Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মান্নানের পক্ষে প্রকাশ্যে জাপা : ক্ষমতাসীনরা মরিয়া ইমেজ ধরে রাখতে

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দল সমর্থীত মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মান্নানের পক্ষে জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার থেকে মাঠে নামছে। দলটির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টা জাস্ট নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, গত সাড়ে ৪ বছরের হিসাব কড়ায়-গ-ায় এবার গুণতে হবে আওয়ামী লীগকে। মহাজোটের তকমা লাগিয়ে একদিন জাতীয় পার্টির সামনে মুলা ঝুলিয়ে রেখে ছিল। কিন্তু দেরিতে হলেও স্যার (এরশাদ) বুঝতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, অবশ্য দলের নেতাকর্মীরা আগেই স্যারকে (এরশাদ) আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আশায় বুক বেঁধে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বুঝলেন। তবে অনেক দেরিতে। তারপরও স্যারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কৌশলী নির্দেশ পেয়ে গেছেন দলের নেতাকর্মীরা। গাঁট বেঁধে নেমে গেছেন নেতারা। ৬ তারিখেই এর ফল পাওয়া যাবে।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দোয়া এবং নৈতিক সমর্থন চাইতে অধ্যাপক মান্নান এরশাদের বারিধারার বাসায় গিয়েছেন। এ সময় এরশাদ তাকে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ১৮ দলীয় জোট সমর্থীত এই মেয়র প্রার্থী।

তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ডামাডোল বাজার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় পার্টির স্থানীয় বেশ কিছু নেতা এম এ মান্নানের পক্ষে কাজ করেন। তবে দলীয় প্রধানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় এতোদিন তারা কৌশলে এ কাজ করেছেন। কিন্তু এবার এরশাদের নৈতিক সমর্থন পাওয়ার পর তারা উঠেপড়ে নেমেছেন আবদুল মান্নানকে বিজয়ী করতে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে নয়, সরকার ও আওয়ামী লীগের ইমেজ ধরে রাখতে নিজেদের সমর্থীত প্রার্থীর পক্ষে গণরায় নেয়ার লক্ষ্যে আদাজল খেয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের হেভিওয়েট নেতারা। নির্বাচনের শুরু থেকেই দল ও জোটের ডাকসাইটের নেতারা পৃথক টিম করে প্রচারণার কাজ চালিয়ে আসছেন।

তবে বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নাটকীয় নিখোঁজ হওয়া এবং তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে নাখোশ হয়েছেন এ এলাকার আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি বৃহৎ অংশ। এর বাইরে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ালো আওয়ামী লীগের পাশ থেকে। সব মিলিয়ে এ সিটিতেও ভোটের অংকে আওয়ামী লীগ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮ দলের প্রার্থীর চেয়ে।

স্থানীয় ভোটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ এলাকার মোট ভোটরদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ আওয়ামী লীগের স্থায়ী ভোট। আর বিএনপির রিজার্ভ ৩২ শতাংশ। জাতীয় পার্টির আছে ৮ শতাংশ। বাম ও অন্য দলের আছে ৫ শতাংশ। এর বাইরে জামায়াতের ৫ শতাংশ এবং বাকি ১৫ শতাংশের বেশিরভাগই নিরপেক্ষ ভোটার। ওই ১৫ শতাংশের ১০ শতাংশ ভোট এখন হেফাজতে ইসলামের দখলে।

এ হিসাবে দেখা যায়, জাতীয় পার্টির সমর্থন পাওয়ার পর ১০ শতাংশ ভোটে ১৮ দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান এগিয়ে থাকছেন।

এর বাইরে আওয়ামী লীগের ৩৫ শতাংশ ভোটারের একটি অংশ ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও জাহাঙ্গীর আলমকেই দেবেন। এতে আজমতের আরো কিছু ভোটের ঘাটতি পড়বে।

অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের ১৫ শতাংশ ভোটের হিসাব এর বাইরে রাখলেও আব্দুল মান্নান ভোটের সমীকরণে অনেকটাই এগিয়ে।

১৮ দলী সমর্থীত মেয়র প্রার্থী মান্নানের সুনিশ্চিত বিজয় বুঝতে পেরে নানা কৌশলে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা- এমন অভিযোগ তুলছেন মান্নান সমর্থকরা। তবে ক্ষমতাসীন শিবির থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। মান্নান সমর্থকদের এই আশঙ্কা ভোটের দিনই মিথ্যা প্রমাণ হবে। ক্ষমতাসীনরা প্রয়োজনে মান্নানের ভোটারদের নিরাপত্তা দেবে বলেও জানিয়েছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ১৮ দল নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা ভোটের মাঠে ধর্মকে ব্যবহার করছে।

এদিকে মান্নান সমর্থকরাও ফলাফল ছিনিয়ে নিতে দেবে না কউকে। তারা ভোট দিয়েই বাড়ি ফিরবে না। ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লায় প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি বিজয় তাদের দোড় গোড়ায়। এ বিজয় কেউ প্রতিহত করতে পারবে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট