Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নির্যাতন চরম বর্বরতা’

‘সমপ্রতি গণমাধ্যমের ওপর যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে তা প্রমাণ করে বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সরকার টক শোসহ গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যা নিবর্তনমূলক। আমার দেশ, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধসহ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন চরম বব্ররতা। আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে রেশমাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রচার করা যাবে না।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় রাজনীতিক, সম্পাদক ও বিশিষ্টজনরা এ কথা বলেন।

শনিবার মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শীর্ষক অ্যাডভোকেসি মিটিংয়ে আয়োজন করা হয়। রাজধানীর স্পেকট্রা সেন্টারে দিনব্যাপী তিনটি পর্বে এ আলোচনাসভা হয়।

অধিকার-এর কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন ভুইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার ও অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান।

দ্বিতীয় পর্বে নিউজ ফ্রম বাংলাদেশ-এর সম্পাদক তানভীর চৌধুরীর সঞ্চালনায় অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্না, দৈনিক আমার দেশ-এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পাটির্র সাধারণ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ নির্যাতন বিরোধী জোট-এর আহ্বায়ক গৌতম দাস এবং শেষ পর্বে অধিকার-এর কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন ভুইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বায়োস্কপ-এর সিইও কাজী জেসিন ও দি নিউ এইজ-এর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক শহীদুজ্জামান। আলোচনা পর্বে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ আহসান হাবিব নিলু তার ওপর ডিবি পুলিশের নির্যাতন ও হয়রানি এবং প্রথম আলো’র সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সালেহ আহমেদ তাদের ওপর সরকারদলীয়দের হামলার চিত্র তুলে ধরেন।

ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হোক- এটা আমরা কেউ চাই না। এটা মাথায় রেখেই সবাইকে কাজ করতে হবে। বর্তমানে মিডিয়া পূর্ণ না হলেও স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন। তার পত্রিকায় কাবা শরীফের গেলাফ পরিবর্তনের ভুল ছবি প্রকাশ করেছেন; এটা সাংবাদিকতা নয়। তবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এটা আমার কাছে বিশ্বাস হয় না। তাছাড়া সাংবাদিক হত্যাকান্ড সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের বক্তব্যের সমালোচনা করে ড. ওসমান ফারুক  বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিবর্তনমূলক আচরণ চলছে। আমার দেশ, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভিসহ অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো গণমাধ্যম নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে জনগণ তার বিচার করবে। তারা ওই গণমাধ্যম বর্জন করবে। অপরাধ করলে প্রয়োজনে আদালতে বিচার হবে। কিন্তু গণমাধ্যম বন্ধ করা কেন?

ওসমান ফারুক বলেন, আগে গ্রেফতার, পরে মামলা রিমান্ডে নেয়া- এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মানুষের অধিকার হরণ ও নির্যাতন করছে। এই ল্‌ইাসেন্স সরকারকে দেয়া হয়নি।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় এজেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরহাদ মজহার বলেন, সমপ্রতি গণমাধ্যমের ওপর যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে, তা প্রমাণ করে বর্তমানে মিডিয়ার স্বাধীনতা নেই। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার, নির্যাতন, অন্যায়  মামলা তার তার মতো প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ। এছাড়া দিগন্ত, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ গণমাধ্যম বন্ধ এবং আইসিটি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন মতো প্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী এবং ফ্যাসিস্ট চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। স্বাধীনতার পর আমরা যে সংবিধান পেয়েছি তা গণমানুষের মতের বাইরে। সেখানে সাধারণ মানুষের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয়নি। এখানে ইসলামকে নির্মূল করার চিন্তা করা হয়েছে।  এ সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামবিরোধী। এই সংবিধানের কারণে গত ৪২ বছর ধরে দেশের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ গড়ার যুদ্ধে এদেশের আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু তাদের খাটো করে দেখা হয়েছে সংবিধানে। এ থেকে মুক্তি পেতে ও জনগণের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।

ফরহাদ মজহার বলেন, মানবাধিকার প্রশ্নে আরেকটি প্রধান দল বিএনপির ভূমিকা স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই মিলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীরা গায়ে রঙ মেখে শুয়ে ছিলেন? এটা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বিপদসংকেত। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে জাগরণ শুরু হয়েছে নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের।

ফরহাদ মজহার বলেন, ৭১ সালের ১০ এপ্রিলে আমাদের প্রথম যে সরকার গঠিত হয়েছিল, সেটির মূল তিনটি নীতি ছিল- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সে তিনটি মুলনীতি আজ উপেক্ষিত।

তিনি বলেন, সংবিধানে সাধারণ মানুষকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রকে। তিনি বলেন, কুরআনকে জেহাদি বই বলে মানুষকে জঙ্গি বানিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। কুরআন কিভাবে জেহাদি ব্‌ই হলো? আজকে এমন ধারণা ছড়ানো হচ্ছে যে, মুসলমান হলেই জঙ্গিবাদী। মুসলমান হলে তার কোনো মানবাধিকার থাকবে না। এটা হয় না।

আমরা বর্তমানে দাসব্যবস্থার রাষ্ট্রে বসবাস করছি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ রাষ্ট্রে আমরা পাঁচ বছর পর পর মালিক পরিবর্তন করি। প্রকৃতপক্ষে আমরা জনগণের কোনো প্রধানমন্ত্রী পাইনি, পেয়েছি দলের প্রধানমন্ত্রী। তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভাষা ও কথাবার্তায় প্রমাণিত।

আমাকে টকশো থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে বিভিন্ন মহল থেকে- এমন মন্তব্য করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, কমেপ্রামাইজ করতে করতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মাহমুদুর রহমানকে বলা হয় হঠাৎ সম্পাদক হয়েছেন। কেন তিনি হঠাৎ সম্পাদক হতে পারবেন না? কয়জন সম্পাদক আছে হঠাৎ সম্পাদক নয়? অনেক সম্পাদক জীবনে এক কলম লিখেননি, কিংবা দলীয় এমপি নির্বাচন করেছেন তারাও সম্পাদক হয়েছেন। আমরা সবকিছু করতে পারি না। সত্য ও বাস্তব কথা বলতে পারি না। সম্পাদকরা মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য বিবৃতি দিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আজকে বলা হচ্ছে, রেশমাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রচার করা যাবে না। তাকে এখন পাজেরো গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তায়। এটা কেন করা হচ্ছে? এগুলো আমরা বলতে পারি না।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের লড়াই করতে হবে, লড়াই করার মানসিকতা থাকতে হবে। আমার দেশ বন্ধ হওয়ার পর একপক্ষ খুশি হয়েছে। টেলিভিশনগুলোতে প্রতিনিয়ত মিথ্যা ও দলীয় সংবাদ প্রচার হচ্ছে। কিন্তু মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি বলেই চার সিটি করপেরেশন নির্বাচনের ফল এমন হয়েছে।

আমার দেশ বন্ধ চরম অন্যায় হয়েছে মন্তব্য করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন চরম ববর্রতা। এই ববর্রতার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকায় কাবাঘরের গেলাফ পরিবর্তনের ছবি ছাপানোর ভুলের কারণে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যমের এমন স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয়।

তিনি জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, কেউ চুরি করলে তাকে চোর ও ব্যর্থ শাসককে ব্যর্থ বলাই যুক্তিসঙ্গত। তাই বলে কাউকে চোর বললে কারো ব্যক্তিগত বিষয় ও চরিত্র নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার উচিত নয়।

তিনি বলেন, ব্লগারদের সম্পর্কে প্রথম লিখেছিল দৈনিক ইনকিলাব। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন?

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সিটি নির্বাচনসহ সব ক্ষেত্রে সরকারের যে ধস নেমেছে, এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে মিডিয়া। কিন্তু সরকার মিডিয়ার টক শো বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। মিডিয়ার ওপর এ চাপ নিমর্তনমূলক।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট