Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শাজাহান খানের সমাবেশ ঘিরে তুলকালাম, গুলিতে নিহত ১

শ্রমিক নেতা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের শ্রমিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর বাড্ডা ও মালিবাগ এলাকায়। রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৩ শ্রমিক। এদের একজন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ
স্পষ্ট কিছুই জানাতে পারেনি। গতকাল বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের একটি শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয় রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আফতাব নগরে। শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বিকালের ওই সমাবেশে যোগ দিতে ওই এলাকার সকল গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে দুপুরের পর ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিকালে ওই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু তার আগে সমাবেশকে ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড সংঘটিত হয় ওই এলাকায়। অজ্ঞাতদের গুলিতে আহত হন ৩ শ্রমিক। তাদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিতে আহত ৩ শ্রমিক হচ্ছেন শরীফ (২৫), সিদ্দিক (২৮) ও সোহাগ (৩২)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩ জনই পিস্তলের গুলিতে আহত হন। তাদের মধ্যে সোহাগ রাত পৌনে দশটায় মারা যান। তার মাথায় গুলি লেগেছিল। আহত শ্রমিক শরীফের গুলি লেগেছে ডান হাতে, সিদ্দিকের গুলি লেগেছে ডান পায়ে। গুলিবিদ্ধ সিদ্দিকের ভাই ইব্রাহিম জানান, মন্ত্রীর ওই সমাবেশে যোগ দেয়ার বিরোধী ছিলেন সিদ্দিক। বেলা আড়াইটার দিকে সে তার কারখানা সুপার থ্রেটে বসা ছিলেন, নিজে শ্রমিক হলেও সিদ্দিক সুপার থ্রেট নামের ওই ছোটখাটো কারখানাটির মালিক। ওই সময় তিন অপরিচিত যুবক তার কারখানায় প্রবেশ করেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তার ডান পায়ে গুলি লাগলে আহত হন তিনি। গুলি লেগে আহত শরীফের বন্ধু মামুন জানান, শরীফ সমাবেশে যাওয়ার জন্য মিছিলে যায়নি। সে দুপুরের খাবার খেয়ে হাতিরপুলে তার বোনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করে রাস্তায় বেরুলে মেরুল বাড্ডা মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে লক্ষ্য করে তিন যুবক পিস্তল দিয়ে গুলি করে। শ্রমিক সোহাগ কাজ করে ডি ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্ট কারখানায়। ওই কারখানায় কর্মরত সোহাগের বন্ধু হাবিব জানান, সোহাগ সহ তিনি শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তোফা গ্রুপের একটি কারখানা বন্ধ করতে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। প্রথমে তাদের ওপর পনের-কুড়িজনের একটি দল ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে তাদের কয়েকজন আহত হলেও তারা এগিয়ে যান কারখানা বন্ধ করতে, সে সময় তিন থেকে চার জন যুবক পিস্তল উঁচিয়ে তাদেরকে গুলি করলে সোহাগ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। গতকাল আফতাব নগরে অনুষ্ঠিত গার্মেন্টস শ্রমিক সমাবেশের উদ্যোক্তা ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিকরা সমাবেশে যোগ দেয়ার পথে তোফা গার্মেন্টসের মালিকের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলি চালায়। তোফা গ্রুপের মালিক তাজরীন ফ্যাশনের মালিক দেলোয়ার হোসেন। বাড্ডা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে শ্রমিক সমাবেশের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ সিদ্দিক শ্রমিক হলেও তিনি ছোটখাটো একটি ফ্যাক্টরির মালিক। গত কিছু দিন ধরে  কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। শ্রমিকরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে সিদ্দিককে গুলি করিয়েছে। সোহাগের গুলিবিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সমাবেশস্থলে অনেক দূরে। ওখানে কিছু শ্রমিক লাঠি হাতে গাড়ি ভাঙচুর করতে করতে শ্রমিক সমাবেশস্থল থেকে উল্টো দিকে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ শরীফ শ্রমিক নয়। সে ইটবালুর ব্যবসা করে। পথচারী হিসেবে সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওসি এত সব ব্যাখ্যা দিলেও ওই এলাকা কারা পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে শ্রমিকদের আহত করেছে এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কোন তথ্যই উদঘাটন করতে পারেননি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট