Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘মনের জ্বালা মেটাতে না পেরে সরকার হেফাজতকে দায়ী করছে’

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, সরকার  দেশের আলেম-ওলামাদের উৎখাতে ব্যর্থ হয়েছে। নাস্তিকদের পক্ষ নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ধরা খেয়ে গেছে। তাই এখন তাদের মনে জ্বালা ধরেছে। আর সেই জ্বালা মেটাতে না পেরে হেফাজতকে দায়ী করছে।
তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম কখনও ক্ষমতার অংশ হতে চায় না। আমরা কাউকে ক্ষমতার মসনদে বসাতে ও নামাতে চাই না। হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তারা সরাসরি কখনও কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলবে না। ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদ ও ঈমান-আকিদা বিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম কখনও আপস করবে না। এতে যদি কারও আঁতে ঘা লাগে তাতে কিচ্ছু যায় আসে না আমাদের।’
হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গতকাল হাটহাজারীতে বিশাল এক সমাবেশে বক্তব্য দেন বর্ষীয়ান ইসলামিক নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী। এই সময় তাকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার জনতা-নেতা-কর্মী সেখানে ভিড় জমান। হাটহাজারী ওলামা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে তার আগমন উপলক্ষে বিশাল গণ-সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এই সময় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এর আগে দুপুর  থেকে বিভিন্ন এলাকার তৌহিদি জনতা ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে দলে দলে সভাস্থলে জমায়েত হন।
জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে জড়িত হওয়ার পর আমাকে জেলে পাঠিয়েছে সরকারের লোকজন। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এতে আমি কখনওই কিছুক্ষণের জন্য নিজের ঈমান থেকে সরে যাইনি। হক্কানী উলামায়ে কেরামকে আল্লাহ যে সম্মান দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর গদির চেয়েও কোটি গুণ মর্যাদার।’
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ, রাসুল, ঈমান-আকিদা ও ইসলামের ইজ্জত রক্ষার জন্য আমাদেরকে আরও বেশি ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। হেফাজতের নেতৃত্বে ওলামায়ে কেরামের চলমান নাস্তিক্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের বহুমুখী অর্জন রয়েছে। সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদী শক্তির কাছে আমরা জোরালো ভাবে এই বার্তা পৌঁছাতে পেরেছি যে, এদেশে আল্লাহ ও রাসুলের অবমাননা কেউ সহ্য করতে পারবে না। একই সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অপতৎপরতা কোনভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাবুনগরী বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন মদিনার সনদে দেশ চলবে। আমি বলি, হেফাজতের ১৩ দফা মদিনার সনদের বাইরে নয়। সুতরাং মদিনার সনদে দেশ চালাতে হলে ১৩ দফা মানতেই হবে।’
অনুষ্ঠানে জুনায়েদ বাবুনগরী রাসুল (সা.)কে কটূক্তিকারী নাস্তিক ধর্মদ্রোহী ব্লগারদের শাস্তি প্রদান, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার নীতি ফিরিয়ে আনাসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রিমান্ডে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর বাবুনগরীকে গত মাসের ১১ই জুন চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। সমপ্রতি সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার সঙ্গে যা করা হয়েছে তা কোন সুস্থ মানুষ করতে পারে না। ঘুমানোর জন্য অনেক সময় তাকে বালিশ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। ওষুধ পাননি। তিনি যা সত্য তাই বলার চেষ্টা করেছেন। তিনি রিমান্ডে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকেন। এরপর তাকে গত মাসের ১১ তারিখ চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের বেসরকারি সিএসসিআর ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে টানা ২৩ দিন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা।
সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর হাফেজ শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে তাদের ঈমান আকিদার বিপক্ষে, ইসলামের বিপক্ষে ও নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে এভাবে অবস্থান নিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। একইভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতেও পারবে না। এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা, আলেম-উলামা এখন দলমত ও ছোটখাটো বিষয় ভুলে গিয়ে ১৩ দফা ঈমানী দাবিতে ঐক্যবদ্ধ।’
এতে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন হাটহাজারী ওলামা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর ইদরীস, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী,  দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা কাতেব সুলায়মান আরমান, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি জসীম উদ্দীন, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিস, মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা ইয়াহ্‌ইয়া, মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট