Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে হাসিনাকে চান তৃণমূল নেতারা

তত্ত্বাবধায়ক নয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ধরনের সরকার গঠন করতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করার বিষয়ে দলীয় সভানেত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন  তারা। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে থাকতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেছেন নেতারা। গতকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভায় নেতারা এমন মতামত দেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দিনভর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠক সূত্র জানায়, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রসঙ্গ এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় দলীয় সভানেত্রী এ বিষয়ে নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন। বৈঠকে নেতারা নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে কথা বলেন। তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। এখন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঠিক করতে হবে। তা ঠিক করতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে। তবে সংলাপের আমন্ত্রণ জানাতে হবে এমনভাবে যাতে তারা সরকারি দলকে দুর্বল না ভাবে। বৈঠকে এ প্রসঙ্গে কথা বলা নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নাম প্রস্তাব করেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শুরুতে কয়েকটি জেলার নেতারা বক্তব্য রাখলেও পরে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আশঙ্কায় সভা সংক্ষিপ্ত করা হয়। শেষাংশে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সূত্র জানায়, নেতারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয় এবং সংলাপ প্রসঙ্গে দলীয় সভানেত্রীকে ভার দিয়েছেন। নেতাদের এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, কিছু দিনের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হবে। এ বৈঠকে সংলাপ ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, সমাপনী বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলের নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের বিগত সময়ের সাফল্য তুলে ধরার পরামর্শ দেন। কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোরও তাগিদ দেন নেতারা। জেলা নেতাদের বক্তব্যে দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জানিয়েছেন, দলের নেতা, মন্ত্রী, এমপি প্রত্যেকের আমলনামা তার হাতে রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। সব কিছু বিবেচনা করেই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকের শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান। পরে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপর সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। দীর্ঘ সূচনা বক্তব্যের পর নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং প্রত্যেক জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ অংশ নেন। সভায় অংশ নেয়া নেতাদের সরকারের বিগত সময়ের উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্যসহ পুস্তিকা ও ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন নয়’ নামের একটি প্রচারপত্র দেয়া হয়। এ প্রচারপত্রটিতেও তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের প্রেক্ষাপট এবং নির্বাচিতদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে জরিপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন: সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একটি জাতীয় দৈনিকের জনমত জরিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগের সমর্থন আছে ৪৮ ভাগ। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছিল ৫২ ভাগ। কিন্তু একটি পত্রিকা জরিপ করে বলেছে ৯০ ভাগ মানুষ নাকি তত্ত্বাবধায়ক চায়। মাত্র তিন হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে কি এই ফল দেয়া যায়। এখানে আওয়ামী লীগের মানুষের মতামত গেল কোথায়? এই পত্রিকাটির চরিত্র কে না জানে? তাদের বক্তব্যের কি বিশ্বাসযোগ্যতা আছে?
তিনি বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পত্রিকাটি কি ভূমিকা রেখেছে তা সবার জানা আছে। এই পত্রিকাটি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকা দরকার। গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে ওই পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা প্রকাশেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিন। যা বলার বলুন, যত খুশি বলুন। আলটিমেটাম দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। জ্বালাও পোড়াও বাদ দেন। এসব করলে সরকার তা বরদাশত করবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার যা যা করার দরকার তাই করবে।
তিনি বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সংলাপের ডাক দিলাম আর উনি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন। তিনি বলেছিলেন আমি নাকি পালাবার পথ পাবো না! আমি তো উনাকে বলতে পারি উনিও তো এখন পথহারা। হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আলটিমেটাম দেয়া হলো, কিন্তু আধা ঘণ্টায়ই তা ফিনিশ!
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছেন। একবার তত্ত্বাবধায়ক এসে উনার ছেলেদের দেশছাড়া করেছে। আবার তত্ত্বাবধায়ক এলে উনাকে যেতে হয় কিনা কে জানে!
সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দু’টি বিভাগের প্রার্থীর বিষয়ে তথ্য হাতে পেয়েছি। বাকি বিভাগের তথ্যও আসছে। আমি নিজেই এসব তথ্য পর্যালোচনা করে নোট নিচ্ছি। এটি আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা। পরে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করা হবে।
নেতাদের সতর্ক করলেন আশরাফ: বর্ধিত সভার শুরুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বক্তব্য রাখেন। দল গোছানো এবং আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি নির্দেশনা দেন। নেতাদের উদ্দেশে  আশরাফ বলেন, জনগণ যেন বীতশ্রদ্ধ না হয়ে পড়ে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন হলো বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো।
খেলায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু নির্বাচনে জয় ছাড়া আর কোন লক্ষ্য থাকে না। নির্বাচনে জিততে যা যা করার দরকার আমাদের তা করতে হবে। কোন্দল মেটাতে হবে। নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলতে হবে। আপনাদের আচার-আচরণ বিশ্লেষণ করে জনগণ ভোট দেবে। আমি কি বোঝাতে চাইছি, তা আপনারা বুঝতে পারছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার কথা উল্লেখ সৈয়দ আশরাফ বলেন, ওই সভায় তৃণমূল নেতাদের সিদ্ধান্ত দৃশ্যপট বদলে দিয়েছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। তখন নেত্রী কারাগারে ছিলেন। জাতি অন্ধকারে ছিল। ওই বর্ধিত সভা বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। যারা ওয়ান-ইলেভেন করেছিল, তাদেরও দিন শেষ হয় ওই বর্ধিত সভায়। উপস্থিত নেতাদের তিনি বলেন, আপনারা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তা-ই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে। নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা হুমকির মুখে। চারদিকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ অবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
বর্ধিত সভার মঞ্চে ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নাসিম, সতীশ চন্দ্র রায়, ওবায়দুল কাদের ও এডভোকেট সাহারা খাতুন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট