Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বেকায়দায় এরশাদ!

 আওয়ামী লীগের জালে  বন্দী হয়ে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ফলে গাজীপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে ১৮ দলীয় প্রার্থীর বিজয় হওয়ার পর এরশাদ  এখন বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন।

কেননা, গাজীপুর  সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই এরশাদ কৌশলী অবস্থান নিয়েছিলেন । প্রথম দিকে কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ১৮ দলের প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নানের পক্ষে কাজ শুরু করে।

পরবর্তীতে দুই প্রার্থীই এরশাদের সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিযে যায়। ভোট গ্রহণের একদিন আগে এরশাদ মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করে নেতা-কর্মীদের তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু গাজীপুরের জাপা নেতা-কর্মীরা স্থানীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশ করে ১৮ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ অব্যাহত রাখে।

এদিকে পার্টির নেতা-কর্মীদের এরশাদের  দিক নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি সরকারের কাছে ধরা পড়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমনকি নির্বাচনের দিন গাজীপুর  জাতীয় পার্টির কোন কোন  নেতার সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছেন, ভোট দেয়াসহ সার্বিক বিষয়ে ১৮ দল  সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য কি  নির্দেশ দিয়েছেন সে সম্পর্কে সরকার নিশ্চিত হয়েছে।

মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আবার মাঠে ১৮ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি  এখন সরকারের  কড়া নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো জানায়, জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের  আওয়ামী লীগের জালে আটকা পড়ার  খেসারত  দিতে হচ্ছে জাতীয় পার্টি তৃণমুল নেতা-কর্মীদের।

এমনকি গাজীপুর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের ভরাডুবির কারণে এরশাদ হারাতে পারেন  মহাজোট সরকারের কাছ  থেকে পাওয়া ব্যাংক, টিভি চ্যানেল, বিদ্যুত কেন্দ্রের অনুমোদন থেকে শুরু করে ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য ব্যাবসা বানিজ্যের সুবিধা।

এমনকি জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার জামিন  বাতিল হয়ে এরশাদ নিক্ষিপ্ত হতে পারেন কারাগারে- জাপা নেতা-কর্মীরা এমন আশঙ্কাই করছেন্‌।  ইতোমধ্যে সরকারের আচরণে তারা এমন আলামত পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, জাপা নেতা কর্মীদের ধারণা আনুষ্ঠানিকভাবে  মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও এরশাদ খুব শিগগিরই সে ঘোষণা দিতে পারছেননা।  ফলে জাপা পড়তে যাচ্ছে ভাঙ্গনের মুখে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির একজন অন্যতম নীতিনির্ধারক জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে একটি বিশেষ মহল ফোন করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৪ দলের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেয়ার জন্য বলা হয়।  অন্যথায় পুরানা মামলাগুলো পুনর্জীবিত করা  ও মঞ্জুর হত্যা মামলার জামিন বাতিল করারও হুমকি দেয়া হয়। নির্বাচনে যখন ১৪ দলের প্রার্থী জয়লাভ করেনি তখন হয়তো এরশাদের উপর একটি বড় চাপ আসতে পারে।  কারণ সরকার মনে করে জিসিসি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভোটারদের ভোট  আজমত উল্লাহ পায়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জাতীয় পার্র্টি ভাঙ্গনের মুখে পড়া নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তবে  জাপা চেয়ারম্যানের ওপর সরকারের চাপের কথা স্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জামাল হায়দার  জানান, সরকারের  পক্ষ থেকে  এরশাদ সাহেবকে হুমকি ধামকি  দিয়ে চাপের মুখে রেখে  গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ দলের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে।

এটি পার্টির নেতা কর্মীরা শুধু নয়, সারাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। আর পার্টির চেয়ারম্যান আসল জায়গায় ঠিক আছেন। তিনি মহাজোট থেকে এবার বেরিয়ে যাবেনই। নির্বাচনের পরে এধরণের একটা ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। তবে,এখন কী করবেন তা বোঝা যাচ্ছে না। সরকার এরশাদ সাহেবকে ধরে রাখতে শক্ত জাল ফেলেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট