Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সন্দেহভাজনরা নজরদারিতে, আলামত নষ্ট করে গেছে খুনিরা

তোহুর আহমদ: পালিয়ে যাওয়ার আগে হাত ও পায়ের ছাপও নষ্ট করেছে খুনিরা। সে কারণেই ঘটনাস্থল থেকে ফুট প্রিন্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট উদ্ধার করা যায়নি। সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, খুনিরা হত্যাকাণ্ডের পর আলামত নষ্ট করেছে। তারা কোন ধরনের আলামতই সেখানে রেখে যায়নি। ওদিকে খুনিরা হত্যাকাণ্ডের পর রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করে সাগরের পোশাক পরে বেরিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে পোশাক পরিবর্তন করে সেগুলোও তারা নিয়ে গেছে। বলা হচ্ছে হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুনিদের পরিষ্কার ধারণা থেকেই তারা এটি করেছে। গতকাল সিআইডি’র এক কর্মকর্তা বলেন, সেখান থেকে হাত ও পায়ের বেশ কিছু ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষাগারে নিয়ে ছাপগুলো স্পষ্ট করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটিও রক্তে ভিজিয়ে দেয়া হয়েছিল। ফলে সেখানে হাতের ছাপ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুলিশ আসার আগেই অনেক ব্যক্তি ওই ঘরে ঢুকেছিল। ফলে পায়ের ছাপও নষ্ট হয়ে গেছে। ওদিকে গতকাল ডিসি (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
১৫ আলামত: গতকাল সিআইডি তাদের সংগৃহীত আলামতের রিপোর্ট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে। সিআইডি’র একজন কর্মকর্তা জানান, রিপোর্ট তৈরি করে সিলগালা করে সেটি ডিবি কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। রিপোর্টে কি ধরনের উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ১৫ ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো কয়েকটি ক্যাটিগরিতে ভাগ করে পৃথক পৃথকভাবে ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু কোন আলামত থেকেই খুনিদের চিহ্নিত করার মতো তথ্য উদ্ধার করা যায়নি। এ কারণেই দ্বিতীয় দফা আলামত সংগ্রহ  করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, সাগর-রুনি’র রক্তমাখা পোশাক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল ধস্তাধস্তিতে হয়তো তাদের পোশাকে খুনিদের রক্তও লেগে থাকতে পারে। কিন্তু সেখান থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। সিআইডি’র ওই কর্মকর্তা জানান, লাশ উদ্ধারের আগে ওই কক্ষে সিআইডি’র সঙ্গে থানা পুলিশও ছিল। তারাও কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। যোগাযোগ করা হলে শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা যে সব আলামত সংগ্রহ করেছিলাম সেগুলোও পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠিয়েছি।
নজরদারি: ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গতকাল মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ কথা বলেন। কতজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সংখ্যাটা আমরা জানাতে চাই না। তবে এ সংখ্যা ৩-এর বেশি হবে। যাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে কোন মিডিয়াকর্মী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্দেহের তালিকায় অনেকেই আছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৩ জনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-কমিশনার বলেন, আমরা কাউকে আটক করিনি। অন্য কোন সংস্থা করে থাকলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) এবং (দক্ষিণ) দু’টি বিভাগই কাজ করছে।
রুনি’র মৃত্যু আগে: গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি সাগরের স্ত্রী  মেহেরুন রুনি’র মৃত্যু আগে হয়েছে। সাগর সরওয়ারের মৃত্যু ঘটেছে পরে। অবশ্য এর আগে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক সোহেল মাহমুদ জানিয়েছিলেন মৃত্যুর ৬-৭ ঘণ্টা পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নিয়ে যাওয়ায় কার আগে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।
১৫ বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ: রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর বাড়ির কয়েকটি ফ্ল্যাটের ১৫ বাসিন্দাকে বুধবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিক এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুন্নবীকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল যোগাযোগ করা হলে নুরুন্নবী বলেন, আমার কাছে পুলিশ জানতে চায় আমি কখন কান্নার আওয়াজ শুনেছি। কেউ তখনও বের হয়নি। আমি তাদের বলেছি ভোরের দিকে আমি ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনে দারোয়ানকে খোঁজ নিতে বলি। দারোয়ান ১০-১৫ মিনিট পর আমাকে জানায়, আমাদের বিল্ডিংয়ে কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সে বলে অন্য বিল্ডিংয়ে কোন বাচ্চা হয়তো কাঁদছে। এরপর আমি ঘুমাতে চলে যাই। বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পারায় আর আগ্রহ দেখাইনি। পুলিশকে এসবই বলেছি। এছাড়া, বাড়ির আরও ১৫ বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের সবার মোবাইল ফোন নম্বরও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ- পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে যারা বাস করছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সেটি আনুষ্ঠানিক ইন্টারোগেশন নয়।
কয়েকজন মিডিয়া কর্মীর ফোন বন্ধ: উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই বেশ কয়েকজন মিডিয়াকর্মীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে রুনি’র কর্মস্থলের কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়টি এখন আমরা বলতে চাই না। যাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ইউটার্ন: এদিকে নৃশংস এই জোড়া খুনের ৫ দিন পর ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার রাতে সাংবাদিক দম্পতির ফ্ল্যাটে চোর ঢুকেছিল বলে প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার রাতে ওই ফ্ল্যাটে কিভাবে চোর ঢুকেছিল তার একটি মহড়াও দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল ৬-৭ বছরের একটি রোগা শিশুকে ৫ তলার ওই ফ্ল্যাটের বারান্দার কাটা গ্রিলের ফোকর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে। সাগর-রুনি দম্পতির ফ্ল্যাটের পাশের ভবন বেয়ে কেউ পাঁচ তলায় উঠতে পারে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন গোয়েন্দারা। একজনকে ‘চোর’ সাজিয়ে পাশের ভবন থেকে রশিদ লজের পাঁচ তলার পেছনে রান্নাঘরের বারান্দার গ্রিলের ভাঙা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হয়। ওই ভাঙা অংশ দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসা সম্ভব- তা-ও নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। সেখানে উপস্থিত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, এটা শেষ পর্যন্ত চুরির ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো চুরি করতে এসেই দুর্বৃত্তরা প্রথমে রুনিকে খুন করে। পরে সাগর বাসায় ঢুকলে তাকেও খুন করা হয়। তারা জানান, ফ্ল্যাটের কার্নিশে একটি স্যান্ডেল পাওয়া গেছে। এছাড়া, পায়ের ছাপও রয়েছে। ওই নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।
মোবাইল ফোন কল: তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল ফোনই এখন তদন্তের একমাত্র ভরসা। মৃত্যুর আগে সাগর বা রুনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ঘটনার আগে-পরে তারা কাদের সঙ্গে কি কি কথা বলেছিলেন তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কথোপকথনের সূত্র ধরে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সূত্র।
গত ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার ৬ দিন পরও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অবশ্য পুলিশ বলছে যে কোন সময় তারা খুনিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to সন্দেহভাজনরা নজরদারিতে, আলামত নষ্ট করে গেছে খুনিরা

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 10:44 am

    Definitely vital submit admin wonderful one i bookmarked your word wide web page see you in subsequent blog put up.

  2. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:21 pm

    Greetings thanks for excellent publish i was browsing for this concern final two nights. I’ll look for next valuable posts. Have fun admin.