Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অনেক লম্বা হাতের মহিমা

গত বুধবার, ১৭ই জুলাই, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের পাঁচটিতেই প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইবুনাল। এর মধ্যে তিন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, এক অপরাধে যাবজ্জীবন, অন্য অপরাধে পাঁচ বছর কারাদণ্ড- দেয়া হয়েছে তাকে। মৃত্যুদণ্ড- ভিন্ন অন্য কোনও শাস্তি তাকে দেয়া হলে তা ন্যায়বিচার হবে না বলে উল্লেখ করেছে ট্রাইবুনাল।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ২-এর বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসান ‘অত্যাবশ্যক কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাতের প্রয়োজন বলে মনে করছি’ উল্লেখ করে জানান, “রায় ঘোষণার দিন এবং রায় প্রত্যাখ্যান করে হরতাল আহ্বান করে কেউ-কেউ। হরতালের নামে গাড়ি ভাঙচুর হয়। আজও হরতালের কারণে ডিফেন্স কাউন্সিলের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইবুনালে হাজির হন নি। এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অনুচিত। জাজমেন্ট প্রত্যাখ্যান করার কোনও সুযোগ নেই কারও।”
‘রায় প্রত্যাখ্যান আদালত অবমাননার শামিল’ মন্তব্য করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, “রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে আপিলের সুযোগ রয়েছে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষের। যেহেতু পথ খোলা আছে তাই রায় প্রত্যাখ্যান, রায়কে ন্যায়ভ্রষ্ট বলা, জাজমেন্ট পরিবর্তনের দাবি করা সমীচীন নয়। আমরা শপথ নিয়েছি। জাজরা সকল কথা বলতে পারেন না। তাদের কাজের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সমস্যা আছে। তারপরও এখানে যার যা প্রাপ্য, অবদান সেটির মূল্যায়ন করা হয়। একটি কথা সকলকে মনে রাখতে হবে আদালতের হাত অনেক লম্বা। আদালত  তাদের যুক্তি, বিবেচনা, মামলার উপাদানের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত দেন।  বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সেই ক্ষমতা রাখে। এ জন্য মামলায় সকল ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে।”
টেলিভিশনের টক শো’র সমালোচনা করে ট্রাইবুনাল ২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, “রাত যখন গভীর হয় তখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে টক শো শুরু হয়। কিছু টক শোতে জাজমেন্ট না বুঝেই সমালোচনা, আলোচনা হয়। বিচার ও রায়ের বিষয়টি সাবজুডিস। কাদের মোল্লার মামলায় আমাদের বক্তব্য আমরা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। কেউ যদি এই রায়ের ভিত্তিতে সমালোচনা করে তবে তা দুঃখজনক।”
প্রথমে আমি সর্বান্তঃকরণে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়, বিশেষ করে কাদের মোল্লা’র রায় ঘোষণার পর থেকে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যে সব ঘটনা ঘটে চলেছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক, সেই সঙ্গে ঘোরতর আশঙ্কাজনকও। প্রাণহানি, ধ্বংস, জ্বালাও পোড়াও, সংঘাত সংঘর্ষ সহিংসতা, হরতাল অবরোধ ধর্মঘট, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে নিত্য ট্র্যাজেডি। ওদিকে বেপরোয়াভাবে মারমুখো হয়ে উঠেছে প্রতিটি পক্ষ। অবৈধ সমাবেশ, অসংযত ভাষা, হিং¯্র তৎপরতা, হুমকি ধমকি, ধর মার খতম চলছে বাধাবন্ধহীন। দেখার কেউ নেই, শোনারও কেউ নেই। বারবার আমার মনে হয়েছে, কেউ কিছু বলুক, কিছু করুক। এভাবে আইন-শৃঙ্খলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশকে রসাতলের দিকে ঠেলে দেয়া কি সবাই বরদাশত করে চলবে দিনের পর দিন? আমার মনে বারবার ধ্বনিত হয়েছে যে কথাগুলো তার বেশির ভাগই বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের মুখে আশান্বিত হয়েছি আবার। তিনি টেলিভিশনের টক শো সম্পর্কে যেভাবে সরাসরি বলেছেন অন্যদের সম্পর্কে সেভাবে না বলে উল্লেখ করেছেন আভাসে ইঙ্গিতে। তাতে অবশ্য তেমন ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করি না আমি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছেন, ‘রায়ের প্রত্যাখানের কোনও সুযোগ নেই কারও।… রায় প্রত্যাখ্যান আদালত অবমাননার শামিল।… রায়কে ন্যায়ভ্রষ্ট বলা, রায় পরিবর্তনের দাবি সমীচীন নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, কাদের মোল্লার রায়ের সমালোচনা ‘দুঃখজনক’।
রায় প্রত্যাখ্যানের সুযোগ যদি কারও না থাকে, তা যদি আদালত অবমাননার শামিল হয়ে থাকে, তবে তার প্রতিবিধানও আছে নিশ্চয়ই। তিনি বলেছেন ‘আদালতের হাত অনেক লম্বা’, সেই ‘লম্বা হাতে’র মহিমা দেখতে চাই এখন। ওই হাত ‘অসমীচীন’ ‘অবমাননাকর’ সকল অপকর্মের হোতাদের আনুক তার আওতায়, বিহিত বিধান অনিবার্য অমোঘ হয়ে নেমে আসুক তাদের উদ্ধত স্পর্ধায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট