Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংলাপের আহ্বান বিএনপির

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে সংলাপ করতে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদুর স্বাক্ষরিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

গত ২২ মে বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে যে বৈঠক করেছেন তার আলোচ্য বিষয়বস্তু বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সহিংসতা, হানাহানি, খুন, নিপীড়ন এবং আক্রমণাত্মক ও অশ্লীল মিথা প্রচারণা বন্ধ করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সব দলের অংশগ্রহণ ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজনের জন্য আবারো ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, সর্বক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অপশাসন, দুঃশাসন, কুশাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বশীলদের কান্ডজ্ঞানহীন উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হটকারী আচরণ দেশকে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। সর্বগ্রাসী সংকটে জাতি আজ হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন সংঘাতপূর্ণ অনিশ্চিত পরিবেশ বাংলাদেশে এর আগে আর কখনো সৃষ্টি হয়নি। জাতীয় সমপদের এমন নিষ্ঠুর লুণ্ঠন, এমন নির্লজ্জ জঘন্য দলীয়করণ এবং এমন বর্বর পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কোনো অভিজ্ঞতা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের আর কখনো হয়নি।

জাতীয় স্থায়ী কমিটি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সরকারের এই দুঃশাসন ও সর্বব্যাপী ব্যর্থতার প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এবং বিরোধী দল যখন দেশবাসীর অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন গড়ে তুলছে সেই সময় গণবিচ্ছিন্ন সরকার আরো অস্থির ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো ব্যবহার করে গণহত্যা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে জনগণের ওপর হামলায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রায় সরাসরি সশস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। বিরোধী দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দের ওপরেও সরাসরি গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। মিছিল-সমাবেশ থেকে নারীদের পর্যন্ত ধরে নিয়ে তাদের ওপর দৈহিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের নামে দীর্ঘ সময়ের জন্য রিমান্ডে নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সম্মানিত নাগরিকদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তা অপপ্রচারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা বর্তমান সরকারের এ জঘন্য কু-অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সক্রিয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় পাইকারি গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পর্যন্ত হাস্যকর সব মিথ্যা অভিযোগে বারবার গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশের কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি লোক এখন আটক রাখা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। বর্তমান সরকার সারাদেশটাকেই আজ কারাগারে পরিণত করেছে।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় আটক করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মিডিয়ায় রাজনৈতিক ধাঁচের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছে। সরকার এ শৃঙ্খলা ও আইন ভঙ্গ এবং এখতিয়ারবহির্ভূত অপতৎপরতায় মদদ দিচ্ছে এবং তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার সতর্ক করা সত্ত্ব্বেও প্রজাতন্ত্রের চাকরিরত কিছু সদস্য জনগণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দলীয় সন্ত্রাসীর মতো আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ ও প্রশাসনের আইন মান্যকারী সদস্যদের প্রতি জাতীয় স্থায়ী কমিটি আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার দেশে অঘোষিত একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন করে গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে দিতে চায়। এ অসদুদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এক অসপষ্ট ও বেআইনি নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। এমনকি দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপির দোয়ার মাহফিলে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বেশির ভাগ সময়ে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে কার্যত অবরোধ করে রাখা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে যে নেতাই মিডিয়ায় কথা বলছেন, তাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচিতেই সশস্ত্রভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জামিনে মুক্ত নেতাকর্মীদের জেল গেট থেকে ধরে আবারো জেলে ঢোকানো হচ্ছে। বিরোধী দলের ঘোষিত কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে সরকারি দল, পুলিশ, র‌্যাব, বিজেবির পাশাপাশি দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মাঠে নামাচ্ছে। তাদের সশস্ত্র হামলার চিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত হলেও গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এমনকি বিরোধী দলের প্রচারপত্র ছাপা ও বিলিতে পর্যন্ত পুলিশ বাধা দিচ্ছে। এভাবে বিরোধী দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কার্যত অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে।

জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, গত ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে হটাতে আলো নিভিয়ে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানোর পর দেশ-বিদেশে সরকার যে ভয়ঙ্কর চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে তা আড়াল করতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন নেতা বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য প্রচারাভিযান শুরু করেছে। গণহত্যাকারী সরকার এখন সন্ত্রাস, ধ্বংস ও হত্যার পথ ছেড়ে বিরোধী দলকে আলোচনা বসার হাওয়াই আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বলছে, সংবিধান বদল করে ক্ষমতা থেকে নির্বাচন করার যে অসৎ ও গণবিরোধী পদক্ষেপ তারা নিয়েছে, তা বহাল থাকবে এবং শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। অর্থাৎ আলোচনার কথা বলে আলোচনার সব পথ তারাই রুদ্ধ করছে।

হেফাজতে ইসলামের ৫ মের অবস্থান কর্মসূচি সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে সরকার উৎখাত হয়ে যেত- এই হাস্যকর অজুহাতে তাদের ওপর গভীর রাতে নৃশংস অভিযান পরিচালনাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারে না। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারি দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ মিডিয়া ও বিরোধী দলের হাতেও রয়েছে। বিএনপি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে কখনো বিশ্বাস করে না। এগুলো আওয়ামী লীগেরই মজ্জাগত অভ্যাস। তারাই সরকার উৎখাতের জন্য ‘ট্রামকার্ড ষড়যন্ত্র’ করেছিল। তারাই বিগত দিনে লগি-বৈঠা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের ’আন্দোলনের ফসল’ বলে একটি অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। বিতর্কিত মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভালোভাবে দেশ চালানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৪ মের ঢাকার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনায় বসুন। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। সরকার সে আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে বলে জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে।”
“ইসলামী টিভি ও দিগন্ত টিভিকে রাতের অন্ধকারে বন্ধ করা, আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের উদ্দেশ্যে ছাপাখানায় তালা দেয়া ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতার-এর প্রতিবাদ করায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ১৫ সম্পাদককে হুমকি, দৈনিক যুগান্তরের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মালিকানার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, টিভি টক শোতে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য, ৯০% নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে এই জনমত জরিপ প্রকাশের দায়ে পত্রিকার সমপাদকের বিরুদ্ধে বিষোদগারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থায়ী কমিটি বলেছে, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সরকার শৃঙ্খলিত করেছে। এভাবে কোনো স্বৈরাচার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এখন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবার ও সরকারের নানান অপকীর্তি ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়ে পড়ছে।

বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় স্থায়ী কমিটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

আগামী ৩০ মে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর অধিনায়ক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাহাদৎবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, শাসক দলের ইশতেহারের প্রতিফলনে বিতর্কিত কোনো বিচারকের পর্যালোচনা, ফরমায়েশি লেখকদের ইতিহাসের বিকৃতি ও সরকারি স্থূল অপপ্রচারণায় গণমানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়াকে মোছা যাবে না। এই বাংলাদেশই তার অবিনাশী স্মৃতিস্তম্ভ।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট