Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকারের ব্যাংক ঋণে সুদহার আরো বাড়বে

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি: ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরো বাড়ছে । বাজেট ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়েই এ ঋণ বাড়াচ্ছে সরকার। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ ২৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ধরে রাখতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায় ঋণের উপরোক্ত টার্গেট ধরে রাখা সম্ভব হবে না মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের গৃহীত ঋণ চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে ২১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি হিসাবে চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের পরিমাণ দাড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা।
নতুন করে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হার আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মির্জা এ বি আজিজুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “তিনটি কারণে সরকার ব্যাংক ঋণ বাড়তে বাধ্য হচ্ছে। যার মধ্যে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়া, বৈদেদিক সহায়তা কমে যাওয়া, প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়া অন্যতম।”
তিনি বলেন, “এ খাতে সরকার ঋণ আরো বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই সুদের হার বেড়ে যাবে। যা প্রাইভেট সেক্টরকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতিকেও উস্কে দিবে।”
এ মুহূর্তে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণ ছাড় করানো, বাজেট কাঁটছাট করে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ধ্বস, বৈদেশিক সহায়তা ঘাটতি, ঋণদানে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর অনীহা, দীর্ঘ সময় ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা সব মিলিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে চাপের মধ্যে আছে সরকার। যা সম্প্রতি এ বক্তব্যে এ কথা স্বীকারও করেন অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থ বছরে ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা বিগত ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার অর্থের সংস্থান করেছে ৩৩৪ কোটি টাকা। যা পুরো লক্ষমাত্রার তুলনায় ৮৩ শতাংশ কম।
ব্যাংকগুলোতে উচ্চসুদের হারের কারণে প্রয়োজণীয় ঋণ পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের ব্যাংক ঋণ আরো বাড়লে সুদ হার কি পরিমাণ বাড়তে পারে জানতে চাইলে ব্রাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সুদ হার কতটা বাড়বে তা নির্ভর করবে সুদ আমানত সংগ্রহের ওপর। কিন্তু নির্দিষ্ট সুদ হারে আমানত সংগ্রহের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।”
ব্যাংকিং খাত থেকে নয়, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বাজেট ঘাটতি পূরণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “সুদ হার বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণের যোগান আরো কমে যাবে। ফলে নতুন শিল্পকারখানা বাড়বে না বরং অনেকগুলো কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে।”
সঙ্কট বাড়ছে
এদিকে বিবিসি জানায়, বাংলাদেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে তাদের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।নগদ অর্থের সরবরাহ চাপের মুখে থাকায় ব্যাংকগুলো এখন এই সুদের হার কমাতে পারছে না বলে জানিয়েছে।
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে একটি বৈঠকে এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে৻
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিস এসোসিয়েশন জানায়, ব্যাংকঋণের উচ্চসুদের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কয়েক মাস বিনিয়োগ করতে পারছে না।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি সেলিম আর এফ হোসাইন বলেন, গত বেশ কিছুদিনেই ব্যাংকঋণে সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে।
‘আমাদের তারল্যের অভাব না থাকলেও, তারল্যের একটি বড় অংশই সরকার তুলে নিয়েছেন। যার একটা প্রভাব পড়ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। আর আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে, যেহেতু আমাদের অর্থায়নের বড় একটি অংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে আসে, সেই ঋণের সুদের হার স্বাভাবিকভাবেই এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। আগে যেখানে আমরা ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ হারে ঋণ নিতে পারতাম, সেটা এখন ১৮ থেকে১৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।‘ বলেন  হোসাইন।
ব্যাংকগুলোও বলছে, নগদ অর্থ বা তারল্য সংকট না থাকলেও তারা একটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং এই অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সুদের হার কমাতে পারছেন না।
এসোসিয়েসন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সহ সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার বলছিলেন, আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে উচ্চ সুদের হার এবং অতিরিক্ত অর্থ না থাকায় তাদেরকে ব্যাংকঋণে উচ্চহারে সুদ নিতে হচ্ছে।
ইফতেখার বলেন, ‘আমরা তারল্য নিয়ে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি। এখন সরকার যদি ঋণ নেয়া কমিয়ে দেয় তাহলে সেই চ্যালেঞ্জ আরো কমে যাবে৻‘
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তারল্যের উপর চাপ রয়েছে৻ তবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলছিলেন, তারল্যের ওপর চাপই এই উচ্চ সুদের একমাত্র কারণ নয়।
আতিউর রহমান বলেন, “তারল্যের সংকট নেই, তবে হয়তো একটা চাপ আছে। আমানতের একটি অংশ তাদের (আর্থিক প্রতিষ্ঠানের) বিনিয়োগ করার কথা, কিন্তু কেউ যদি তার চেয়ে বেশি করে ফেলে তখনই এই চাপ সৃষ্টি হয়। এগুলো একটি শৃঙ্খলা অর্জনের বিষয় এবং সেই শৃঙ্খলা ধীরে ধীরে অর্জিত হচ্ছে।” বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তহবিল সংগ্রহেরও পরামর্শ দেন তিনি।
বা২৪/এএএম/জাই
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


5 Responses to সরকারের ব্যাংক ঋণে সুদহার আরো বাড়বে

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 2:39 am

    I was seeking for this fantastic sharing admin much thanks and also have good running a blog bye

  2. Genclik Platformu

    March 14, 2012 at 3:52 am

    Hello admin great post very much thanks loved this weblog truly considerably

  3. escort ilanlari

    March 14, 2012 at 4:46 am

    Hello admin beneficial publish significantly thanks liked this website really considerably

  4. su arıtma cihazları

    March 14, 2012 at 11:02 am

    Nice a single weblog proprietor achievement blog submit fantastic sharings in this webpage continually have entertaining

  5. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 2:29 pm

    oh my god fantastic submit admin will test your web site at all times