Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মমতা কোন প্রতিশ্রুতিই দিলেন না মনমোহনের দূতকে

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংঘাত দিন দিন তীব্র হওয়ার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সব চুক্তির ভবিষ্যৎ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যেসব চুক্তি করতে আগ্রহী বা করেছে তার সবক’টির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা ছাড়া স্বাক্ষরিত চুক্তি যেমন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তেমনি সম্ভব নয় নতুন চুক্তি করা। আর তাই গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই কলকাতায় এসেছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির ব্যাপারে তার সহযোগিতা চাইতে। মহাকরণে মমতার সঙ্গে মাথাইয়ের এ বৈঠক দীর্ঘ ৫০ মিনিটের বেশি স্থায়ী। সূত্র জানায়, ভারতের ভূ-কৌশলগত স্বার্থের কথা যেমন মমতাকে জানানো হয়েছে তেমনি জানানো হয়েছে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের ভবিষ্যতের বিষয়টিও। বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরিত হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে রঞ্জন মাথাই বৃহত্তর কূটনৈতিক স্বার্থের দিকটিও তুলে ধরেন মমতার কাছে। কিন্তু মমতা প্রধানমন্ত্রীর দূতকে এক প্রকার ফিরিয়ে দিয়েছেন কোনও রকম প্রতিশ্রুতি না দিয়েই। মহাকরণে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাথাই কিছুই বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয় নিয়েও। আলোচনাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ বললেও মাথাইয়ের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি তাকে সমর্থন করেনি। আর মমতাও মহাকরণ ছেড়ে যাওয়ার আগে এই বৈঠককে রুটিন বৈঠক বলে অভিহিত করেন। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে মমতা আগেই আপত্তি তুলে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন। তবে ফারাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে বেশি পানি চলে যাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে বিষয়টি ক্ষুব্ধ করেছে মমতাকে। কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নেয়াকেও মমতা মেনে নিতে পারেননি। আর এ ফরাক্কা ইস্যুতে মমতা যেভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শুধু পানির হিস্যার প্রশ্নেই নয়, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি নিয়েও মমতা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সমপ্রতি তিনি বলেছেন, রাজ্যের পানি বা জমি চলে যাক এটা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি মেনে নিতে পারবেন না। নেহরুর কূটনীতি অনুসরণ করে জমি দিয়ে শান্তি কেনার যে তার কোনও দায় নেই সে কথাও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির ব্যাপারে মমতার কঠোর অবস্থান রাজ্যের স্বার্থে হলেও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কেন্দ্রের সঙ্গে মমতার সংঘাতের রাজনীতিও। খুচরো ব্যবসায় বিদেশী লগ্নী থেকে শুরু করে লোকপাল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সমপ্রতি জাতীয় সন্ত্রাস কেন্দ্র গঠনের নামে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে- এই অভিযোগ তুলে মমতা আবার প্রধানমন্ত্রীকে পত্রবোমা দিয়েছেন। ভারতের অন্য ছয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এরা প্রায় সকলেই কংগ্রেসের বিরোধী। অবশ্য একে অনেকে রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বলে জানিয়েছেন। গতকালই কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলেও মমতা সে অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছেন। আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক হওয়া সত্ত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। উত্তরপ্রদেশসহ ছয় রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এই সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে কংগ্রেস মোটামুটি ভাল ফল করতে পারলে মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট অনিবার্য। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জেহাদের বিরুদ্ধে তখন সরব হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাড়বে। আর এ সংঘাত যত বাড়বে তার ছায়া পড়বে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট