Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অর্থমন্ত্রীর বাসায় গেলেন আরিফ

 উন্নয়নের দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বাসায় গেলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বললেন, ‘এই নগর আপনার। এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন। আপনার সহায়তা না থাকলে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তার কথায় সায় দিলেন  বললেন, ‘মেয়র কোন দলের সেটা বিবেচ্য নয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোন ঘাটতি থাকবে না। সহায়তার হাত প্রসারিত থাকবেই।’ সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সিলেট শহরের ধোপাদিঘির পাড়স্থ হাফিজ কমপ্লেক্সের বাসভবনে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা ৬টায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মেয়র আরিফের বৈঠকের সময় ছিল পূর্বনির্ধারিত। আগে থেকেই সিডিউল থাকায় আরিফুল হক চৌধুরী সন্ধ্যা ৬টায় চলে যান অর্থমন্ত্রীর বাসায়। এ সময় অর্থমন্ত্রী সিলেট শহরতলির একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। তিনিও মেয়র আসার খবরে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করে বাসায় ছুটে আসেন। মেয়র আরিফ বসা ছিলেন অর্থমন্ত্রীর ড্রইং রুমের সোফায়। এ সময় প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রীকে দেখেই আরিফ সালাম দেন। অর্থমন্ত্রী হাত তুলে এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। মেয়র আরিফ তার বিজয়ের আনন্দে অর্থমন্ত্রীকে মিষ্টি মুখ করান। পরে মেয়র অর্থমন্ত্রীর কাছে তার নগর উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবনাটি পেয়ে দ্রুত চোখ বুলান এবং প্রশংসা করেন। বলেন, কাজের পরিকল্পনা থাকলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এভাবে প্রায় ১০ মিনিট কাটানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। শুরুতেই তিনি বলেন, নগরপিতা কোন দলের সেটা বিবেচ্য নয়। উন্নয়ন চলমান প্রক্রিয়া। সেটি অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নে কোন ঘাটতি থাকবে না। বরং নগরপিতা সব সময় সহযোগিতা পাবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মনে হয় এই সরকারের সময়ের মধ্যে কাজিরবাজার সেতুর কাজ শেষ হবে না। সেটা শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগবে। তবে কাজ চলবে। বাদাঘাট বাইপাসের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সেতুটি তেমন মজবুত নয়। এ কারণে হাইওয়ে হলে বার বার এখানে সড়ক যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আর লাক্কাতোড়া বাগান দিয়ে কোন রাস্তা করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। দেশের পাঁচটি নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় আগামী নির্বাচনে আংশিক প্রভাব পড়বে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী জানালেন, জাতীয় নির্বাচনেও এই ভোটগুলো কাজ করবে। এজন্য সরকারকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানালেন, কাজ শেষ হবে এবং এখানেই আগামী ২০১৪ টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আরিফুল হক চৌধুরীর প্রস্তাবনার মধ্য রয়েছে- সিলেটের যানজট দূর করা, হাঁটার রাস্তা খুলে দেয়া, নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানো। একই সঙ্গে সিলেট নগরীর পানি সমস্যা দূর করতে মেয়র তার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছেন, ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে প্রকল্প চলছে সেটি শেষ হতে আরও ২ বছর সময় লাঘবে। এই দুই বছর পানি সঙ্কট দূর করতে হলে বেশ কিছু গভীর নলকূপ প্রয়োজন। এ ছাড়া নগরীতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, নগরীর কাষ্টঘরের সুইপার কলোনি ও কারাগারের জায়গায় নগর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ধোপাদিঘির পাড়ে বিশাল আকারের পার্ক নির্মাণের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী মেয়র আরিফের এসব প্রস্তাবনায় সায় দিয়েছেন। তিনি মেয়রকে জানিয়েছেন, পানি সমস্যা ও যানজট নিরসনের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থমন্ত্রী সহায়তা করার আশ্বাস দেন। পরে সাংবাদিকদের কাছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আর এই দায়বদ্ধতার জন্য মন্ত্রীর কাছে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। তিনি সেটা সাদরে গ্রহণ করে উন্নয়ন ঘটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক কিছুতেই মন্ত্রীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। মন্ত্রী নিজেও এসব বিষয়ে অবগত নন। প্রায় আধা ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠক শেষে আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রীর সঙ্গে কোলাকুলি করে বিদায় নেন। তবে, নিজ বাসায় যাওয়ায় সিলেটের মেয়রকে অর্থমন্ত্রী নিজ হাতে দরজা খুলে এগিয়ে দেন। বেশ খানিক দূর এগিয়ে এসে আবারও হাত মিলিয়ে বিদায় দেন। মন্ত্রীর বাসা থেকে নেমে এসে মেয়র আরিফ জানালেন, অর্থমন্ত্রীর ব্যবহার তাকে মুগ্ধ করেছে। তাকে এতদিন সিলেট উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। আর এ কারণে সিলেটের উন্নয়নে এত ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই উন্নয়ন। উন্নয়নের জন্য যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন সেখানেই যাবো।’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট