Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মহাসেন আতঙ্ক উপকূল জুড়ে

সকালে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’। গত রাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মহাসেনের গতিপথ ছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলের দিকে। ভোর থেকে এটি পটুয়াখালী (খেপুপাড়া)-টেকনাফ উপকূলের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করবে। এসময় বাতাসের গতিবেগ  হতে পারে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে সর্বোচ্চ ১০ মিটার উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে সতর্কবাণী দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মহাসেন আতঙ্কে গতকাল থেকেই উপকূলীয় জেলায় ছিল আতঙ্ক। দিনভর সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় সাত নম্বর বিপদ সঙ্কেত এবং মংলা বন্দরে পাঁচ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি করা হয়। গতকাল বিকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম ইপিজেড। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামাও বন্ধ করে দেয়া হয়। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।  জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চারপাশ সমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক  জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে। এদিকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন উপকূলে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে গতকাল নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়। অনেকে আবস্থান নিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এদিকে মহাসেনের আশঙ্কায় আজকের এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। বিরোধী দল হরতাল ডাকলেও সন্ধ্যায় তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গতকাল রাত পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন স্থায়ী ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে এখন ভরপুর। মহাসেন দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় জান-মালের নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। মাইকিং করে দুর্যোগের কথা জানানো হয়। আহবান করা হয় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে। চিকিৎসক, উদ্ধারকারী, পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যদের রাখা হয়েছে সতর্ক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে লোকজনকে। মহাসেনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চট্রগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরে রেড এলার্ট-থ্রি জারি করা হয়। এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। একই সঙ্গে দুপুর থেকে ওই দুই সমুদ্র বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। সব জাহাজকে পাঠানো হয় বহির্নোঙ্গরে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামে হযরত শাহ্‌ আমানত বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সব ধরনের বিমান চলাচাল বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের অন্তত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ দেয়ার আগে পর্যন্ত বরিশাল উপকূলীয় এলাকাসহ সব উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা-সিইপিজেড ও কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা-কেইপিজেড গতকাল দুপুরে ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ মোকাবিলায় দুর্গতদের চিকিৎসাসেবায় ১৩টি উপকূলীয় জেলায় ১,৩২৭টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে ৪৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৬টি, চট্টগ্রামে ৪৭৯টি কেন্দ্রে ২৮৩টি, ফেনীতে ৮৮টি কেন্দ্রে ৭৮টি, নোয়াখালীতে ২৪৪টি কেন্দ্রে ১০৫টি, লক্ষ্মীপুরে ১০১টি কেন্দ্রে ৬৭টি, ভোলায় ৩৮৭টি কেন্দ্রে ৯২টি, বরগুনায় ৩৪০টি কেন্দ্রে ৪৬টি, পটুয়াখালীতে ৩৬০টি কেন্দ্রে ১১১টি, পিরোজপুরে ১৬১টি কেন্দ্রে ৭৮টি, ঝালকাঠিতে ২৩টি কেন্দ্রে ৩৭টি, বাগেরহাটে ৯৬টি কেন্দ্রে ৮২টি, খুলনায় ১৭০টি কেন্দ্রে ১১৬টি এবং সাতক্ষীরা ৬৪টি কেন্দ্রের জন্য ১১৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়। আগেই ওইসব এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতি নিয়ে এগুচ্ছিল। ধীরে ধীরে বাড়ে গতিবেগ। ওই সময় আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

‘মহাসেন’ মোকাবিলায় ৫০০০০ স্বেচ্ছাসেবক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’-এর আঘাত থেকে জানমাল রক্ষা করতে উপকূলীয় ১২ জেলায় ৫০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, এসব জেলায় কর্মরত সকল সরকারি- বেসরকারি, আধা-সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকতে স্ব স্ব বিভাগ ও মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডিসি- এসপিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ইতিমধ্যে বেতারসহ সব ধরনের প্রচার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী ইতিমধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ জেলেদের অধিকাংশই উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছে। তবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে মাছ বেশি পাওয়া যায় বলে, অনেকে সরকারি নির্দেশ না মেনে গভীর সমুদ্রে থেকে যায়। এটা রোধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় ১২ জেলার জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে উপকূলের কাছাকাছি বসবাসকারী নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে থাকার উপযোগী করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্যোগ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর কোন অভাব হবে না। খয়রাতি সহায়তাসহ নগদ টাকা জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগকালে এবং পরবর্তী সহায়তায় রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন এনজিও ছাড়াও ফায়ার সাার্ভিস, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামে আঘাত হানছে ‘মহাসেন’ বিমান চলাচল বন্ধ, বন্দরে রেড এলার্ট

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামে গত রাত থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আকাশ মেঘলা আকার ধারণ করেছে। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আতংকে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো শহর। বড় ধরনের আঘাত থেকে রেহাই পেতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিমান চলাচল। বন্দরে আবারও দেয়া হয়েছে রেড এলার্ট। সর্বত্র চলছে উৎকণ্ঠা।
নগরীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং। আজ বৃহস্পতিবার দিনের কোন এক সময়ে চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকা দিয়ে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন। বর্তমানে মহসেন বঙ্গোপসাগরের উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়ে বাংলাদেশ উপকূলের ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ইতোমধ্যে সমুদ্র উপকূলীয় ও বন্দর এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।
চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সূত্র জানায়, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে গতকাল দুপুরের পর বৈঠকে বসেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে বিকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পর গতকাল বিকাল ৪টা থেকেই সব ধরনের রুটে বিমান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এই বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক স্কোয়াড্রন লিডার রবিউল হোসেন। বলেন, ‘আকাশের অবস্থা ভাল নয়। তাছাড়া মহাসেন যে কোন সময় আঘাত হানতে পারে। এ অবস্থায় আমরা বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছি।’
একই রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বন্দরেও। সেখানে রেড এলার্ট-৩ জারি করা হয়েছে। এর আগে গতকাল পর্যন্ত বন্দরে এলার্ট-২ বহাল ছিল। বন্দরের ভেতরে লোকজনের সুবিধার্থে দু’টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এসব কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু মহাসেন-এর আকার ক্রমেই তীব্রতর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বন্দরে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। পণ্য ওঠানামাও বন্ধ রয়েছে। বন্দরের জেটিতে কোন ধরনের জাহাজ ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ সব জাহাজ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন।
বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সমুদ্র বন্দরে জাহাজ আসা যাওয়ায় মহাসেন-এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে কথা বলে আমরা জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’ অন্যদিকে ‘মহাসেন’  ধেয়ে আসায় চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (ইপিজেড)-র পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত করণ কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। দুপুর ২টা থেকে বন্ধ ঘোষণা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা ছাড়া অন্য কোন কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্দেশিত সময়ে শ্রমিকদের ছুটি দেয়নি, বন্ধ করেনি কারখানা। ইপিজেড এলাকার একাধিক কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তারা ছুটির বিষয়টি জানে না বলে জানান।
ঘূর্ণিঝড় মহাসেন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে গতকালও চট্টগ্রামের সমুদ্রবর্তী সব এলাকায় মাইকিং অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয়ভাবেও মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডু, ভাটিয়ারী, মীরসরাই, নগরীর কাট্টলী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, বাঁশখালীসহ একাধিক স্থানে আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন লোকজন।
তাদের কেউ সন্তান পরিজন নিয়ে, কেউবা গরু, বাছুর নিয়ে দুপুরের পর থেকে রওনা করেন। এসব স্থানে ৩০ লাখ লোক প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম আবদুল কাদের বলেন, ‘মহাসেন যতই ঘনিয়ে আসছে আমাদের তৎপরতা ততই বাড়ছে। লোকজনকে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে বিশেষ টিমের সদস্যরা।’
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা প্রায় ১১টি উপকূলীয় ওয়ার্ডে ২০০ জন করে প্রশিক্ষিত  স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োজিত করেছে। ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে  স্বেচ্ছাসেবক ও রেডক্রিসেন্ট কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের আশ্রয়শ্রন্দ্র গুলো হচ্ছে- উত্তর কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয়, দক্ষিণ কাট্টলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হালিশহরস্থ জরিনা মফজল কলেজ, মহব্বত আলী স্কুল, আহম্মদ মিয়া স্কুল, দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন স্কুল ও কলেজ, দক্ষিণ পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, নজরুল রবীন্দ্র স্কুল একাডেমী, শহীদ এনএনএমজে কলেজ, চর চাকতাই স্কুল, পূর্ব বাকলিয়া বালিকা বিদ্যালয়, পূর্ব  মোহরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, হামিদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, হামিদচর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্রে শুকনো খাবার, মোমবাতি, ওষুধপত্র, পানি ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী মজুত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি মেডিকেল টিম। তারা স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ প্রস্তুত রেখেছে। সিটি কর্পোরেশনের স্কুল কলেজগুলোকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজারে বিমানবন্দর-স্কুল বন্ধ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে কক্সবাজার  জেলা সদরসহ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হতে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সরকারি কর্মকর্তারা উপকূল থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজে নেমে পড়েন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সকাল ১১টার দিকে জেলা সদরের সকল বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। ‘মহাসেন’ দ্রুত উপকূলের দিকে এগিয়ে এলেও কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও কোন ধরনের দমকা হাওয়া কিংবা বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গুমোট আকার নিয়ে আছে। ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে আদৌ আশ্রয় কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে আসবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি দ্রুত উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কোন এলাকায় আঘাত হানবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ৪০০-৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে আসলেই এটির গতিবিধি পরিষ্কার হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, বিপদ সঙ্কেত ঘোষণার পরপরই উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং শুরু করা হয়েছে। উদ্ধার কর্মীদের খবর দেয়া হয়েছে। তারাও লোকজনকে সরিয়ে আনার কাজ করবে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের (সিপিসি) ৬৬৬৫ জন, রেড ক্রিসেন্টের আড়াই হাজার কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ আহমদ জানান, উপকূলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেয়া হচ্ছে।
কুতুবদিয়া থেকে একজন সংবাদ কর্মী জানিয়েছেন, বিপদ সঙ্কেতের পর থেকে এই দ্বীপের মানুষের মধ্যে ছুটাছুটি শুরু হয়েছে। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন।
মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্‌ইউএনও) আনোয়ারুল নাশেদ জানান, উপকূলের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। মাইকিং চলছে। মানুষ আসছে। লোকজন দ্রুত সরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
এদিকে কক্সবাজার শহরের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়ালেও তারা নিরাপদ আশ্রয়ে আসবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। আকাশে রোদ থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা নিয়ে এসব মানুষ সন্দিহান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, জেলা সদরসহ ৮ উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদেরকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেয়ার জন্য আটটি উপজেলার ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড়

ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারির পরপরই কক্সবাজার জেলা সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফসহ ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে। গতকাল দুপুর থেকে জেলা সদরের সমিতি পাড়া, নাজিরার টেক নুনিয়ার ছড়া, পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া, খুরুশকুল গোমাতলী, পোকখালীসহ মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া ও টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার লোকজনদেরকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার দৃশ্য চোখে পড়েছে। লোকজন ছুটছে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সঙ্গে রয়েছে গরু, ছাগল, বাটি-বদনা, ঝাড়ু, কাপড়ের ব্যাগ, হাতপাখা, ছাতা ইত্যাদি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদি। সবার উদ্দেশ্য একটাই, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র।
জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, জেলায় মোট ৫৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিটিতে দু’হাজার করে লোক আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া, বড় স্কুল, কলেজ, মাদরাসা আছে আরও পাঁচ শতাধিক। এর বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দোতলা বা তার চেয়ে উঁচু সকল সরকারি- বেসরকারি অফিসসহ সব ধরনের ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় সন্ধ্যার পর কাউকে ঘরে থাকতে দেয়া হবে না। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। জেলা প্রশাসক জানান, কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না চাইলে, তাকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

বিমান ওঠানামা বন্ধ

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসান জহির জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বুধবার বিকাল ৪টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’কে ঘিরে কক্সবাজার উপকূলজুড়ে মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মহাসেন নামক ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও আজ বৃষ্টি হচ্ছে না। বর্তমানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ০৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। বিপদ সঙ্কেত বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী  জাহাজসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা  হয়েছে। সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। দুর্যোগকালে উপকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন যাতে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলার প্রায় ১০৭১ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। একই ভাবে প্রস্তুত রয়েছে রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা।
জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিটন বড়ুয়া জানান, কক্সবাজারের ৫৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৫৩৪টি স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে জেলাব্যাপী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে দেয়া হবে।
সভায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তারা জেলাব্যাপী তিন পর্যায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আগে, চলমান এবং পরবর্তী পর্যায়ে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জেলার সব স্বেচ্ছাসেবক।

টেকনাফ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টেকনাফ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন। ৭নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ৭নং বিপদ সংকেত নিয়ে সতর্ক থাকতে সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে এবং উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন সেল্টারসহ বিভিন্ন স্কুল ও উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে সেন্টমাটিন দ্বীপের ৭০০০ ও শাহপরীর দ্বীপের ৪০ হাজার  লোকের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটি উপজেলা পরিষদে কন্ট্রোল রুম ও তথ্য কেন্দ্রের পাশাপাশি ৬ জন কর্মকর্তাকে ছয়টি ইউনিয়নের দায়িত্ব দিয়েছে। ৬টি মেডিকেল টিম, ৫৭টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের ৮৪০ জন মহিলা-পুরুষ কর্মী, পুলিশ ও বিজিবিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা বস্তিতে মহাসেন আতঙ্ক

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, উখিয়ার কুতুপালং বস্তিতে বসবাসরত লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে বিরাজ করছে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আতঙ্ক। সরকারি-বেসরকারিভাবে এসব রোহিঙ্গার নিরাপত্তার জন্য কেউ এগিয়ে না আসায় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে তাও তারা বলতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারি কোন নির্দেশনা আসেনি। তাই স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদে তাদের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মনখালী, ছেপটখালী, ছোয়াংখালী ও ইনানী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলে কাজ করে যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মোকাবিলায় কয়েক দফায় সভা করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। সভায় কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল ও জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।  রামগতি উপজেলার চরগজারিয়া, বয়ারচর ও তেলিরচরের লোকজনকে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অপরদিকে পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত আলেকজান্ডারের ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বরিশালে গুমোট আবহাওয়া

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, মহাসেন-এর আগমনী বার্তা জারি করা হয়েছে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মধ্য দিয়ে। সকাল থেকেই বরিশালে বৃষ্টি হয়েছে। বিরাজ করছে গুমোট আবহাওয়া। মেঘে ঢাকা পুরো আকাশ।

মহেশখালী উপকূলের মানুষ আতঙ্কে

মহেশখালী  (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী উপকূলীয় দ্বীপ মহেশখালীর সাড়ে ৩ লক্ষাধিক লোক মহাসেন আতঙ্কে রয়েছে। মহেশখালীর উপদ্বীপ ধলঘাটা, মাতার বাড়ী ও শাপলাপুর ইউনিয়নে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নষ্ট থাকায় এ ৩টি ইউনিয়ন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।  সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি দেয়া হয়েছে।

বরগুনায় ৫০০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ৭নং বিপদ সংকেত প্রচারের পর থেকেই নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে বরগুনা ও এর আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও শিশুসহ প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ। গত দু’দিনে বরগুনা জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সদর উপজেলাসহ পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে ও স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলো। বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে ৪৬টি মেডিকেল টিম। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সিপিপির ৩৭২টি ইউনিটের পূর্ব প্রশিক্ষিত পাঁচ সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক পূর্বসংকেত প্রচারের পাশাপাশি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

উপকূলের  লক্ষাধিক মানুষকে সরানো হয়নি

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার উপকূলীয় অঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়নি। ফলে-উক্ত উপকূলীয় এলাকার লোকজন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন-রজনী অতিবাহিত করছে।

মহাসেনের আতঙ্কে নিরাপদে ছুটছেন মানুষ

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মহসেনের প্রভাবে ঝালকাঠির রাজাপুরে গতকাল সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছে মাঝারি বৃষ্টিপাত ও থেমে থেমে মাঝারি দমকা বাতাস। এতে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে শুরু করেছেন। ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে সাইক্লোন শেল্টার ও মেডিকেল টিম।

গভীর সাগর থেকে তীরে ফিরছে মাছ ধরার ট্রলার

গলাচিপা প্রতিনিধি জানান, মহাসেন-এর কারণে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সকল ট্রলার ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরা এফবি মিরাজ ট্রলারের মাঝি মামুন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং গভীর সাগরে সর্তকবার্তার কারনে মাছ ধরার ট্রলার তীরে ফিরতে শুরু করেছে।

পটিয়ায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, মহাসেন মোকাবিলায় পটিয়ায় সার্বক্ষণিক সহায়তা জন্য পৌরসভা কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম নং- ০৩০৩৫৫৬৫৪৩, মোবাইল নং- ০১৮৩২-৭৫২৯২৮, ০১৮১৯-১৭১৯০৯।

রায়পুরের চরাঞ্চলের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরছে

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, মহাসেনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় মেঘনা উপকূলীয় রায়পুর উপজেলায় উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, চরআবাবিল ইউনিয়নের লোকজন তাদের গবাদি পশু নিয়ে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোসহ চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভিতরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। লোকজনের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চরাঞ্চলের ১১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিচ্ছে এলাকাবাসী

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে ৫নং বিপদ সংকেত প্রচারের পর শরণখোলা উপজেলাবাসীর মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম খুলেছে। গঠন করা হয়েছে জরুরি মেডিকেল টিম। সাইক্লোন শেল্টারগুলি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলার রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর তীরের মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে।

৫০টি চরের ২ লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকিতে

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় মনপুরাসহ ৫০টি চরের ২ লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদে না আসায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জেলার সকল সাইক্লোন শেল্টার গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। বিপদ সংকেতের পতাকা উড়ানো হয়েছে বেড়িবাঁধগুলোতে। একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে জেল প্রশাসকের কার্যালয়ে। সেখান থেকে ভোলার সকল উপজেলার সাথে দুর্যোগকালীন সময়ে যোগাযোগের জন্য কানেক্টিভিটি রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৯২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সিপিপি’র ৯১৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উদ্ধার কাজে ব্যাবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট