Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আওয়ামী লীগের ৯৫ ভাগ নেতা-কর্মী নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়

ঢাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ৯৫ ভাগ কর্মী-সমর্থক নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। তারা কোন ধরনের পাতানো নির্বাচন দেখতে চায় না। এর কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে তৃণমূল কর্মীরা বঞ্চিত হবেন। কর্মীরা জেল খাটবেন, নির্যাতনের শিকার হবেন আর অন্যরা মন্ত্রী হবেন। এটা ঠিক নয়। সুলতান মনসুর বলেন, পাতানো নির্বাচন হলে কোরবানির গরুর মতো মনোনয়ন ক্রয়-বিক্রয় হবে। এতে কর্মীদের মূল্যায়ন হবে না। তাই আগামী নির্বাচন দলনিরপেক্ষ সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত। রোববার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। এক সময়ের প্রভাবশালী এ নেতা নিজের নিভৃতবাসের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরেই বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিতি করে তুলেছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি তার কাজের মাধ্যমে এ পরিচিতি এনেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি করেন বঙ্গবন্ধু। তখন এক নামে সবাই বাংলাদেশকে চিনেছে। এরপর বর্তমানে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলনে শেখ হাসিনা কিন্তু যোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ড. ইউনূসকে বলেছেন, সুদখোর এবং ঘুষখোর। তিনি জানেন না আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেদিন ইউনূস সাহেবের সামিটের কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেদিন ভুল করেছিলেন। আর না হলে মতিয়া চৌধুরী ভুল করছেন। ভারতের লোকসভায় ও যৌথসভায় ড. ইউনূসকে নিয়ে তারা ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে প্রধান অতিথি করা হয় ড. অমর্ত্য সেনকে। অমর্ত্য সেন হলেন আমাদের খালাতো ভাই। আপন ভাইকে রেখে খালাতো ভাইকে সম্মান দেয়া হচ্ছে। ড. ইউনূসকে সম্মান দিলে জাতি উপকৃত হবে।
সুলতান মনসুর বলেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজনৈতিকভাবে যেভাবে কাজে লাগানো উচিত ছিল সেভাবে আমার দল আমাকে কাজে লাগাচ্ছে না। কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না, সেটাও বলছে না। আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হয়েছে। এমনকি গত সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হয় সেখানে সাবেক সভাপতি হিসেবে একটি দাওয়াত আমি পাচ্ছি না। তবু আমি মুখ খুলি না এই কারণে যে, আমার কর্মীরা আমাকে ভুল বুঝতে পারে। কারণ, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত নির্বাচনে মহাজোট সরকারকে ভোট দিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা হয়েছে। সেই মন্ত্রিসভা মানুষের উন্নয়ন করুক, আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করুক, এটাই আমি চেয়েছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পাঁচ বছর হতে চললো, রাজনৈতিকভাবে আমাকে কাজে লাগানো হয়নি বলেই আমি এটাকে রাজনৈতিক কারাগার বলছি। কিন্তু আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। একটি বিশ্বাস থেকে, একটি মূল্যবোধ থেকে রাজনীতিতে এসেছি। বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে বাংলার মানুষকে ভালবাসতে শিখেছি। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত এমন কোন জেলা নেই যেখানে আমি সফর করিনি। আজকে আমাদের হাতের তৈরী কর্মী মন্ত্রিসভায়, আমাদের হাতে তৈরী কর্মী সংসদে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আছে। কাজেই দু’-একটি কাজের যে সুযোগ ছিল সে সুযোগগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। মুখ খোলার পর দলের কর্মীদের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সুলতান মনসুর বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে, সচিবালয় থেকে সেই সময় যারা রাজনীতি করতেন তারা আমাকে বলছেন, সুলতান ভাই আপনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন। সেসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মনে করি, পানির মধ্যে মাছের যে সম্পর্ক রাজনীতিবিদের সঙ্গে মানুষের সে সম্পর্ক। সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও চেতনার দিক থেকে আমি রাজনীতিতে ছিলাম। কর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। বঞ্চিত হওয়ার বিষয় নিয়ে আপনার সভানেত্রীর সঙ্গে কেন খোলামেলা আলাপ করছেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে মনসুর বলেন, আমি আবারও দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমি বঙ্গবন্ধুর প্রেমিক। আমি আওয়ামী লীগ কর্মী। আমি জনতার আওয়ামী লীগে বিশ্বাস করি। এদেশটি যেমন কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়, তেমনি আওয়ামী লীগও কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। নেত্রী আমাকে কেন বাদ দিয়েছেন সে উত্তরটি নেত্রী দিতে পারবেন। সে উত্তর আমি দিতে পারবো না। একজন আসামিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাকে কোন কিছুই বলা হয়নি। যা-ই হোক আমি মেনে নিয়েছি। কারণ, আমি মনে করি, রাজনীতি ধৈর্যের একটি বিষয়। সে ধৈর্য ধারণ করছি। তবে আমি যে রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি- সে প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মেয়ে আর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দু’টি সত্তা। যখন বঙ্গবন্ধুর মেয়ের প্রশ্ন আসে তখন অনেক কিছুই আমাদের স্মৃতিতে ভেসে আসে। আমি যখন সভাপতি ছিলাম তখন অনেক কাজই কিন্তু আমাকে করতে হয়েছে যে কাজগুলো করা হয়তো আমার ঠিক হয়নি। কিন্তু নেত্রীর নির্দেশে আমাকে করতে হয়েছে। কাদের সিদ্দিকী তার আর্টিকেলে লিখেছেন, সরকার থাকা অবস্থায় সখীপুর বাসাইলে আমি সেদিন নির্বাচনে গিয়েছিলাম। যেতে হয়েছিল আমাকে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। কাজেই বঙ্গবন্ধুর মেয়ের নির্দেশ-আদেশ আমাকে মানতে হয়েছিল। এবং তিনিও আমাকে তার ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। আমিও বিশ্বস্ততার সঙ্গে যতদিন দায়িত্ব ছিল কাজ করার চেষ্টা করেছি। তিনি সেভাবে বলেছেন, সেভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে আমি প্রমাণ করেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শক্তিশালী। এবং শুধু আওয়ামী লীগ নয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আমরা একত্র করেছিলাম। এখন তিনি কেন আমাকে বাদ দিয়েছেন সে উত্তরটি আবারও বলছি তিনিই জানেন। ’৯৬ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ঝুলিয়েছিলাম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন অনেক কাজ করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে কোন কিছু ছিল বলে আমি মনে করি না। শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং ওয়ান ইলেভেনের পর যেগুলো আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত সেগুলো আওয়ামী লীগের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। উনার অনুপস্থিতিতে মরহুম জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে যেসব আলাপ-আলোচনা হয়েছে সেসব বিষয়ে আমরা ঐকমত্য ছিলাম। আমি মনে করি, আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। ’৯৬ সালে এমপি হওয়ার পর আমাকে সংসদীয় কমিটির সদস্য করা হয়নি। আমাকে সিনেট সদস্যও করা হয়নি। এর পেছনে একটি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।
ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, এর জন্য তাদেরকে আমি দোষারোপ করতে চাই না। বর্তমান পরিস্থিতিই তাদেরকে বাধ্য করেছে। একটা কথা আছে, বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃকোলে। সঙ্গ দোষে লোহা জলে ভাসে। এটা নির্ভর করে যারা পরিচালক থাকেন তাদের ওপর। আমরা যারা ছাত্ররাজনীতিতে ছিলাম, তারা সেটা চেতনাবোধ থেকেই করেছি। একটি বিশ্বাস থেকে এগুলো অনুশীলন করতাম। আর বর্তমান ছাত্রনেতারা ওপরে দেখছে কি পরিবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চলছেন। সেটার প্রভাব কিন্তু তাদের ওপর পড়ছে। আমার খুব খারাপ লাগে, গত কয়েক দিন আাগে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ-যুবলীগকে বলেছেন টেন্ডারলীগ। সেই ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ধারণ করে আমরা এ পর্যায়ে এসেছি। আমি মনে করি, বর্তমান রাজনীতির ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে এ অপবাদ বহন করতে হচ্ছে। আমি শুধু এটুকুই বলবো, নেতার ছেলে নেতা হবে, মন্ত্রী হবে এমপি হবে, কর্মীরা সংগঠন করবে, জেলে যাবে, কাজ করবে- এই ধারা আমরা বদলাতে চাই। ওই ধারা বদলাতে গিয়ে ওই ধারার আমি শিকার হয়েছিলাম। আমরা মনে করি মেধার ভিত্তিতে যিনি নেতৃত্বে আসবেন তিনিই নেতা হবেন। যার মেধা থাকবে তিনি যোগ্যতার আসনে আসীন হবেন। সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকে সংগঠনকে বিকাশের চেষ্টা করেছি। চারণের বেশে জীবনের হুমকি নিয়ে আমরা রাজনীতি করেছি। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় শেখ হাসিনা আহত হয়েছিলেন। আমিও আহত হয়েছিলাম। আমিও মারা যেতে পারতাম। কিন্তু আমি এখনও জানি না, কি অভিযোগে অভিযুক্ত। কি অভিযোগে সংবিধান প্রণেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ অভিযুক্ত। মুকুল বোস অভিযুক্ত। ’৭৫-এর পরে যারা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছিলেন, তাদেরকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মূল রাজনীতি থেকে দূরে সরানো হয়েছে। আমাকে সেই লক্ষ্যেই রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমি যাতে ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
ছাত্রনেতারা মূল কাঠামোর বাইরে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান হয়েছিল বাংলাদেশে যারা এদেশের মানুষের সহানুভূতি নিয়ে রাজনীতি করতেন তাদের একেক করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। আর যারা বিদেশী টাকা নিয়ে ওই সময়ে প্রগতিশীল রাজনীতি করতেন, তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি করতেন, তারা বিদেশী টাকা নিয়ে তখনও খাচ্ছেন, এখনও খাচ্ছেন। স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা এখন রাজনীতি করেন। জাতীয়তাবাদী শক্তি সব সময় দেশের মানুষের স্বার্থকে দেখে। এজন্য আমি মনে করি একটি সুগভীর পরিবকল্পনার মাধ্যমে অদৃশ্য একটি শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করছে এবং ৬০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত যারা ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাদের বিভিন্নভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। এটার অংশ হিসেবেই আমরাও অনেকটা শিকার হয়েছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট