Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

১৮ দলীয় জোট আমাদের কোন টাকা দেয়নি- আল্লামা শফী

আদালতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর জবানবন্দি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দলটির প্রধান আমীর আল্লামা আহমদ শফী। গতকাল দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কারাগারে আটক মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি  উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আল্লামা শফি বলেছেন, গত ৫ই মে হেফাজত কর্মীরা সরকারের পতন ঘটাতে ঢাকায় যাননি। ইসলাম রক্ষায় ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতেই সবাই শাপলা চত্বরে মিলিত হয়েছিলেন। অথচ সরকার নিরাপরাধ আলেমদের ওপর রাতের আঁধারে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। গুলি করে মানুষ মেরেছে।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, হেফাজতে ইসলাম কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন বা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা বসানোর জন্য ঢাকা অবরোধ করেনি। কারণ, হেফাজতে ইসলাম ঈমান-আক্বীদা ভিত্তিক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ১৩ দফা দাবি আদায়ই চলমান আন্দোলনে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সরকার পতনের আশা করার অভিযোগ মোটেও সঠিক নয়। তিনি বলেন, স্বীয় ঈমান-আক্বীদার তাগিদেই দেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতা স্ব স্ব উদ্যোগেই হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে শরিক হয়ে থাকেন। সুতরাং ১৮ দলীয় জোট বা অন্য কোন দল থেকে অর্থ যোগান নেয়ার দাবিও ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে দিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ই মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির চূড়ান্ত বৈঠকে অবরোধ- পরবর্তী মহাসমাবেশ একই দিন নির্ধারিত সময়ে শেষ করার বিষয়টাও ঠিক করা ছিল। কিন্তু ৫ই মে দুপুর ২টার পর থেকে হেফাজত কর্মীরা রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলার ও হতাহতের শিকার হওয়ার পর যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে সে দিন আমার পক্ষে মহাসমাবেশে শরিক হওয়ার পক্ষে চরম নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমার পক্ষ থেকে বারবারই প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, রাতের বেলায় চরম নিরাপত্তাহীন এই পরিস্থিতিতে এতগুলো মানুষকে ছেড়ে দেয়া যায় না। ভোরেই সমাবেশ স্থলে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। সুতরাং পরদিন হেফাজতের অবস্থানকারী নেতা-কর্মীদের বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার খাবার সরবরাহ করার কথা ছিল বলে যা বলা হচ্ছে তা একেবারেই অমূলক।
তাছাড়া ৫ই মে ঢাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল তার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একাধিক বার প্রকাশিত হয়েছে। কারা এসবের সঙ্গে জড়িত তা জাতি ভালভাবেই অবগত আছেন।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের কোন নেতাকর্মীই আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন না। আমাকে অবহিত করা ছাড়া কোন কর্মসূচি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতাও কাউকে দেয়া হয়নি। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছ থেকে রিমান্ডে জোর করেই বিভ্রান্তিমূলক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দমন-পীড়ন ও জবরদস্তিমূলক তৎপরতা বন্ধ করে উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলা-মামলা বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের অনেক মাদরাসা এখনও বন্ধ রয়েছে, অনেক মসজিদের ইমাম-খতিব হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার ছাত্র ও তৌহিদী জনতাকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে দিতে হবে। তাদের প্রতি যে কোন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। এটা তাদের সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমি আশা করবো, ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনবে।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্‌রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস জুনায়েদ বাবুনগরীকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী কখনও প্রচলিত রাজনীতি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তির ব্যবস্থা করুন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট