Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দূষিত পানি পান, ৫০০ শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুরের একটি গার্মেন্ট কারখানায় পানি পান করে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর সদর হাসপাতাল, টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল, তায়ারুন্নেছা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও উত্তরার আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ছুটি হয়ে যায় কারখানাটি। গতকাল এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পোশাক কারখানাটি পরিদর্শন করেন
। কারখানায় শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলা  জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে মহানগরের ভোগড়া এলাকার লাবিব গ্রুপের স্টার লাইট সুয়েটার কারখানার পানির ট্যাপ থেকে সরবরাহ করা পানি পান করে হঠাৎই শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত অন্তত ৫ শতাধিক শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো ও ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে সুস্থ থাকা শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকলে সেখানে ছুটে যান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন। কারখানা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, কেন এমন হয়েছে তা পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না। অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুরের সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. হাবিব উল্লাহ ঘটনার পর থেকেই সদর হাসপাতালে চিকিৎসা কাজের তদারক করছেন। তিনি জানান, পানিতে জীবাণু থাকায় বা বিষক্রিয়ার করণে এমনাটা ঘটতে পারে। রোগী যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে তাদের বেশির ভাগই নিস্তেজ হয়ে আছে আর ঘন ঘন বমি করছেন। আবার তাদের কেউ কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গেছে। সিভিল সার্জন জানালেন, স্যাম্পল হিসাবে ওই কারখানা থেকে ৪ বোতল পানি সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই বলা যাবে আসলে কি ঘটেছে। অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত ওযুধপত্র-ও আনা হচ্ছে ঢাকা থেকে। জেলার সব ক’টি সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মী আনা হয়েছে গাজীপুর ও টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে। বিক্ষুব্ধদের শান্ত করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দলে দলে অসুস্থ শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করতে থাকলে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে ও হাসপতালে ছুটে যান জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ। জেলা শ্রমিকদল সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বাবুল, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কাশেম এবং গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জিয়াউল কবির খোকন ৫ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ায় তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও গার্মেন্ট মালিক পক্ষকে অসুস্থদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিকরা আরও জানায়, প্রতিদিনের মতো তারা সকালে কাজে যোগ দেয়। কারখানার পানির টেপ থেকে পানি পান করে তারা। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত যারা পানি পান করেছে তাদের কিছুই হয়নি। সাড়ে আটটার পর থেকে যারা পান পান করেছে তারাই আক্রান্ত হয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে তারা অসুস্থ হতে থাকে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। ১০ তলা ভবনের ওই কর্মরত প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের মনেই ভয় ঢুকে যায়। তারা কারখানার সামনে বার বার বিক্ষোভ করতে থাকেন। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ তাদের শান্ত করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের ধারণা নাশকতার উদ্দেশ্যেই হয়তো এটা ঘটেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট