Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ব্লেকের সফর: মূল আলোচনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে কি সরকার নমনীয় হয়েছে? কিংবা এই বিষয়টি নিয়ে সরকার কি বিকল্প কোনো কিছু ভাবছে? গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক কথাবার্তায় এই প্রশ্নগুলো ওঠে এসেছে। বিশেষ করে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকের ঢাকা সফরের পর রাজনীতির আলোচনা আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে৷

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক ক’দিন আগে সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে যদি আপত্তি থাকে তাহলে নির্দলীয় সরকার হতে পারে। এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া চাঁদপুরে গিয়ে একই ধরনের কথা বলেন। এর অর্থ একটাই, দলীয় পর্যায়ে বিএনপি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।

এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। এই যোগাযোগের কথা দু’দলের নেতারাই মিডিয়ার কাছে স্বীকার করেছেন। খবর বেরিয়েছে, প্রভাবশালী কয়েকটি দূতাবাসের মাধ্যমেও এই দুই দলের নেতাদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কূটনীতিকরা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছেন না। তারা ধরেই নিয়েছেন এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর প্রধান বিরোধী দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না গেলে তা যে গ্রহণযোগ্য হবে না- তা সরকারি দলও উপলব্ধি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বিরোধ বিরাজমান- তার মূল বিষয় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর সমাধান হলে রাজনৈতিক বিরোধের মাত্রা কমে যাবে। হয়তো তখন বিরোধী দল সংসদেও যেতে পারে।

খালেদা জিয়া মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লেক’র কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া মার্কিন কূটনীতিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর তার দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী সাধারণ নির্বাচন করার বিকল্প প্রস্তাব তাদের কাছে রয়েছে৷

মওদুদ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ঘোষণা করেন আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় সকারের অধীনে তাহলে তারা বিকল্প প্রস্তাব দেবেন সংসদে গিয়ে৷ জবাবে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, সরকার নির্বাচন করে না, নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন৷ বিরোধী দলের কাছে ভালো কোনো প্রস্তাব থাকলে তারা তা সংসদে গিয়ে বলতে পারে৷ ভালো প্রস্তাব গ্রহণে সরকারের কোনো আপত্তি নেই৷

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, “আসল ব্যাপার হলো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা৷ সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হয়েও অন্য যেকোনো নামে হতে পারে৷ তিনি দাবি করেন, সংবিধানেই তার ব্যবস্থা রয়েছে৷ ১৯৯৬ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আওয়ামী লীগের ফর্মুলায়ই পাশ হয়েছিল৷ যা এখন বাতিল করা হয়েছে৷”

নির্দলীয় সরকারের প্রধান সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি নাও হতে পারেন৷ তাদের কাছে এবিষয়ে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব আছে৷ কিন্তু সরকারকে আগে নিশ্চিত করতে হবে আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে৷ তবেই বিএনপি বিকল্প প্রস্তাবগুলো সংসদে তুলে ধরতে পারে৷

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “আর এই উদ্যোগ নিতে হবে দুই দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে৷ প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হবে আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে৷ তার দাবি, দুই দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যাপারে একমত৷”

এর জবাবে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “সরকার নির্বাচন করে না, নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন৷ বিরোধী দলের কাছে ভালো কোনো প্রস্তাব থাকলে তারা তা সংসদে গিয়ে বলতে পারে৷ ভালো প্রস্তাব গ্রহণে সরকারের কোনো আপত্তি নেই৷”

তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকের কথায় বাংলাদেশ চলবে না৷ বাংলাদেশ চলবে এদেশের নিয়ম নীতি অনুযায়ী৷”

বার্তা২৪

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট