Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

খালেদা ইহুদিদের পত্রিকায় অপপ্রচার চালিয়ে অস্বীকার করছেন: প্রধানমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপি নেত্রী দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট ও অপপ্রচারে চ্যাম্পিয়ন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বিএনপি নেত্রী ইহুদিদের পরিচালিত পত্রিকায় বাংলাদেশের অপপ্রচার চালিয়ে সংসদে আবার তা অস্বীকার করেছেন।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে তিনি হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।”

শনিবার ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন ও ১৩০১ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পাঁচটি বিদ্যুত কেন্দ্রর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে সুধী সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিকই ইলাহী চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক এমপি, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয়  স্থায়ী কমিটির সভাপতি রআম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, বিদ্যু বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়।বিশ্বাঙ্গনে বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে, পুরস্কৃত হয়েছে। নারীরা ক্ষমতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সব সময়ই পরনির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। এটি দেশের কারো কারো কাছে পছন্দ না হলেও বিশ্ব প্রশংসা করছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের জন্য রোল মডেল।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় বিভিন্ন ভবন বানিয়ে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছিল।বিদেশে তা ধরা পড়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছে।”

বিরোধীদলীয় নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, “নিজের ছেলেকে কি শিক্ষা দিয়েছেন ?  উনি উনার ছেলেকে দিয়ে গ্রেনেড হামলা করে আইভী রহমানসহ অনেককে হত্যা করেছিল। আমাকেও হত্যার চেষ্টা করেছিল। দেশের ৫০০ স্থানে একসঙ্গে বোমা হামলা করেছিল। আহসান উল্লাহ মাস্টার ও এসএম কিবরিয়া সহ চারজন এমপিকে হত্যা করেছিল।”

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ তা অব্যাহত থাকবে। কেউ এ বিচার বন্ধ করতে পারবে না। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী হেফাজত ইসলাম প্রসঙ্গে বলেন, “হেফাজতে ইসলাম ইসলামের কথা বলে মসজিদে আগুন দিয়েছে, কুরআন শরিফ জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের কোথাও এক সঙ্গে এত কুরআন শরিফ পুড়ানোর ঘটনার নজির নেই। জামায়াত-বিএনপির ও হেফাজত মিলে এসব-কুরআন শরিফ পোড়ায়।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন তারা কি করে ইসলামের হেফাজত করবে। শেখ হাসিনা বলেন, “ ৫ মে হেফাজত ইসলাম যে তাণ্ডব চালিয়েছিল তা নজিরবিহীন। সারা দেশে মানুষ সে দিন আতঙ্কিত ছিল। কথন আমি বলেছি কি ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় আমার জানা আছে। র্যা ব পুলিশ ও বিজিবি হেফাজতের সঙ্গেই হেফাজত কর্মীদেরকে সরিয়ে দিয়েছিল। অথচ তারা মিথ্যাচার করে বলছে, যে আড়াই হাজার লোক হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি।”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘৭৫সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজ, আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দুতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করেছিল। পরবর্তীতে তার স্ত্রী বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী নিজামী-মুজাহীদকে মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চেষ্টা করছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আমরা যখন সরকারে আসি তখন বিদ্যুৎ ছিল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এই সাড়ে চার বছরে তিন হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। মোট উৎপাদন ক্ষমতা আট হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি। আরো ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। এগুলো থেকে ছয় হজার ৯৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। তিন হাজার ৯৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরো ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেনি। চলমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। ফলে উৎপাদন কমেছে।”

প্রধানমন্ত্রী  আরো বলেন, “আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। ভারত থেকে প্রথম পর্যায়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শিগগিরই শুরু হবে। দুই হাজার মেগাওয়াট পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। নেপাল ও ভূটান থেকে বিদ্যুত আমদানি করা হবে।”

তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম চালূ করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত, দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যপক উন্নয়ন করেছি। প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং তিন লাখ বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ৩২ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়িয়েছি। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন এবং শিল্পকারখানা ও বাসা-বাড়িতে এ গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,  “বাংলাদেশে সার্বিক উন্নয়নে আশুগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হল আশুগঞ্জ।”

দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে আশুগঞ্জকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ বন্দরের উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যেই আশুগঞ্জ বন্দরকে ’পোর্ট অব কল‘ ঘোষণা করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সোয়া ১০টায় আশুগঞ্জ পৌঁছেন এবং একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন ও পাঁচটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। পরে তিনি তাপ কেন্দ্র মাঠে সুধী সমাবেশে যোগ দেন। মহাজোট সরকারের আমলে এটি প্রধান মন্ত্রীর দ্বিতীয়বার আশুগঞ্জ সফর।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) কর্তৃক নির্মাণকৃত এক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন এবং নির্মিতব্য পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির অভ্যন্তরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নতুন ইউনিট নির্মিত হবে।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মিতব্য ইউনিটগুলো উৎপাদনে আসবে। এতে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট এবং এককভাবে জাতীয় গ্রিডে এ কেন্দ্র সরবরাহ করবে এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

জানা গেছে, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের নয়টি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭৮ মেগাওয়াট হলেও ইউনিট গুলি পুরাতন ও মেয়াদোর্ত্তীণ হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

নির্মিতব্য ইউনিটগুলো হচ্ছে- প্রতিটি ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প (নর্থ ও সাউথ), ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প, ৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন মিডল্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট ও ভাড়াভিত্তিক ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন মডিওলার পাওয়ার প্লান্ট। নতুন ইউনিট গুলি পর্যায়ক্রমে ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৬ জুনের মধ্যে উৎপাদনে আসলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে আরো এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বর্তমান সরকারের আমলে গত ২০১০ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রী আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রিসিশন এনার্জি লিমিটেড কর্তৃক নির্মিত ৫৫ মেগাওয়াট রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টেরও উদ্বোধন করেন।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল আলম বলেন, “নতুন ইউনিটগুলি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা এবং এগুলি ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে উৎপাদনে আসবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট