Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের রায় : জামায়াতের আপিল

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চের দুই বিচারপতি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে মত দেন। একজন বিচারপতি তাদের সাথে দ্বিমত করেন। তবে কোন বিচারপতি দ্বিমত পোষণ করেছেন তা জানা যায়নি।

তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক।

আদালত তার রায়ে নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধনকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহিভূত হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত জামায়াতকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন। ফলে আপিল করায় আপিল বিভাগের আর আনুমোতির প্রয়োজন পড়বেনি।

এদিকে রায় ঘোষণার পর পরই হাই কোর্টেও রায়ের বিরোধিতা করে আপিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। তারা আপিল শুনানির জন্য তারিখও চেয়ে ছিল। কিন্তু আদালত সে ব্যপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

পরে প্রতিক্রিয়ায় দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আদালত একটি ভুল ও ন্যায় ভ্রষ্ট রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে আইন অনুযায়ী যে কোনো নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিতে পারবে। এতে আইনী কেনো বাঁধা নেই।

রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মহসিন রশিদ ও অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল এমকে রহমান বলেন সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের এ রায়ের ফলে এখন থেকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেল। জামায়াত তাদের প্রতীক দাড়িঁপাল্লা নিয়ে কোন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে সভা সমাবেশ রাজনৈতিক কর্মসুচি পালন করতে পারবে। যেমনটি গণজাগরণমঞ্চ করছে।

তিনি বলেন, এ রায়ের পর নিবার্চন কমিশনের আর কিছুই করার নাই। তবে আপিল বিভাগ যদি রায় স্থগিত করে জামায়াত আগের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মকান্ড পরিচালিত করতে পারবে। স্থগিতাদেশের জন্য জামায়াতকে আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে রায়ের জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এ রায় আইনগত কোন ভিত্তি নাই। রায়টি অবৈধ। আদালত যেহেতু আপিল করার অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।

গত ১২ জুন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর  শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে দেয় আদালত।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন আবেদনকারী ২০০৯ সালে রিটটি দায়ের করেন।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানী শেষ করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। এরপর ইসি’র পক্ষে শুনানী করেন আইনজীবী মহসীন রশিদ। আর জামায়াতের পক্ষে শুনানী করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

গত ১০মার্চ বিষয়টির ওপর শুনানীর জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেয় প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।

এর আগে রিট আবেদনটিতে সাংবিধানিক ও আইনের প্রশ্ন জড়িত থাকায় বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানীর জন্য আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেয় বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রাথমিক শুনানীর পর ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি আবদুল হাইয়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টির ওপর সংশ্লিষ্টদের প্রতি কারণ দর্শাতে রুল জারি করে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সঙ্গে পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না-রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইসি সচিবকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলে বলা হয়। পরে রুলটি বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে যায়। সেখানে আংশিক শুনানীর মধ্যেই ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হয়ে যায়।

রিট আবেদনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধান পরিপন্থী বলে দাবী করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, চার কারণে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন পেতে পারে না।

কারনগুলো হলো-
১. জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস বলে মনে করে না। সেইসঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না।

২. গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সামপ্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। অথচ কাজে কর্মে ও বিশ্বাসে জামায়াত একটি সামপ্রদায়িক দল।

৩. নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না।

৪. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে অনুযায়ী কোনো দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে তাদের জন্ম ভারতে। বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট