Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিটিআরসি’র ৯০০ কোটি টাকা রাজনৈতিক মদতপুষ্টদের পকেটে

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন গেটওয়ে অপারেটর্সের (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বেশির ভাগেরই উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে। আর তার বলি হচ্ছে দেশের টেলিকম খাত। আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন। নির্ধারিত রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ক্ষেত্রে চলছে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এ মালিকদের কাছে ৯৪৭ কোটি টাকা পাওনা বিটিআরসি’র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কল করার ক্ষেত্রে কল চার্জ মিনিট প্রতি দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা আড়াই টাকা। আইজিডব্লিউ’য়ের মাধ্যমেই এ আন্তর্জাতিক কলগুলো করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিটিআরসি’কে এর ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ অর্থ প্রদানের শর্ত থাকলেও, তা একেবারেই মানা হচ্ছে না। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে বাংলাদেশে আইজিডব্লিউ প্রথম যাত্রা শুরু করে। সে সময় নিলাম আহ্বানের মাধ্যমে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরও ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে। আর এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগের মালিকানায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের মদতপুষ্ট ব্যক্তিত্বরা। শীর্ষস্থানীয় এক টেলিকম কর্মকর্তা নাম না জানানোর শর্তে বলেছেন, এ ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। কমিশনের সদিচ্ছা থাকার পরও বিটিআরসি এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারছে না। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এর মূল কারণ মালিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র। ভিশন টেল লিমিটেড বিটিআরসি’র ৯ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। ক্লাউড টেল লিমিটেডের এক সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে ভিশন টেল। প্রতিষ্ঠানটির দুই জন মালিকের একজন হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এক মেয়ে। রাতুল টেলিকম লিমিটেডের কাছে বিটিআরসি’র পাওনা ৭ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক তনয়া সৈয়দা আমরিন রাখি এ প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্ণধার। রূপায়ন গ্রুপের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি কেনা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেক অংশের মালিকানা রয়েছে রাখির নামে। নানকের স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানুরও ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে প্রতিষ্ঠনটির মালিকানায়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, রূপায়ন গ্রুপ আইজিডব্লিউ লাইসেন্স পেয়েছিল নানকের কল্যানেই। তিনি লবিং করার পরই লাইসেন্স মিলেছিল। এরপর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর কন্যা ও স্ত্রীকে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা দেয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ছিল মাত্র ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু গত ৬ মাসে প্রতিষ্ঠানটি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন অর্থ পরিশোধ করেনি। বারবার চেষ্টার পরও রাতুল টেলিকমের কর্মকর্তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মালিকানাধীন ফার্স্ট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিটিআরসি’র পাওনা ৪ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রতিষ্ঠানটির একটি অংশের শেয়ার কিনেছিলেন। প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীর ভাই সৈয়দ জওহর রিজভী ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স গেটওয়ে লিমিটেডের মালিক। আবার জওহর রিজভীর পুত্র নাসের রিজভীও প্রতিষ্ঠানটির একাংশের মালিক। বিরাট একটি অঙ্কের অর্থ তাদের কাছেও পাওনা বিটিআরসির। ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের রেফারেন্সের বদৌলতে ডিজিকন লাইসেন্স পেয়েছিল। বিটিআরসি’র একটি সূত্রে জানা গেছে ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন যে আবেদনটি পেশ করেছিল, তার ওপরের অংশে তাপসের নাম লেখা ছিল। আইজিডব্লিউ ব্যবসার আরেকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান বাংলা টেল লিমিটেড। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই মোজাম্মেল হোসেন রোকন এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। এ ব্যাপারে জানতে রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি জানান, রোকন আমার ভাই হতে পারে। কিন্তু আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, ব্যবসায় অন্য যে কারও মতো, তারও কিছু বড় ধরনের বকেয়া থাকতে পারে। আর বিটিআরসি সূত্রে বলা হচ্ছে, বড় এ বকেয়া প্রতি ৩ মাসে দ্বিগুন হচ্ছে। বিটিআরসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিশোধিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। অথচ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যাংক থেকে জামানতের সাড়ে সাত কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিল। এ বছরের মার্চের অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ শ’ ৩৩ কোটিতে। শেষ অর্থবছরে গত জুন মাসে বকেয়া অর্থের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে ৯ শ’ ৪৭ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বার্ষিক লাইসেন্স ফি’র সাড়ে ৭ কোটি টাকাও দিতে অপারগতা জানায়। কর্মকর্তারা বলছেন, বহু আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে বকেয়া পরিশোধের ন্যূনতম ইচ্ছাও প্রকাশ করছে না। যার অর্থ লাগামহীন এ বকেয়া বাড়বে আরও বহুগুন। পুরনো আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন মালিক অভিযোগ এনেছেন, নতুন অপারেটররা সরকার নির্ধারিত প্রতি মিনিটে দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা আড়াই টাকা রেটও বজায় রাখছে না। তারা আরও কম কলরেট রাখছে যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে জাতীয় রাজস্বতে। ব্যবসাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাশালী ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকে তাদের কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধও করে দিয়েছেন। এমনই একটি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের মালিক জানালেন, সিঙ্গাপুরকে মাসিক ৫ হাজার ডলার দেয়ার অবস্থা নেই আমাদের। তাই এ সরকারের শাসনামলের শেষ কয়েক মাস আমাদের ব্যবসা বন্ধ রাখার চিন্তা করছি। টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটরস অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন বলছেন, বহু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ায় কোন শৃঙ্খলা নেই। আমার ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে কোন কোন আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না।  তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়াতে হবে। এদিকে ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে চিন্তা করেছি। আপনারা খুব শিগগিরই কিছু সমাধান পাবেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বসু বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের কাছে ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ বিষয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট