Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ : ব্যয় ২,২২,৪৯১ কোটি টাকা

 আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৫৫ হাজার ০৩২ কোটি টাকার ঘাটতি সংবলিত মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ব্যয় বাজেট  সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ধরে জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের শেষ বাজেটটি উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটটি অনুমোদিত হয়। বিকাল সোয়া ৩টায় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।

বরাবরের মতো এবারও বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে জাতীয় বাজেটটি উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্তমান সরকারের পক্ষে তিনি টানা পঞ্চমবারের মতো বাজেট উত্থাপন করছেন। দীর্ঘ বক্তৃতা পড়ার বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য এবারও বাজেট উপস্থাপনে ইলেকট্রনিঙ ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের শেষ বাজেটটি তুলনামূলকভাবে আকারে কিছুটা বড়। বিপুল বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণগ্রহণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ব্যাপকহারে অনুদান পাওয়ার আশা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী একইসঙ্গে  চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটও সংসদে পেশ করছেন।

দেশের প্রথম মহিলা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত বিশেষ কক্ষে বসে সাবেক স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেট বাজেট উত্থাপন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন। অধিবেশনে উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমাপ্য অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের  (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৩-৮ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী অর্থবছরের জন্যও সমাপ্য বছরের মতো জিডিপির ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ব্যয় বাজেটে অর্থায়নের জন্য রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান হিসেবে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কর থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। ফলে অনুদান ও অন্যান্য ব্যয়সহ সামগ্রিক বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৫ হাজার ০৩২ কোটি টাকা। জিডিপির শতকরা অংশ হিসেবে এ ঘাটতি হবে ৪.৬ শতাংশ। ইতোমধ্যেই মোট ৬৬ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে।

মুহিত জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) হবে ৬.০৩ শতাংশ। যা সমাপ্য ২০১১-১২ অর্থবছরের থেকে দশমিক ২৭ শতাংশ কম। আগামী অর্থবছরে জিডিপিরও সমাপ্য বছরের অনুরূপ ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ০৯ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা ২০১২-১৩ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২২ শতাংশ বেশি। এ বর্ধিত রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ধরনের করই আরোপ করা অপরিহার্য হবে। যা বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিতে নাভিশ্বাস ওঠা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো কষ্টকর করবে। এমনটাই আশঙ্কা করা যায়। অর্থমন্ত্রী অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, আগামী অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি আরো কমবে।

এরশাদের অগণতান্ত্রিক সরকারের দুটোসহ মোট ৬ বাজেট দেয়ার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতোমধ্যে ১৯৮২-৮৩, ১৯৮৩-৮৪, ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন। সপ্তমবারের মতো ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন। ১৯৮২-৮৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।  এবার দেবেন ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার। এর আগে ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করে সর্বোচ্চ বাজেট পেশের রেকর্ড গড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। তিনি প্রথম ১৯৮০-৮১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকার। শেষ বাজেট দেন ২০০৬-০৭ অর্থবছরের জন্য। যার পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট