Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বাংলাদেশ : গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বাংলাদেশের রাজপথ। এছাড়া চলমান সহিংসতা ও বিক্ষোভের কারণে দেশটিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ব্যাহত হতে পারে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

মঙ্গলবার ‘ভায়োলেন্স এন্ড প্রোটেস্টস কোড ডিরেইল বাংলাদেশ ইলেকশনস’ শিরোনামে লেখা প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু, আগামী নির্বাচন, সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীত অবস্থান, গণজাগরণ মঞ্চের নেতার আত্মগোপনসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।

গণজাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচ সরকার সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মগোপনে রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা ডা. ইমরান এইচ সরকার বিগত কয়েক মাস আগে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডের দাবিতে ফেইস বুকের মাধ্যমে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে তুলেন ইমরান এইচ সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান এইচ সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও শিগগির তারা নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আসতে পারে। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন ও এর নেতাকর্মীরা ইসলাম ও মহানবী (সা:)-কে অবমাননা সত্ত্বেও সরকার তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর অভিযোগ। ইসলামী দলগুলো এ নিয়ে দেশে বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছে।

ঢাকা থেকে গার্ডিয়ান সাংবাদিক জ্যাসন ব্রুকের লেখা এ প্রতিবেদনে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দল এরই মধ্যে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতা আর অস্থিরতার কারণেই বাংলাদেশে ছয় বছর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। যার ধরুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। আর ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে রাজপথে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। এ ধরনের সংঘর্ষ আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আরো বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বমূলক ও বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দেশটিতে ৪২ বছর আগের যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ চলছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাইব্যুনালের একটি রায় দেয়াকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ৭০ জনেরও অধিক লোক নিহত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, তারা নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে। যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান রিজভী। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির ব্যাপারটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না, যা আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

রিজভী বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হবে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তারা সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়,  বিএনপির এক নেতা গার্ডিয়ানকে জানান, ‘নেতাকর্মীরা মনে করছেন বিএনপিকে নির্বাচন ত্যাগে বাধ্য করে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে  ক্ষমতা গ্রহণের উদ্দেশ্য রয়েছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের।’

তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতা ধরে রাখে তাদের সবসময় পদত্যাগ করতে হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হবে জেনেই তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বন করতে চাচ্ছে।’

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং রমজান শুরুর আগেই বিএনপি বৃহত্তম কর্মসূচি দেবে বলেও জানানো হয় গার্ডিয়ানের এ প্রতিবেদনে। আর এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারকে তাদের অবস্থানের জানান দিবে।

প্রতিবেদক জ্যাসন বুর্কে প্রতিবেদনে হেফাজতে ইসলামের ৫ মে’র অবরোধের প্রসঙ্গও এনেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি যা লিখেছেন তাতে ‘ইতিবাচক’ দৃষ্টিভঙ্গির একটি ‘আমেজ’ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেছেন, গত মাসে রাজধানী ঢাকায় একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম নামের একটি ইসলামী সংগঠন, যার সমাপ্তি ঘটে পুলিশি হত্যাকান্ডের মাধ্যমে।

দাবি আদায়ে হেফাজত আবারো রাজপথে নামার চিন্তা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদককে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রত্যেকেরই রাজপথে আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা, চলমান যুদ্ধপরাধের বিচার এবং তরুণ ভোটারদের দলীয় রাজনীতির প্রতি উদাসীনতা এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মগোপনে রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা ডা. ইমরান এইচ সরকার। বিগত কয়েক মাস আগে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডের দাবিতে ফেইস বুকের মাধ্যমে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে তুলেন ইমরান এইচ সরকার। রিপোর্টে বলা হয়, ইমরান এইচ সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও শিগগির তারা নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারে।

তাদের বিরুদ্ধে মহানবী (সা:)-কে অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। আর ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদেই হেফাজতে ইসলাম নামের একটি সংগঠন ঢাকায় গত মাসে বিশাল বিক্ষোভ করে। আর তাদের এ বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানে অনেক লোক নিহত হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট