই মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আয়, ব্যয়, ছাত্রীভর্তি, নিয়োগ ও যাবতীয় বিষয়ে তদন্ত করেন। ওই বছরের ৯ই জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়- ভর্তিকৃত ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তিকালীন আদায়কৃত অর্থ ক্যাশ বইয়ে আয় হিসেবে জমা করা হয়নি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অর্জিত আয় ও ব্যয়ের সমর্থনে কোন ক্যাশ বই পাওয়া যায়নি। তদন্তকালে চাহিদাপত্রের মাধ্যমে ভর্তিকৃত ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ক্যাশ বইয়ে এন্ট্রির সমর্থনে ক্যাশ বই উপস্থাপনের জন্য বলা হলেও যেসব ক্যাশ বই উপস্থাপন করে সেসব যাচাই করে দেখা যায় ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর হতে তদন্তের তারিখ পর্যন্ত সময়ে ক্যাশ বইয়ে কোন আয়-ব্যয় এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যয়েরও কোন এন্ট্রি নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম জানান, ক্যাশ বই সময়মতো সঠিকভাবে সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বকেয়া কাজ দ্রুত সমাপনের জন্য চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। অধ্যক্ষ আরও ২০০৭ সালের ডিসেম্বর ও ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসের আয় ও ব্যয়ের হিসাব সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাশ বইয়ে কেন এন্ট্রি করেননি তা তিনি জানেন না। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আয় হয়। তাছাড়া প্রতিদিনের ব্যয়ও অনেক। দীর্ঘ ৫ মাসের ক্যাশ বইয়ে আয় ও ব্যয় এন্ট্রি না করা অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা আয় ও ব্যয়ের কোন হিসাব সংরক্ষণ করেননি। রিপোর্টের শেষ দিকে লেখা হয় প্রাক্তন অধ্যক্ষ তহমিনা খাতুনের দায়িত্ব ছিল তার কর্মকালীনের ক্যাশ বই হালনাগাদ লিখে ব্যালেন্সিং করে সে মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়া। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও তার সময়কালের আয়-ব্যয়ের সমর্থনে ক্যাশ বই সংরক্ষণ করেননি। এজন্য তিনিও প্রাক্তন অধ্যক্ষের ন্যায় সমানভাবে দায়ী। বিষয়টির প্রতি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো। এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, অতীতে ভিকারুননিসায় নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, কোন তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখার। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর অডিট শাখা আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমার জানা নেই।
সায়েন্স ক্লাবের লাখ লাখ টাকা দুর্নীতি: শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত সায়েন্স ক্লাবের লাখ লাখ টাকা দুর্নীতি হয়েছে। ক্লাবের লাখ লাখ টাকার আয় ও ব্যয়ের জন্য কোন ক্যাশ বই সংরক্ষণ করেননি এবং রেজিস্টারে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। ক্লাবের শুরু হতে পরিদর্শনের তারিখ পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি। ২০০২, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালের অর্জিত আয় বাবদ ২৯ লাখ ২ হাজার ৯৫২ টাকা আদায় সংক্রান্ত কোন রশিদ উপস্থাপন করতে পারেননি। রসিদের মাধ্যমে অর্থ আদায় হয়নি। ১৯৯৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ লাখ ৯০ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ের সমর্থনে ভাউচার উপস্থাপন করতে পারেননি। আয়কর ও ভ্যাট কর্তন সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। ক্লাবের শুরু হতে বর্তমান পর্যন্ত প্রাপ্ত টাকার সঠিক হিসাব করা হয়নি।
ডিবেটিং ক্লাবের টাকা নয়-ছয়: ডিবেটিং ক্লাবের লাখ লাখ টাকা নয়-ছয় হয়েছে। শামীম জাহান ডিবেটিং ক্লাবের দায়িত্বে থাকাকালে এ টাকার নয়-ছয় হয়। তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ক্লাবের শুরু হতে পরিদর্শনের তারিখ পর্যন্ত সময়ের আয় ও ব্যয়ের ক্যাশ বই ও রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি। ব্যাংক হিসাবের পাশ বই ও জমা বই উপস্থাপন করতে পারেননি। লাখ লাখ টাকার আয়ের সমর্থনে কোন রসিদ উপস্থাপন করতে পারেননি। ২০০২ সালে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ের ভাউচার উপস্থাপন করতে পারেননি। ঠিকাদারের/সরবরাহকারীর বিল হতে আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি। বিগত পরিদর্শনের আপত্তির প্রেক্ষিতে বর্তমান তদন্তকালে ক্লাবের আয় ও ব্যয়ের রেকর্ড উপস্থাপনের জন্য বলা হলেও শামীম জাহান তা করতে পারেননি।
অবৈধভাবে ৯৭ ছাত্রী ভর্তি: তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয় ভর্তি সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায় প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি তারিখ চলে যাওয়ার পরও ৯৭ জন ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মূল প্রভাতী, মূল দিবা, বসুন্ধরা প্রভাতী, বসুন্ধরা দিবা, আজিমপুর প্রভাতী, আজিমপুর দিবা, ধানমন্ডি প্রভাতী, ধানমন্ডি দিবা ও ইংরেজি শাখায় ৯৭ জন ছাত্রী ভর্তি করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, প্রতিদিন ভর্তির জন্য ছাত্রী আসছে যা তদন্তকালীন সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম স্বয়ং এ ধরনের বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রদর্শন করেন। মূল প্রতি শাখায় (প্রভাতী ও দিবা) ছাত্রী সংখ্যা বেশি হওয়ায় শ্রেণী কক্ষে ছাত্রীদের বসতে হচ্ছে ঠাসাঠাসি করে। উপস্থিত শিক্ষকরা ছাত্রী সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদেরকে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান। অধ্যক্ষ জানান, প্রতিবারের মতো এবারও ভর্তি হয়েছে। কারণ তদবির, চাপ, সুপারিশ সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসেনি।
প্রো-ভিসি’র রুমকে নিজের বসার রুম হিসেবে সাজানো: প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীম জাহান কলেজের প্রো-ভিসি’র রুমকে নিজের বসার রুম হিসেবে নিয়ে চমকপ্রদভাবে সাজিয়েছেন। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের রুমে এসি থাকার বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে। উল্লেখ্য, ভিকারুননিসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল একদা। যার অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ এবং সরঞ্জাম ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যবহার হচ্ছে।
বোর্ডে তদবির: অধ্যক্ষ নিয়োগসহ ৩৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির পর এবং সমস্ত দরখাস্ত জমা নেয়ার পর শুধু ইন্টারভিউ নেয়া বাকি ছিল। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম, মঞ্জুয়ারা (বর্তমান অধ্যক্ষ), শামীম জাহান, রোকসানা শামীম, আম্বিয়া তারা সবাই মিলে ঢাকা বোর্ড অফিসের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচরী আজিজ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ দিয়ে বোর্ড অফিস থেকে ২০০৮ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ স্থগিত করার চিঠি নিয়ে আসেন। ফলে নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to ভিকারুননিসায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি

  1. Amjad hossain.

    February 23, 2012 at 1:19 pm

    Its very bade news.beacuse its famus instution of bangladesh.

  2. md.Atik Rahman

    February 24, 2012 at 1:47 am

    I want to be panishe for principal and her said person.