Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

খুলনা সিটি নির্বাচনে জরিপে এগিয়ে মনি, কারচুপির আশংকা

জামায়াতে ইসলামীসহ ১৮ দল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সমর্থন নিয়ে ভোট জরিপে এগিয়ে আছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনি। কিন্তু তারপরেও দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির আশংকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বস্তিতে কালোটাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছে বিএনপি। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ মনিরুজ্জামান মনি ও তালুকদার খালেকের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশংকা করা হচ্ছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে ১৪দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে ১৮দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির এবারের লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডির পথেই এগোচ্ছে। মনির নিজ দল বিএনিপসহ ১৮দলীয় জোটের পূর্ণ শক্তি পাশে পেলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টিকে পাশে পাননি। বরং জাতীয় পার্টি তাদের দলীয় সমর্থনে খুলনা জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধুকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তবে ১৪ দল খালেকের পাশে আছেন। একই সঙ্গে সাবেক স্পিকার এডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী ও সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খালেকের প্রতিপক্ষ প্রার্থী এডভোকেট এনায়েত আলীর প্রকাশ্য সমর্থন জাতীয় পার্টির পাশে না থাকার শূন্যতা অনেকটা পূরণ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে এবারের লড়াইটা যে ২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চেয়েও হাড্ডাহাড্ডি হবে তা এখন থেকেই আঁচ করা যাচ্ছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদটি ১৯৯২ সাল থেকে প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপিসহ সমমনা জোটের দখলে ছিলো। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০২ সালের নির্বাচনে এখানকার ভোটার সংখ্যা ছিলো ৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৮০।
ওই নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র এডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট এনায়েত আলীর চেয়ে ৫৬ হাজার ৪৪৮ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯৪ সালের মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত পৃথক পৃথকভাবে দলগত প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই সময় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছিলেন প্রায় ২৮ হাজার ভোট। স্থানীয় জামায়াত মনে করে ওই ভোট জামায়াতের নিজস্ব কর্মী ও সমর্থক ভোট।

জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে মহানগর জামায়াতের পুরুষ ও মহিলা রোকন সংখ্যা ছিলো দুইশ’ এর অধিক। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় তা বেড়ে ৫০২ এ দাঁড়ায়। এ সময় জামায়াতের রিপোর্টে কর্মী সমর্থকের সংখ্যা ছিলো ৪০ হাজারের মত। বর্তমানে এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সমমনা শরিক ইসলামী দলগুলোরও ভোটার বেড়েছে। সব মিলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে জামায়াতসহ অন্য শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা মাঠে নামায় শক্ত ভীতের উপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন মনি।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ১৮দলীয় জোটের খুলনা মহানগর সমন্বয় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনির বিজয় এবার নিশ্চিত। কারণ বিএনপি ও জামায়াতসহ ১৮দলীয় শরিক দলগুলো আকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে মাঠে কাজ করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে খুলনার পুলিশ-প্রশাসন সব আওয়ামী লীগ দলীয়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও আধা আওয়ামী লীগের। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা মাঠ গরম করছে। তাদের হাতে থাকা অঢেল কালো টাকা ছড়ানো শুরু করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অপরদিকে বিগত ৫ বছর মেয়র পদে থেকে তালুকদার আব্দুল খালেক ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে গত ৫ বছরে খুলনা সিটি করপোরেশনের সামগ্রীক উন্নয়ন চোখে পড়ার মত। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দলীয় কোন্দল থাকলেও এই মুহূর্তে প্রকাশ্য নয়। জাতীয় পার্টি বাদে ১৪ দলের শরিক অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেই সঙ্গে সাবেক স্পিকার এডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী ও সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম এডভোকেট এনায়েত আলীর প্রকাশ্য সমর্থন পেয়েছেন খালেক। সব মিলে শক্ত অবস্থানে আছেন তালুকদার আব্দুল খালেক।

তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ৫ বছর খুলনাবাসীর উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছি। এই সময়ের মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। করপোরেশন ছেড়ে আসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭শ’ কোটি টাকার নানা প্রকল্প পাইপ লাইনে রেখে এসেছি। সব মিলিয়ে উন্নয়নের দিক দিয়ে এত উন্নয়ন সিটি করপোরেশন সৃষ্টির পর আর হয়নি। তিনি বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি শরিক দলগুলোও সর্মথনের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গছে, ১৪দলীয় জোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত মেয়র প্রার্থী খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু রাতদিন দৌড় ঝাপ করছেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মধুর পক্ষেই মাঠে কাজ করছে। জাতীয় পার্টি মনে করে খুলনা মহানগরীতে তাদের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন জাতীয় পার্টির নেতা এস এম এ রব মেয়র পদে দাঁড়িয়ে ভোট পেয়েছিলেন ৪০ হাজার। এই ভোট জাতীয় পার্টির রিজার্ভ ভোট। সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে জাতীয় পার্টি।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল গফফার বিশ্বাস বলেন, খুলনা মহানগরীতে আমাদের রিজার্ভ ভোট আছে অনেক। জাতীয় পার্টি যে ফুরিয়ে যায়নি এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট