Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যে কারণে ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা গণহারে ফেল করছে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলে মেধার বিস্ফোরণ। বাড়ছে পাসের হার। সমানতালে বাড়ছে জিপিএ-৫। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা করছে গণহারে ফেল। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ৫৬ ভাগ। আর বিভাগ পরিবর্তনকারী ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া
শিক্ষার্থীদের ৯০ ভাগই ফেল করেছে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ ফেলের হার ছিল যথাক্রমে ৫২ ও ৬২ ভাগ। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে পাস নম্বর ৪৮। গত ৯ই মে ২০১৩ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তাতে সবক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড। পরীক্ষায় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩ ভাগ। যা ২০১২ সালের চেয়ে ২ দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৩৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড। ৯১ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ-৫। গত বছরের চেয়ে এ সংখ্যা ৯ হাজার ১৪ জন বেশি। ২০১২ সালে সব বোর্ড মিলে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮২ হাজার ২১২ জন। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। এসএসসি ও সমমান দু’টি পরীক্ষার ক্ষেত্রেই আগের রেকর্ড অতিক্রম করছে। প্রশ্ন উঠছে শিক্ষার্থীদের মেধা বাড়ছে নাকি পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষকরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাদের নির্দেশনা দেয়া থাকে যেন কোন পরীক্ষার্থী ফেল না করে। গত ৯ বছরের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে এ প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সার্বিক উন্নয়নের ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ছে। পরীক্ষকরা বলেছেন, কেউ যাতে পরীক্ষায় ফেল না করে ও বেশি নম্বর দিতে তাদের নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে। দেশের শিক্ষাবিদরা বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানো হচ্ছে। কে ভাল কে মন্দ তা বিবেচনা না করে গণহারে পাস করানো হচ্ছে। তাদের এ বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষে ক, খ ও গ ইউনিটে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ হাজার ৬৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৭৭৪ শিক্ষার্থী পাস নম্বরই পায়নি। আর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৯ হাজার ৮৬৮ জন। যা মোট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী জিপিএ-৫ ধারীর ৪৫ ভাগ। বাকি ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থীই পাস নম্বর ৪৮ পায়নি। ঢাবিতে ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ ফেলের হার ছিল যথাক্রমে ৫২ ও ৫৩ ভাগ।
ফখরুদ্দীনের আমল থেকেই বাম্পার ফল: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৪.১ ভাগ। ওই বছর সববোর্ডে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৫ লাখ ১০ হাজার ৭০২ জন। জিপিএ-৫ পায় ১৭ হাজার ২৯৪ জন। ২০০৬ সালে পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬২.২২ ভাগে। ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৬ লাখ ১৯ হাজার ১৮৬ জন। জিপিএ-৫ পায় ৩০ হাজার ৪৯০ জন। এরপর ক্ষমতায় ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮.৩৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পায় ৩২ হাজার ৬৪৬ জন। ২০০৬ সাল থেকে পাসের হার কমে যাওয়ায় নানা সমালোচনা হয়। নিজের ক্রেডিট বাড়াতে পরের বছর থেকে জ্যামিতিকহারে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে এক লাফে পাসের হার ৭২.১৮ ভাগ। ১০ লাখ ৬৫৬৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৩ জন। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। সববোর্ডে মোট ৫২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। যা আগের বছরের চেয়ে ১৯ হাজার ৮৫৪ জন বেশি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাড়তে থাকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এরপর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। সাবেক বামপন্থি নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ পান শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব। এরপরের বছর থেকে রীতিমতো পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়ানোর হিড়িক পড়ে যায়। ফখরুদ্দীন সরকারের ন্যায় মহাজোট সরকারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই মনোযোগ দেয়। ২০০৯ সালে পাসের হার আগের বছরের চেয়ে কিছু কমে ৭০.৮৯ ভাগ। ১০ লাখ ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৮ জন। তবে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বেড়ে যায় প্রায় ১০ হাজার। মোট ৬২ হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। ২০১০ সালে পাসের হার ৭৯.৯৮ ভাগ। যা আগের বছরের চেয়ে ৯ ভাগেরও বেশি। ২০১০ সালে ১২ লাখ ৯৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ৯ লাখ ৬৪৯২ জন। এ বছর জিপিএ-৫ এর ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয় নতুন চমক। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৮২ হাজার ৯৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। ২০১১ সালে পাসের হার ৮২.৩১ ভাগ। ১৩ লাখ ৭১৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮৬ জন। জিপিএ-৫ পায় ৭৬ হাজার ৭৪৯ জন। ২০১২ সালে পাসের হার ৮৬.৩৭ ভাগ। ১৪ লাখ ১২ হাজার ৩৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন। জিপিএ-৫ পায় ৮২ হাজার ৮২ হাজার ২১২ জন। ২০১৩ সালে পাসের হার ৮৯.০৩ ভাগ। ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৮ জন। মোট জিপিএ-৫ পায় ৯১ হাজার ২২ ৬ জন। যা আগের বছরের চেয়ে ৯ হাজার ১৪ জন বেশি।
এইচএসসিতেও একই অবস্থা: ২০০৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫.৬৫ ভাগ। ৫ লাখ ১০ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী পায়ক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৪ জন। সববোর্ড মিলে জিপিএ-৫ পায় ৯৮৬৪ জন। ২০০৭ সালে পাসের হার ৬৫.৬০ ভাগ। জিপিএ-৫ পায় ১১ হাজার ১৪০ জন। ২০০৮ সালে হঠাৎ করেই পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬.১৯ ভাগে। মোট ৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭০ জন। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৪৫ জনে। ২০০৯ সালে পাসের হার একটু কমে দাঁড়ায় ৭২.৭৮ ভাগে। এতে কিছু সমালোচনা হয়। এবছর জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমে দাঁড়ায় ২০ হাজার ১৩৬ জনে। ২০১০ সালে পাসের হার ৭৪.২৮ ভাগ। মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৯ জন। জিপিএ-৫ পায় ২৮ হাজার ৬৭১ জন। ২০১১ সালে পাসের হার ৭৫.০৮ ভাগ। এ বছর ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন। জিপিএ-৫ পায় ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন। ২০১২ সালে পাসের হার ৭৮.৬৭ ভাগ। এবছর ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৭৯ জন। জিপিএ-৫ পায় রেকর্ডসংখ্যক ৬১ হাজার ১৬২ জন। ২০১৩ সালের ফল অপেক্ষামাণ রয়েছে।
উদারভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্দেশ: ফেল করলে পাস নম্বর ও উদারভাবে এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্দেশ দেয়া হয় পরীক্ষকদের। এছাড়া একটি প্রশ্নের কিছু অংশ লিখলেও পুরো নম্বর দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় পরীক্ষকদের। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে পরীক্ষকদের এ নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া প্রধান পরীক্ষক ও সহকারী পরীক্ষকদের নিয়ে করা বৈঠকেও একই ধরনের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া প্রশ্নের উত্তরে কিছু লিখলেই পুরো নম্বর দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বিখ্যাত স্কুলের শিক্ষক ও ঢাকা বোর্ডের পদার্থ বিজ্ঞানের একজন প্রধান পরীক্ষক মানবজমিনকে বলেন, আমার নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার উত্তরপত্র মূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু আমরা সঠিকভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারিনি। ওই পরীক্ষক বলেন, ওই ৮ হাজার উত্তরপত্রে একজনও ফেল করেনি। আমাদের আগেই নির্দেশ দেয়া হয় ‘ফেল করলে পাস নম্বর দিতে’। এছাড়া একটু লিখলেও পুরো নম্বর দিতে বলা হয়। এ কারণেই আকাশচুম্বী ফল হয়েছে। ওই পরীক্ষক বলেন, বোর্ডের নির্দেশ মতো কাজ না করলে আমাদের নানা সমস্যা আছে। পরের বছর আর উত্তরপত্র দেয়া হবে না। পদোন্নতি হবে না। নানাভাবে হয়রানি করা হবে। তিনি বলেন, এভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। রাজশাহী বোর্ডের অর্থনীতি বিভাগের একজন প্রধান পরীক্ষক মানবজমিনকে বলেন, এবারের ফল ভাল হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত সহানুভূতির দৃষ্টিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া কোনভাবে উত্তর লিখলেও তাতে নম্বর দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই পরীক্ষক বলেন, ফল ভাল হয়েছে কিন্তু এতে শিক্ষার্থীদের ধ্বংস ডেকে আনা হচ্ছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা আগের মতো পড়ালেখা করবে না। মনে করবে একটু লিখলেই নম্বর দেয়া হয়। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে ৬টি মূল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নে আবার ৪টি অংশ থাকে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা গণহারে ফেল: ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদের অধীনে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৭৫ ভাগ ফেল করেছে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ৫৬ ভাগ। এ বছর খ ইউনিটের দুই হাজার ২৭৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯০১ জন জিপিএ-৫ পাওয়া। যাদের মধ্যে মাত্র ১৪৫৪ জন পাস করেছে। খ ইউনিটে ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে একজন পরীক্ষার্থীকে কমপক্ষে ৪৮ নম্বর পেতে হবে। একইসঙ্গে ইংরেজি ও বাংলায় কমপক্ষে ৮ (৩০ এর মধ্যে) এবং সাধারণ জ্ঞানে ১৭ (৬০ এর মধ্যে) পেতে হবে। এ বছর খ ইউনিটে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮ পেয়েও বিষয়ভিত্তিক ন্যূনতম নম্বর না পেয়ে ফেল করেছে ১৭১ জন। বাংলা ও ইংরেজিতে আট নম্বরের কম পেয়েছে যথাক্রমে ৯০ ও ৭১ জন। সাধারণ জ্ঞানে ১৭ এর কম পেয়েছে ১০ জন। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া ৬৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২১০ জন।
বিজ্ঞান অনুষদে ফেলের হার ৫১ ভাগ: চলতি বছর ‘ক’ ইউনিটে ৬২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৩০ হাজার ৯১৪ জন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৫ হাজার ১২৭ জন। বাকি ৫১ ভাগ পরীক্ষার্থী পাসই করতে পারেনি। মোট ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস করতে হলে কমপক্ষে ৪৮ নম্বর পেতে হবে। কোনও শিক্ষার্থী এর কম পেলে তিনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে। ২০১০ ও ২০১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ৩৫ ও ৪২ ভাগ ফেলে করেছিল। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন জিপিএ) পাওয়া ৭১০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২২৭ জনই পাসই করতে পারেনি।
‘গ’ ইউনিট: ব্যবসায়ে শিক্ষা অনুষদের অধীনে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৮ ভাগই পাস করতে পারেনি। ২০১১ সালে এ হার ছিল ৭৭ ভাগ এবং ২০১০ সালে ৭৮ ভাগ। এ বছর গ ইউনিটে ১০৭৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪১ হাজার ৪৮১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭৮২৭ জন, পাস করেছে ৩২৮৭ জন। ৪৫৪০ জন জিপিএ-৫ ন্যূনতম পাস নম্বর ৪৮ পায়নি।
৯০ ভাগ ফেল ‘ঘ’ ইউনিটে: বিভাগ পরিবর্তনকারী ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৯০ ভাগই পাস করতে পারেননি। ২০১০ ও ২০১১ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫২ ও ৬২ ভাগ। এ বছর ঘ ইউনিটের ১২৬২ আসনের বিপরীতে ৫৯ হাজার ৮৭৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৫ হাজার ৯০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ৪৭ জন। এ ইউনিটে বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর ওপর ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রতি বিষয়ে পৃথকভাবে কমপক্ষে ৮ নম্বর পেতে হবে। এছাড়া এ ইউনিটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সববিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৫৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ২৭৪ জন।
শিক্ষাবিদদের বক্তব্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসির ফল নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভাল ফল হলেও ভাল লেখাপড়া হচ্ছে না। সবকিছু হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। রাজনৈতিক চিন্তা থেকেই জিপিএ-৫ এবং পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য ভাল ফল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। প্রবীণ এ শিক্ষাবিদ আরও বলেন, ১০০ ভাগ ফল হলেই কি লাভ হলো? যদি শিক্ষার্থীদের ভালভাবে পড়ালেখা শেখানো না হয় এসব করে কিছু লাভ হবেনা বলে মনে করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (ইউজিসি) অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর কারণে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা বেড়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় তাদের মধ্যেও বিচক্ষণতা এসেছে। অধ্যাপক আজাদ বলেন, তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় এত নম্বর কি শিক্ষার্থীরা আসলেই পেয়েছে? তিনি বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর কারণে হয়তো শিক্ষার্থীরা ভাল করেছে। ঢাবির কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া না শিখিয়েই এখন পাস করানো হচ্ছে। শিক্ষকদের বলা হচ্ছে যা লিখে তাতেই নম্বর দেন। জিপিএ-৫ এখন রাজনৈতিক বিষয় হয়ে গেছে। যে সরকারের আমলে যত বেশি জিপিএ-৫ সে সরকার তত বেশি ক্রেডিট নিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যে পড়ালেখা শিখছে না এটা তারই প্রমাণ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, পাসের হারের ন্যায় ঢালাওভাবে মান বেড়েছে এটা বলা যাবে না। তবে বর্তমানের শিক্ষার্থীরা অনেক সিরিয়াস। তাদের মান কিছুটা বেড়েছে এটা স্বীকার করতেই হবে। তিনি আরও বলেন, জিপিএ-৫ পেয়ে শিক্ষার্থীরা ঠিকই উল্লসিত হয়। অথচ জিপিএ ৫-এর ভিত্তিতে যখন মেডিকেলে ভর্তির কথা বলা হলো তখন তারা ভরসা রাখতে পারে না।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সার্বিক শিক্ষার উন্নয়নের কারণেই ফল ভাল হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এখন আর নোটবই পড়ে ভাল নম্বর পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমরা ৫ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা এখন অনেক বেশি দক্ষ। শ্রেণীকক্ষে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম চালু হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে বসেই দেখতে পাচ্ছে কোথায় কি ঘটছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগে অনেক ছেলেমেয়ে বই কিনতে পারত না। এখন আমরা কোটি কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করছি। এটা শিক্ষাক্ষেত্রে একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন।
বোর্ডের বক্তব্য: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম মানবজমিনকে বলেছেন, পরীক্ষকদের কয়েক প্রকার নির্দেশ দেয়া হলেও বেশি নম্বর দেয়ার কথা বলা হয় না। তবে দু’দফা নির্দেশনা থাকে। প্রথমত আমরা বলে থাকি আপনারা ভুলকে সঠিক ভেবে নম্বর দেবেন না। দ্বিতীয়ত কোন শ্রেণীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন তা বিবেচনা রেখে নম্বর দেবেন। এর বাইরে কোন নির্দেশনা থাকে না। অধ্যাপক তাসলিমা বেগম আরও বলেন, সামপ্রতিকসময়গুলোতে ফল ভাল করার পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সৃজনশীল পদ্ধতি। দ্বিতীয়ত, আমরা অসংখ্য শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ফলে শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে আগের চেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট