Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করার প্রস্তাব হাইকমান্ডের

জিসিসি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেয়ার কথা বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড থেকে। এ কথা জানালেন জাহাঙ্গীর আলম নিজেই। তিনি বলেন, গতকাল যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব  দিয়েছেন। এর আগে দলের উচ্চ মহল থেকেও একই কথা বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি ওই উচ্চ মহলের নাম বলতে চাননি। গতকাল বিকালে উত্তরা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে কথা হয় জিসিসি নির্বাচেন মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তবে এ পরিস্থিতিতে তিনি আর নির্বাচনে লড়বেন না বলে জানান। কেন লড়বেন না? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনেক কথাই বলা যায় না, বলা ঠিক না, আমারও রাজনীতি করতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে। আমার মা অসুস্থ, তাকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজমতউল্লাকে নয়, সমর্থন দিয়েছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাকে খুশি রাখতে আমি মাঠে নেমেছি। আজমতউল্লার দোয়াত-কলম মার্কায় ভোট চাইছি। আমি নির্বাচনে মাঠে থাকবো, ভোট চাইবো। কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন, কারা আপনাকে নিয়ে গেছেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলাম। সে সময়ে আমার নেতা ছিলেন লিয়াকত শিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবু। তারা আমাকে টঙ্গী থেকে গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান। তবে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমাকে বলেন, আমরা মাঠে ঘুরেছি, এখানে আপনার অবস্থা ভাল। সে কথাই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো। কিন্তু তারা কথা রাখেননি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে তারা মাঠের অবস্থা বলার সাহস পাননি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্বাচন ছেড়ে দিতে বলেছেন, আমি ছেড়ে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, তিনি মায়ের মতো। তার কথা না রেখে পারি না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি কেবলই প্রধানমন্ত্রীর কথায় নির্বাচন ছেড়ে দিয়েছি অন্য কারও জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে কি আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? খানিকক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন দেখতে পাবেন, এই মুহূর্তে বলাটা ঠিক হবে না। তবে জানা গেছে জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুরের একটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজমতউল্লার জয়-পরাজয় সম্পর্কে বলেন, অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোলে ভাল ফল হতে পারে। তবে জয়পরাজয় আল্লাহর হাতে, কে জিতবেন কেবল আল্লাহই জানেন। তিনি বলেন, তবে আমার বিজয় নিশ্চত ছিল বলে আমি বলতে পারি। কারণ, সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়বো বলে কয়েক বছর ধরে আমি কাজ করছি- যখন সিটি করপোরেশন গঠিত হয়নি সে সময় থেকে। গাজীপুরকে সিটি করপোরেশন করতে হবে এমন দাবি নিয়ে আমিই প্রথম মাঠে নামি। প্রস্তাবিত সিটি করপোরেশনের আমি ছিলাম আহ্বায়ক। এ নিয়ে অনেক আন্দোলন করতে হয়েছে, টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়েছে, শ্রম দিতে হয়েছে। আমি সেগুলো করেছি। সে কারণে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটির জন্য অন্যদের চেয়ে আমার মায়া একটু বেশি। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি চেয়েছিলাম গাজীপুর প্রথম সিটি করপোরেশন এখানে যাতে মেয়র পদে কট্টর আওয়ামী লীগ বা কট্টর বিএনপির কেউ না আসে। কট্টর দলীয় লোকেরা মেয়র হলে বাস্তবতার কারণেই সর্ব সাধারণের প্রবেশ অনেকাংশে রহিত হয়, কিন্তু তা হলো না। সমর্থক পরিবেষ্টিত হয়ে কথা বলার সময় জাহাঙ্গীর আলমের বেশ কয়েকজন সমর্থক বলতে থাকেন, জাহাঙ্গীর ভাই প্রার্থিতা ছেড়ে দিলেও আজমতউল্লার সমর্থকরা এখনও জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের স্বভাবিক ভাবে নেয়নি, তাদেরকে কাজে ডাকছে না। বরং আজেবাজে কথা বলছে। জাহাঙ্গীর আলমের এক সমর্থক অভিযোগ করলেন, আমি আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছি, কিন্তু জাহাঙ্গীর ভাইকে সমর্থন করি বলে আজমতউল্লার লোকেরা টিটকারি দিয়ে বলে, আসো মিয়া নৌকায় ওঠো। ওই সমর্থক বলেন, জাহাঙ্গীর ভাইকে অনুরোধ করলেও তার কয়েক হাজার কর্মীকে এভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি দলের নেতাদের অনুরোধ করেছি, বলেছি এভাবে আমার সমর্থকদেরকে দূরে সরিয়ে রাখলে আপনাদেরই ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার সকল ভোটারই সম্মানিত, তাদেরকে সম্মান দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে। সেখানে আমার সমর্থকরাও ভোটার, তাদেরকেও সে ভাবে কাছে টানতে হবে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি দলের নেতাদের বলেছি, নির্বাচনে আমি চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রচারে নেমেছিলাম- গাজীপুরে শিক্ষা বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পাওয়ার সেক্টরের উন্নয়ন। আমি বলেছি আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী যেন ওই বিষয়গুলোর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দলীয় নেতারা কথা দিয়েছেন তারা ওই গুলোর ওপর গুরুত্ব দেবেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন করতে না আসাই ভাল ছিল, নির্বাচন করতে এসে ব্যক্তিজীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম, মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আকাশ-বাতাসের নানা কথা শুনে। এখন মাকে সুস্থ করে তোলা আগে দরকার। তিনি আবারও বলেন, আজমতউল্লার জন্য শেখ হাসিনা ও দলের কথা চিন্তা করে মাঠে নেমেছি।
জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কাদের-নানকের একান্ত বৈঠক: গতকাল উত্তরায় জিসিসির আওয়ামী লীগ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাদের বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সেখানে যোগ দেন গাজীপুরের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে দুই মন্ত্রী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন, তারা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রার্থী হওয়ার কথাও বলেন বলে সূত্রে জানা গেছে। জাহাঙ্গীর আলম বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেছেন, তাকে প্রার্থী হওয়ার কথাও বলা হয়েছে, আবার সার্বিক নির্র্বাচনী পরিবেশের কথাও বলা হয়েছে। দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি হয় উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের ৩বি নম্বর সড়কের হোটেল রিজেন্সির তৃতীয় তলার ৩০৩ নম্বর কক্ষে। বেলা ৩টার দিকে দুই মন্ত্রী ঢাকা থেকে উত্তরার ওই হোটেল এসে পৌঁছান। তাদের পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর সেখানে যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি সেখানে আসেন গাজীপুর থেকে। বেলা চারটার দিকে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার চলে যাওয়ার পরই সেখানে অবস্থান করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। ওই সময় বৈঠকস্থলে আসেন গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা জজকোর্র্টের পিপি এডভোকেট আবদুল মান্নান পাঠান, গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা মতিউর রহমান মতি সহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ওবায়দুল কাদের চলে যাওয়ার পর বৈঠক থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে আসেন বিদ্রোহী প্রার্র্থী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, নেতারা আমাকে প্রার্থী হতে বলেছেন কিন্তু আমি এ পরিস্থিতিতে আর প্রার্থী হবো না। আমি দল রাজনীতি এবং এলাকার স্বার্থে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট