Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা দিলে ব্যবস্থা – সংসদে প্রস্তাব পাস

সংসদ রিপোর্টার: এমপিদের চাপে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদ। এর আগে ওই ইস্যু নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। তীব্র হৈচৈ, হট্টগোল ও প্রবল দাবির মুখে প্রায় ২০ মিনিট সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ তড়িঘড়ি ডেপুটি স্পিকারকে সরিয়ে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এর ৫ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে সরকারি দলের এমপি বেনজীর আহমেদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যে বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে বক্তব্য রাখেন। আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম দেশের প্রচলিত আইনেই বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেয়ার অনুরোধ জানানো মাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এদিকে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটির ওপর ‘অবিলম্বে’ শব্দটি সংযোজন করে ১০ এমপি সংশোধনী দিলে কণ্ঠভোটে এসব সংশোধনীসহ প্রস্তাবটি পাস হয়। বেনজীর আহমেদ তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যেভাবে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে তাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে কোন না কোনভাবে বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজাকার-আলবদর-আলশামসের প্রধান নেতা এখন কারাগারে। এরা এখন দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টায় আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া। রোড মার্চে সিলেটে গিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের যুদ্ধাপরাধী বলা যাবে না।
বেনজীরের প্রস্তাব সমর্থন করেন মোট ১০ জন সংসদ সদস্য। তারা হলেন- মো. শহীদুজ্জামান সরকার, ইসরাফিল আলম, অপু উকিল, মুজিবুল হক, সানজিদা খানম, ফরিদুন্নাহার লাইলী, মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন, নাজমা আক্তার, আবদুর রহমান ও গোলাম দস্তগীর গাজী। প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী মার্চের মধ্যে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এছাড়া ইতিমধ্যে সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও পাস করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তকারীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার আপাতত বাধাগ্রস্তকারীদের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করছে। তবে এ নমনীয়ভাব থাকবে না। অবিলম্বে বাধাগ্রস্তকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এ ব্যাপারে নতুন কোন আইন প্রণয়ন করার কোন প্রয়োজন নেই, প্রচলিত আইনেই বিচার করা সম্ভব। এ সময় আইন প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেনজীর আহমদকে তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। সঙ্গে সঙ্গে মহাজোটের সব সংসদ সদস্য একযোগে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। ডেপুটি স্পিকার এ সময় প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ অনুযায়ী প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের জন্য ভোটে দিলে একজনও সেই ভোটে অংশ নেননি। উল্টো তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন সবাই। হৈচৈ ও বাগবিতণ্ডার মধ্যে আইন প্রতিমন্ত্রী আবারও বক্তব্য দিতে উঠলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বসে পড়েন। এ সময় এমপিদের দাবির মুখে ডেপুটি স্পিকার সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য এডভোকেট ফজলে রাব্বিকে ফ্লোর দিতে বাধ্য হন। ফজলে রাব্বি দাঁড়িয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা ৩০ লাখ সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। যুদ্ধাপরাধীরা ওই সময় প্রকাশ্য আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। আর জাতীয় সংসদেই সর্বসম্মতক্রমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পাস হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল এ বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। এখন প্রস্তাবটি সংসদে প্রত্যাহার করা হলে যারা যুদ্ধাপরাধী, যাদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য চলছে, যারা এ বিচারকার্যকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়- তারা সুযোগ পাবে। ষড়যন্ত্রকারীরা উৎসাহিত হবে। প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে এ সংসদকে অবমাননা করা হবে। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা একযোগে টেবিল চাপড়িয়ে ফজলে রাব্বিকে সমর্থন জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দাঁড়িয়ে বলেন, এ প্রস্তাবটি প্রত্যাহার নয়, যতদিন পর্যন্ত না যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হয় ততদিন পর্যন্ত প্রস্তাবটি স্থগিত রাখা যেতে পারে। তাই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা উচিত হবে না। এ সময় সংসদের প্রধান হুইপ বলেন, এ প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য নিজেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। এখন এটি গ্রহণ বা প্রত্যাহার করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ স্পিকারের। এ সময় আবারও ফজলে রাব্বিসহ সব সংসদ সদস্য একযোগে দাঁড়িয়ে এর বিরোধিতা করেন। তীব্র হৈচৈ, বাগবিতণ্ডার মধ্যে ৫টা ৪০ মিনিটে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ প্রবেশ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। বেশির ভাগ সদস্যই প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেনজীর আহমদকে তার প্রস্তাব প্রত্যাহার না করার জন্য চাপ দেন। স্পিকার সভাপতির আসনে বসেই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার নাকি গৃহীত হবে- এ নিয়ে ভোটাভুটির প্রস্তাব দিলে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তা সমর্থন জানান। স্পিকার বলেন, মন্ত্রী বললেও প্রস্তাবটি আমি ভোটে দেবো। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে যদি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবে গৃহীত হবে, আর প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার হবে। এ নিয়ে প্রতিবাদের কিছু নেই। এ সময় স্পিকার প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেনজীর আহমদকে ফ্লোর দিয়ে জানতে চান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিতে চান কিনা। জবাবে বেনজীর আহমদ বলেন, আমি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিতে চাই না। আমি যে প্রস্তাবটি এই মহান সংসদে এনেছি তা দেশের মানুষের ৪০ বছরের পুঞ্জীভূত দুঃখ-বেদনার বহিঃপ্রকাশ। এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করার জন্য আমি মহান সংসদে দাবি রাখছি। এ পর্যায়ে প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। ‘হ্যাঁ’ সূচক ধ্বনিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। এমনকি প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধকারী আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামও ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট