Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় ১২ মার্চের মহাসমাবেশে যোগ দিন – খালেদা জিয়া

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় আগামী ১২ মার্চের মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল এক শিক্ষক সমাবেশে তিনি বলেন, দেশ মহাসঙ্কট অতিক্রম করছে। মানুষ এখন অধিকার পেতে বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করছে। শিক্ষার সংগ্রাম ও দেশের সঙ্কট নিরসনের লড়াই একাকার হয়ে গেছে। সবাই মিলে বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আগামীতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করার আশ্বাস দেন তিনি।
গতকাল বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক শিক্ষক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিনকে দু’বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করছে।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশ ও সমাজের পরিবেশ নির্বিঘ্ন, নিরাপদ, শান্তিময় ও স্থিতিশীল না হলে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়। দেশের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় স্বল্প বেতনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। গরিব অভিভাবকরা তাদের
সন্তানদের দু’বেলা খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার ব্যয় ও শিক্ষা উপকরণের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। সরকার তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার আলো নিষ্প্রভ হতে থাকবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকাই প্রধান। শিক্ষক যদি যোগ্য না হন, তারা যদি সমস্যা-সঙ্কটে জর্জরিত থাকেন, তাহলে সুশিক্ষার আশা করা যায় না। তাই আমরা বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছিলাম। অবসর ভাতা চালু করেছিলাম।
খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীকে আমরা শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট দিবসটি পালন করে আসছে। এজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি আজকের এই দিনে গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাই।
বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আগামী ১২ মার্চ চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। ওই মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি সর্বস্তরের জনগণসহ আজকে উপস্থিত শিক্ষক সমাজকেও আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে কিছু পাওয়া যাবে না। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। দেশের সঙ্কট নিরসনের লড়াই আর আপনাদের সংগ্রাম আজ একাকার হয়ে গেছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে বাঁচাই। আপনাদের ন্যায্য সংগ্রাম ও দাবির সমর্থনে সবসময় আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, শিক্ষক নেতা চৌধুরী মুগীস উদ্দিন, কাজী আবদুর রাজ্জাক, নূর আফরোজ জ্যোতি, মাহবুবুর রহমান মোল্লা, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, আজিজুল হক রাজা প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ এখন মহাসঙ্কটে পড়েছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে। আমাদের নাগরিকদের সীমান্তের ওপারে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ নিয়ে নতজানু সরকার ন্যূনতম প্রতিবাদও জানাতে পারছে না। অন্যদিকে তারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে ইভিএম দিয়ে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের চেষ্টা করছে। গণলড়াইয়ে এ ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে।
ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই শিক্ষাবান্ধব ছিল না। চারদলীয় জোট আমলে নারীশিক্ষাসহ যেসব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে বর্তমান সরকার নিজেদের অর্জন বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু ভারত থেকে বই মুদ্রণের মাধ্যমে এদেশের মুদ্রাকরদের ব্যবসা গুটানোর ব্যবস্থা করা ছাড়া সরকারের কোনো অর্জন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারকে উন্মাদ অভিহিত করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সবক্ষেত্রে ব্যর্থ সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের প্রচারণা চালাচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী, জগন্নাথ ও সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাঞ্ছনাও কি সফলতা? ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পরিমলের সহযোগীরা চাকরি করে যাচ্ছেন। এটাই নাকি শিক্ষার উন্নয়ন। ছাত্রলীগের জন্মই হয়েছে মারামারির জন্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারকে অপ্রকৃতস্থ অভিহিত করে তিনি বলেন, নয় ঘণ্টার মধ্যে সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে তিনবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। এত বেশি লুটপাট ও বিদেশে টাকা চলে গেছে যে, সরকার কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না। উন্মাদ সরকারের হাত থেকে রক্ষা পেতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষকদের যা কিছু প্রাপ্তি তা বিএনপি-ই করেছে। এবারও দেশনেত্রী চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তাকে আরেকবার প্রধানমন্ত্রী করতে আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করব।

আমারদেশ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট