Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জেলা পর্যায়ে বিএনএফ’র অস্তিত্ব না পেয়ে ইসি হতাশ

সরকারের অতি আগ্রহে জিয়াউর রহমানের আদর্শের দাবিদার গমের শীষ প্রতীক ব্যবহারকারী বিতর্কিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে (বিএনএফ) নিবন্ধন দিতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি ইসির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দায়িত্বশীল সূত্র  নিশ্চিত করেছে।

মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দলের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ায় ও মন মতো রিপোর্ট না হওয়ায় স্বয়ং ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছে কমিশন। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃতদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। নিয়মকানুন ও আইনের তোয়াক্কা না করেই এ দলকে নিবন্ধন দিতে যাচ্ছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির অভিযোগের কারণে কমিশন বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে। বিএনএফকে নিবন্ধন দিলেও তাদের লগো গমের শীষ দেয়া হবে না এমন কথা শোনা যাচেছ কমিশন কর্মকর্তাদের মাঝে।

এর আগে গত ১১ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে বিএনএফকে নিবন্ধন না দিতে অনুরোধ করে। এসময় তারা সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাকে এ কাজের সাথে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করেন। বিএনপি বলছে, বিএনএফকে নিবন্ধন দিতে সরকার তার গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়েছে।

গত ২১ জুলাই আবারো ইসিতে গিয়ে এমকে আনোয়ার একই অভিযোগ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় দলের নাম, লগো ও কর্মসূচি নকল করে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ’ নামে আরেকটি নতুন দল গঠন করা হয়েছে। দলটি নিবন্ধনের জন্য ইসিতে আবেদনও করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নাম, লগো, কর্মসূচি, প্যাড হুবহু নকল করে বিএনএফ নামে নতুন দল গঠন করা হয়েছে। বিগত বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আছেন আবুল কালাম আজাদ। এ দলের নির্বাচনী প্রতীক হচ্ছে গমের শীষ।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি, ছবি ও লগো হুবহু নকল করে পোস্টার ও লিফলেট করা হয়েছে। যা দেখতে বিএনপির মতো। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এ কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা মূলত মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপির কাছাকাছি একটি দল গঠন করতে চাচ্ছে। কমিশন যাতে বিভ্রান্ত হয়ে এ দলকে নিবন্ধন না দেয় সেজন্য সিইসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এমকে আনোয়ার আরো বলেন, ১/১১-এর সময়ও ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপিকে ভাঙ্গার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। এখনও তারা সফল হবে না। সেনাসমর্থিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপিকে ‘ভেঙ্গে’ একাংশকে ইসি সংলাপে ডেকেছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

কমিশনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই না গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের মতো ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক। যদি করতে হয় তাহলে তা হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, আমরা তাদের তথ্য উপাত্ত থেকে বুঝেছি যে, কমিশনের শর্ত অনুযায়ী দলটির উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিস নেই। তারা আমাদের লগো ও প্রতীক নকল করে অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছে।

এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হয়নি। বিএনএফ ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পুনঃতদন্তের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে কমিশনের আরেকটা বৈঠক হবে। তখন দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। কারো কোনো আপত্তি থাকলে তখন জানাতে পারবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো এক থেকে দেড় মাস লাগবে বলেও তিনি জানান।

ইসির তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্রের সাথে জমা দেয়া ৩৬টি জেলার ১৭টিতে এ দলের অস্তিত্ব ও কার্যক্রম কোনোটিই পাওয়া যায়নি। চারটিতে সামান্য অস্তিত্ব থাকলেও কার্যক্রম নেই। বাকি ১৫টিতে অস্তিত্ব ক্ষীণ। অস্তিত্ব পাওয়া এসব জেলা হলো-চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, কঙবাজার, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, শেরপুর, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী ও জামালপুর।

এছাড়া বিএনএফের একটি কেন্দ্রীয় দপ্তর পাওয়া গেছে। কিন্তু এর কার্যক্রম নেই বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসির কর্মর্কাদের দেয়া উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আবেদনপত্রের সাথে জমা দেয়া ১৩৪টি উপজেলার মধ্যে ৯৭টি উপজেলায় কোনো অস্তিত্ব ও কার্যক্রম পাওয়া যায়নি। ৫টিতে অস্তিত্ব থাকলেও কার্যক্রম নেই। বাকি ৩২টি উপজেলায় অস্তিত্ব রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের প্রতীক তালিকাতে ১৪০ টি প্রতীক রয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি অথচ এই দলকে নতুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার কথা হচ্ছে। এটা মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।

তিনি বলেন, কমিশন যেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে যাতে আমাদের কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। সময় থাকতে কমিশনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয় সোমবার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জাস্ট নিউজকে বলেন, এখনো নতুন কাউকে আমরা নিবন্ধন দেইনি। নিবন্ধন পেলেই বিএনএফকে প্রতীক দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির এই যোক্তিক দাবির দিকে আমরা নজর রাখবো। না হলে যদি বিএনএফকে গমের শীষ দেয়া হয় তাহলে বিএনপির জন্য জাতীয় নির্বাচনে সমস্যা হতে পারে। আমরা কারো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে এখানে বসিনি।

প্রতীক বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাস্তবতার বাইরে ইসি কোনো কাজ করবে না। দুই দলের প্রতীক এক হবে, তা কখনো সম্ভব নয়। তবে এব্যাপারে কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

কোনো রাজনৈতিক দল চাইলেই তাদের নিবন্ধন দিতে হবে, তা মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। তিনি বলেন, বিএনএফ ছাড়াও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট সম্পর্কে কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ দল সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আবুল কালামকে বিএনএফ’র প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে সহ-সমন্বয়ক করে এ বছরের ২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে বিএনএফ। দলের পোস্টারে জিয়াউর রহমান এবং ধান গাছ ও সবুজ জমিনে দলীয় পতাকা ব্যবহার করছে দলটি। গত বছরের ৭ নভেম্বর কাজ শুরু করে বিএনএফ।

বিএনপির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন বিএনএফ’র সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জাস্ট নিউজকে বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শেই তিনি নয়া দল প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ছয়টি দলের সমন্বয়ে (ন্যাপ ভাসানী, ছাত্তারের জাগ দল, শাহ আজিজের মুসলীম লীগ, কাজী জাফরের ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, লেবার পার্টি ও জাতীয় ফেডারেশন) ১৯৭৮ সালের ২ মে বিএনএফ আত্মপ্রকাশ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনএফ বিলুপ্ত না করেই ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। তিনি বলেন, আমি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। তবে প্রতীকের ব্যাপারে কোনো আবেদন করিনি। নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিলে আমরা প্রতীকের জন্য আবেদন করবো। নিবন্ধন পেলেই ইসির দেওয়া প্রতীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা রাখেন আবুল কালাম আজাদ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট