Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাতীয় সংসদে শালীনতার চরম সীমা লংঘন

মহান জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন ভাষা ব্যবহারের মহোৎসব। এখন শুরু হয়েছে চরিত্র হননের পালা। বিরোধী দলের দু’একজন সংসদ সদস্য যে অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেন না, তা নয়। তারাও রাগে ক্ষোভে কখনো কখনো ওয়াকআউট করেন, প্রতিপক্ষকে দু’চার কথা গালমন্দ করেন। কিন্তু এমন তো কোনোদিন হয়নি। জাতীয় সংসদের প্রাণ থাকলে নিজেই হয়তো এ ভবন আত্মহত্যা করতো। স্থপতি লুই কান নিশ্চয়ই এমন স্বপ্ন দেখেননি যে, তার স্মৃতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে এমনভাবে কলঙ্কিত করা হবে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদকে বলা হয় সংসদীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু সেখানে জাতি একি দৃশ্য দেখছে? পুরুষ সদস্য হলে না হয় একটা কথা ছিল। তিনি একজন মহিলা সংসদ সদস্য। সরকারি দলের টিকেটে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি। তাকে যারা দেখেননি অথবা চেনেন না তাদের কাছে মনে হবে হয়তো তিনি পুরুষ। ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলে বুঝার উপায় নেই যে, তিনি মহিলা। তিনি শুধু জাতীয় সংসদ সদস্য নন, একজন অধ্যাপিকাও। তার দু’টি পরিচয়ই মহান। একদিকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং অন্যদিকে শিক্ষক। কিন্তু এ তিনি তার আচরণে প্রমাণ করেছেন যে, এ দু’টি পরিচিতি তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি সংসদে এমন অশোভন ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্র হনণে তার জন্মপরিচয় নিয়ে এমন জঘন্য উক্তি করেছেন যা অধিকাংশ সংবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। তার লজ্জা না থাকলেও সংবাদপত্রগুলো লজ্জা পেয়েছে। শুক্রবার তার আদর্শের অনুসারী একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় ‘নোংরা, অশোভন রুচিহীন: সাংসদরা এসব কী বলছেন!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, এসব ‘অমিয় বচনের’ অনেকটাই সংবাদপত্রে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

একই ঘরানার আরেকটি জাতীয় দৈনিকের শেষ পৃষ্ঠায় ‘সংসদে আশালীন ভাষায় আক্রমণ চলছেই’ তিন কলামে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়, স্পিকারের রুলিং সত্ত্বেও কার্যদিবসগুলোতে বারবার অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হলেও বৃহস্পতিবার ছিল চূড়ান্ত। অন্য একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অসংসদীয় ভাষায় সংসদ উত্তপ্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বাজেট প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা নেই।

সংবাদপত্রগুলোর শিরোনাম সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, জাতীয় সংসদে আগামী অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা নিষ্প্রয়োজন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যগণ স্পিকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন। কিন্তু এ মহিলা সংসদ সদস্য বাজেটের ওপর তো নয়ই, বরং তিনি বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনায় বিঘ্ন ঘটিয়েছেন। কেন বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি তার এত আক্রোশ তা বুঝা ভার। হয়তো তিনি ভাবছেন তিনি বাহবা কুড়াবেন। কিছু বিকৃতমস্তিষ্ক ও গুরুতর উন্মাদ ছাড়া আর কারো কাছ থেকে তিনি বাহবা পাবেন না। মিথ্যা ও কুরুচির জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়ার রেওয়াজ থাকলে নিশ্চয়ই তিনি আশা করতে পারতেন। আলফ্রেড নোবেল বেঁচে থাকলে হয়তো কেউ কেউ রসিকতা করে তাকে অপু উকিলের মতো নিলর্জ্জ ও বেশরমদের লজ্জা দেয়ার জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়ার পরামর্শ দিতেন। তিনি যা বলেছেন এমন কথা ভবিষ্যতে সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো সভ্য মানুষ উচ্চারণ করবে কিনা সন্দেহ।

সরকারি দলের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা হরহামেশা এবং সুশীল সমাজের অনেকে বিরোধী দলকে সংসদে যোগদানের পরামর্শ দিয়েছে। বিরোধী দল তাদের পছন্দ মতো সময়ে সংসদে যোগদান করেছে। তাদের উপস্থিতি বাজেট অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কিন্তু কেন তাদেরকে শ্লোগান দিয়ে অধিবেশন বর্জন করতে হলো তাও জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। সংসদের সভাপতি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী বিরোধী দল ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তিনি অসংসদীয় ও অশোভন শব্দ উচ্চারণ করা মাত্র অধ্যাপিকা অপু উকিলের মাইক বন্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি অপু উকিলকে তার অশ্রাব্য বক্তব্য চালিয়ে যাবার সুযোগ দিয়েছেন। তার মানে কি এই নয় যে, অপু উকিল যা বলেছেন তা তার একার নয়? অতএব ডেপুটি স্পিকারকেও এ হীন উক্তির দায়ভার বহন করতে হবে। বিরোধী দল যদি সংসদ বর্জন করে তাহলে সরকারি দলের মহিলা সদস্য অপু উকিল, ডেপুটি স্পিকার এবং খোদ সরকারি দলই দায়ী হবে। শুধু তাই নয়, গণতন্ত্র ব্যর্থ হলেও তার দায় দায়িত্ব তাদের।

গণতন্ত্র মানে যা মুখে আসে তাই বলা নয়। গণতন্ত্র এক মহান আদর্শ। এ মহান আদর্শের নিচে আশ্রয় নিয়ে কিছু দুষ্ট কীট গণতন্ত্রের সৌধকে অহরহ ক্ষত বিক্ষত করছে।  অথচ তারাই গণতন্ত্রের কথা বেলা বেড়ায় বেশি। তাদের উদ্দেশ্যে কবি নজরুল ইসলাম তার ‘মানুষ’ কবিতায় যথার্থই লিখেছেন: হায়রে ভজনালয়, তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট