Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পরাজয়ের স্রোতে মহাজোট

পরাজয়ের স্রোতের মুখে পড়েছে মহাজোট। একে একে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও সম্প্রতি চার সিটি নির্বাচনেও ধস নেমেছে মহাজোটের। সবশেষে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত গাজীপুরেও শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে দলটির সমর্থিত প্রার্থী। বোদ্ধামহল তাদের এ পরাজয়কে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিলেও এখন তাদের সামগ্রিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন। আর এ ব্যর্থতাই আগামী নির্বাচনে মহাজোটকে মরণ ছোবল দেবে মনে করছেন তারা।

বোদ্ধামহল মনে করছেন, জোটে টানাপোড়েন, দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল, সরকারের সমন্বয়হীনতা এবং এমপি-মন্ত্রীদের সীমাহীন দুর্নীতিই এসব ভরাডুবির মূল কারণ। এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে- তথাকথিত প্রগতিশীলতার তকমা।

সমপ্রতি চার সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির পর বিশ্লেষকরা মনে করেছেন, এতে বিরোধী শিবিরের তত্ত্বাবধায়ক দাবির যৌক্তিকা ম্লান হয়ে গেছে। যার কারণে এ পরাজয়ে মহাজোটেই লাভবান হয়েছে। আর এতেই তৃপ্তির ঢেকুর গিলছে দলটি। ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে নির্বিঘ্নে নির্বাচনের পথে হেঁটে চলেছে। আপন ঘাঁটিতে নির্বাচন দিয়ে নানান নাটক মঞ্চায়ন করে পরাজয়েই সমাপ্তি টেনেছে নির্বাচনী এ ফিল্মের।

সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিকরা মহাজোটের এ পরাজয়কে এখন আর তত্ত্বাবধায়ক দাবি ম্লান আর আগামী নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছে না। তারা দলটির তৃণমূলে দুর্বলতা ও দলীয় সমন্বয়হীনতাকেই দোষছেন। বিরোধী শিবির তো বলেই আসছে- জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ, যার জন্য পরপর এ পরাজয়।

আসলেই কি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে পুরনো এ রাজনৈতিক দলটি? এমনটাই প্রশ্ন ছিল দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরামের সদস্য নুহ-আলম লেনিন’র কাছে। তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন বললে হয়তো ঠিক হবে না। জনভিত্তি না থাকলে একটা রাজনৈতিক দল দু’বার নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে না। আমাদের প্রার্থী সঠিক সময়ে দলীয় কর্মীদের মাঠে নামাতে পারেনি। এর পেছনে দলীয় কোন্দল ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের সমন্বয়হীনতাই দায়ী।

তবে তিনি এখনও জয়ের ঢেকুর গিলছেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন আপাত দৃষ্টিতে আমাদের পরাজয় হলেও- এটা গণতন্ত্রের বিজয়। এটি সরকারের বিজয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয়।
আর সাংগঠনিক ভিত মজবুত হওয়ার কথা যাদের হাত ধরে তাদের একজন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। মানসিক অবস্থা ভালো নেই বলে জানান তিনি। এ নির্বাচনের প্রতিক্রিয়া পরে ব্যাক্ত করবেন।

গাজীপুরে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের পরাজয় হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পুরোপুরি ম্লান হয়ে যাবে ও সরকারের সফলতার পাল্লাই ভারি হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।
কিন্তু এরপরও ধারাবাহিক এ পরাজয়ে বিধ্বস্ত এ দলটির নেতারা মুষড়ে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদেরও মনোবল ভেঙ্গে গেছে বলে জানা যায়। তারা এখন আর খোড়া যুক্তি শুনতে চায় না। শেষ সময়ে দলের সিদ্ধান্তহীনতা ও জোটের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করেন।
জোটের কেন্দ্রীয় কিছু নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজমত উল্লাহসহ চার সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীরা সবাই ছিল খুব জনপ্রিয়। কিন্তু জনপ্রিয়তা নয়- নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ ছিল জাতীয় ইস্যু।

নেতারা মনে করেন, জনপ্রিয়তার অভাবে নয়- রাজনৈতিক বিবেচনায় এ নির্বাচনে হেরে গেছেন তারা। এতে পদ্মাসেতু দুর্নীতি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতিই প্রাধান্য পেয়েছে। হেফাজত ইস্যুতে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করাও হেরে যাওয়ার অন্যতম বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করেন তারা।
তবে মহাজোটের শরিক একাধিক নেতা দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অব্যাহত কোন্দল ও ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করেন।
তারা বলেন, আজমত উল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী। নির্বাচনের আগে ও পরে ১৪ দলের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। স্থানীয় ১৪ দলের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সমন্বয় হয়নি।

এছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে লাভের আশায় নির্বাচনের শেষ সময়ে জাহাঙ্গীর নাটক ও এরশাদের সমর্থন আদায় নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দলের নেতাদের ঠিক সময়ে মাঠে নামিয়ে জনগণের কাছে যেতে পারেনি। আর এ ফাঁকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নিজের পক্ষে এসব ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ভোট নিয়ে গেছেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এ নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অপপ্রচার ও একটি শক্তির অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাবও এ পরাজয়ের পেছনে কাজ করেছে। তবে এ সরকারের অধীনে যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব- এটা আমরা প্রমাণ করেছি।
আর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচার বিজয়ী হয়েছে। তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে চার সিটির মতো গাজীপুরের নির্বাচনেও জনমত তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট