Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চলচ্চিত্রের বর্তমান সঙ্কট সবাই শুধু ক্ষতির কথা বলেন লাভের কথা কেউ বলেন না

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২

মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন: বিগত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত অতিক্রম করছে। সঙ্কটের কথা উঠলেই নানা সমস্যার পাশাপাশি প্রযোজক পরিবেশক এবং প্রদর্শকরা কেবল ক্ষতির কথা বলেন। যে কোন সভা সমিতিতে সুযোগ পেলেই প্রতিষ্ঠিত প্রযোজকরা বলতে থাকেন অমুক ছবিতে আমি এতো টাকা, তমুক ছবিতে এতো টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। প্রেক্ষাগৃহ মালিকরাও বলে থাকেন ওই ছবি চালিয়ে আমাদের এতো ক্ষতি, এই ছবিতে এতো ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের কথা হলো, কেউ লাভের কথা বলেন না। দেশীয় চলচ্চিত্রে যারা প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক-পরিবেশক হিসেবে চিহ্নিত তারা সামপ্রতিক সময়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু অতীতে তারা কত টাকা লাভবান হয়েছেন সেটা স্বীকার করতে তাদের কষ্ট হয় কেন? অশ্লীলতার সময়ে যারাই অশ্লীল ছবি নির্মাণ করেছেন তারাই মোটা অঙ্কের লাভ করেছেন। লো-বাজেটের কমার্শিয়াল ছবির তকমা লাগিয়ে ওইসব প্রযোজক কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন কম খরচে অশ্লীল ছবি নির্মাণ করে। আর এসব ছবি প্রদর্শন করে প্রেক্ষাগৃহ মালিকরাও প্রচুর লাভের মুখ দেখেছেন। অতিরিক্ত লাভের আশায় উভয়পক্ষ অশ্লীল সেন্সরবিহীন কাটপিসও সংযোজন করেছেন। দর্শকদের অতিরিক্ত বিনোদন দেয়ার জন্য ঢাকার বাইরের অনেক প্রেক্ষাগৃহ মধ্যরাতেও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রেখেছিলো। এ অশ্লীল ছবির আমলে ওই সময়ে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের অনেক সদস্য এবং অনেক পরিদর্শকও অবিশ্বাস্য লাভের মুখ দেখেছেন। দেখেছেন হাতেগোনা কিছু সাংবাদিকসহ প্রশাসনের অনেকেই। তাদের এ লাভের কারণেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায় চলচ্চিত্র শিল্প। মধ্যবিত্ত দর্শক, বিশেষ করে মহিলা দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া ছেড়ে দেন। ওই সময় এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, সুস্থধারার ছবির মাঝে অশ্লীল ছবির ভয়াবহ ট্রেলর প্রদর্শন করে মহিলা দর্শকদের বিব্রত করা হয়েছে। ওই সময় অশ্লীল ছবি বানিয়ে যারা কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তারা এক দুটো ছবি ফ্লপ হওয়ার কারণে চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে আজ বিরত থাকছেন। তারা কথায় কথায় ভিডিও পাইরেসির কথা বলেন, দর্শক কমে যাওয়ার কথা বলেন। এফডিসি’র যন্ত্রপাতির কথা বলেন। কিন্তু অশ্লীল ছবি বানিয়ে তারা যে ভাল ছবি নির্মাণের মেধা যোগ্যতা সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন, সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন, সে কথা কেউ বলেন না। শাকিব খানের মতো নাম্বার ওয়ান নায়ককে নিয়ে যারা ফ্লপ ছবি নির্মাণ করেন তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এটাই তো স্বাভাবিক। ছবি বানাতে না পারলে লাভ হবে কেমন করে। ’৮০ এবং ’৯০-এর দশকে যেসব প্রযোজক একের পর এক হিট সুপারহিট ছবি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা কামাই করেছেন, যারা কেবল ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ার জন্য ছবি বানিয়ে আজকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত হয়েছেন তারা কেন সিনেমা শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন? তাদের প্রযোজনা সংস্থার অফিসে কেন আজ তালা ঝুলছে। বছরে ৪/৫টি ছবি নির্মাণের ক্ষমতা তাদের আছে এবং এক সময় নিজেদের বিশাল ব্যবসা থাকার পরও কেবল ব্যাপক পরিচিতির জন্য চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এসে অনেক ছবি বানিয়েছেন। পরিচিতি পাওয়ার পর তারা সটকে পড়েছেন। কারণ, অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করে একজন প্রযোজক যে পরিচিতি পান, বড় বড় শপিংমলে একাধিক স্বর্ণের দোকান দিয়েও সেই পরিচিতি পাওয়া যায় না। কারণ, সিনেমা শিল্পের জন্য অনেক পত্রপত্রিকা আছে। প্রতিটি জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনই স্থান পায় সিনেমার কথা। সেই তুলনায় পুরো বছরে একজন বিখ্যাত স্বর্ণ ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কিংবা ওষুধ কোম্পানির মালিক প্রচার পান কিনা সন্দেহ। এসব স্বার্থপর লোক নিজেদের স্বার্থে এক সময় চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করে এখন চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন। এখন যারা ছবি বানাচ্ছেন তাদের মধ্যে মনোয়ার হোসেন ডিপজল, এম এ জলিল অনন্ত ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ছাড়া সবার মুখেই কেবল ক্ষতির কথা। তারা অনেকেই হাত গুটিয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ অন্য ব্যবসায় মন দিয়েছেন। অতীতে চলচ্চিত্র থেকে দু’হাতে কামাই করার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। অথচ বর্তমানের ক’জন প্রযোজক কত টাকা নিয়ে চলচ্চিত্রে এসেছেন, কে কোন অবস্থা থেকে প্রযোজক হয়েছেন, কিংবা কে কত জায়গা থেকে ধারদেনা করে টাকা এনে ছবি বানাচ্ছেন এটা চলচ্চিত্র শিল্পের অজানা নয়। কে কত টাকার মালিক সেটাও সবার জানা। তাই প্রায় সবার মুখেই যখন ক্ষতির কথা শোনা যায়, তখন তাদের অতীত অবস্থানের কথা শুনে অবাক হতে হয়। যে হারে কেউ কেউ ক্ষতির কথা বলেন, তাতে তো তাদের সরাসরি পথে যাওয়ার কথা। কিন্তু ক’জন পথে বসেছেন? চলচ্চিত্রের একজন হিসেবে তারা দিব্যি আছেন। নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন, পিকনিকে যাচ্ছেন, মনের বাসনা পূর্ণ করছেন। কিন্তু ছবি নির্মাণের প্রশ্ন এলেই চলে আসে ক্ষতির কথা। শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। লাভের কথা কেউ বলেন না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to চলচ্চিত্রের বর্তমান সঙ্কট সবাই শুধু ক্ষতির কথা বলেন লাভের কথা কেউ বলেন না

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 11:02 am

    Good a single web site proprietor triumph weblog submit great sharings within this weblog usually have enjoyable

  2. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:23 pm

    I used to be looking for this blog survive a few days fantastic blog site proprietor fantastic posts every little thing is superb