Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জামায়াত নিষিদ্ধ হয়নি, নাড়িভুঁড়ি বের করে দেয়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নামে পরিচিত অসুবিধাপূর্ণ দেশীয় আদালত দলটির শীর্ষ দুই নেতাকে তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য দণ্ড দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দলটির পাঁচ নেতা সাজা পেয়েছেন। তাদের কাউকে কারাদণ্ড এবং কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। যদিও জামায়াতকে এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে দলটির নাড়িভুঁড়ি বের করে নেয়া হয়েছে। লন্ডনের বিখ্যাত ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের আজ শনিবারের মুদ্রণ সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘বাংলাদেশী পলিটিকস, জামায়াত টুমরো, আফটার অ্যা লাল মোর ওয়ার ক্রামইস কনভিকশনস ফর অপোজিশন ফিগারস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দণ্ডের রায় বিস্ময়কর নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির বিশাল জামায়াতবিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ এ দণ্ডের দাবিতেই হয়েছিল, অন্য কিছুর জন্য নয়। এর আগে জামায়াত নেতাদের দণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে যে সহিংসতা হয়েছিল সে কারণে সম্ভবত দণ্ড ঘোষণায় বিলম্ব হয়েছে। জামায়াত এবং সমমনা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সামপ্রতিক দিনগুলোতে ১০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সহিংস প্রতিবাদ এবং মৃত্যুর পরও সরকারের রাজনৈতিক মাস্টাররা আশা করছেন রমজান মাসে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকবে। নির্বাচনের ঠিক ছয় মাস আগে রাজনীতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলে আসছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে বিএনপি ভাল ফল করেছে। কিন্তু বিএনপি দেখছে তার সংখ্যালগু রাজনৈতিক মিত্রকে দমন করার মাধ্যমে বিরোধী জোটকেই দুর্বল করা হচ্ছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যথায় প্রতিবাদ এবং হরতালের হুমকি দেয়া হয়েছে। সামনের ছয় মাস গত সময়ের মতো শান্তিপূর্ণ হবে না। দি ইকোনমিস্ট সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি, গার্মেন্ট এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন নিয়ে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত অবমাননার রুলও জারি করেন। আগামী ২৭শে আগস্ট ওই রুলের আদেশ দেয়ার কথা রয়েছে। পত্রিকাটির বাংলাদেশ সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে বুদ্ধিজীবী নিধনে নির্দেশনা দেয়ার কারণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামায়াতকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেয়া গোলাম আযমকে ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করেন। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ডেথ স্কোয়াড গঠনে সদস্য সরবরাহ করে যারা পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে অপরাধ সংঘটন করে। ১৫ই জুলাই ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ৯০ বছর কারাদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি মৃত্যুদণ্ড পাওয়ারই যোগ্য, তবুও বয়স এবং স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হলো। গোলাম আযমের আইনজীবী বলছেন, তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে শুধু স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য। দু’দিন পর ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের আরেক প্রখ্যাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের আমলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গণহত্যা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের অভিযোগে তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট