Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হেফাজতের হরতাল প্রত্যাহার ডিএমপি কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ

সারা দেশে আগামী রোববার ডাকা সকাল সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহার করেছে হেফাজতে ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যায় পত্রিকা অফিসে ফোন করে হরতাল প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। একই সঙ্গে হাফেজ মুহাম্মদ মুজ্জামেল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ঢাকার শাপলা চত্বরের ঘটনায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে তার বক্তব্য মিথ্যাচারের শামিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগই প্রমাণ করে শাপলা চত্বরে সেদিন কি ধরনের নৃশংস গণহত্যা চালানো হয়েছে।
হেফাজতের চট্টগ্রাম শাখার নেতারা জানান, দলটির মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার সারা দেশে হরতাল ডাকা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার হাটহাজারীর দারুল উলুম মাদরাসায় আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নির্দেশে এই ঘোষণা দেয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে দিনভর এক বৈঠকের পর হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন হেফাজত নেতারা। একই সঙ্গে ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদরাসায়ও হরতাল নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে। দুই জায়গায় হরতাল প্রত্যাহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় পত্রিকা অফিসে ফোন করে এই খবর জানিয়ে দেন স্থানীয় নেতারা। দলীয় স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত সবাই মিলে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
পরে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ই মে রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি যৌথবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদের বক্তব্য মিথ্যাচারের শামিল। তিনি প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়েও আওয়ামী লীগ নেতার মতো বক্তব্য দিয়েছেন- যা দুঃখজনক। বিবৃতিতে নেতারা জানান, সরকার সমর্থক, পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়াগুলো হেফাজতের শান্তিপূর্ণ ঢাকা অবরোধ নিয়ে মিথ্যাচার, মানুষ হত্যার বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গাছ কাটা, রাস্তার ডিভাইডার ভাঙা ইত্যাদি নিয়ে ধারাবাহিক অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা সরকারকে বাঁচাতে চাইলেও জনগণ এসব মিডিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সরকারের মিথ্যা বক্তব্য, পুলিশের বিবৃতি, দলবাজ বুদ্ধিজীবীদের মিথ্যাচারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। পুলিশ ও মিডিয়ার ওপর ভর করে সরকার ইসলাম নির্মূল ও মুসলিম নিধনের দিবাস্বপ্ন দেখছে।
ইসলাম ও মুসলমানদের নির্মূলের মানসিকতা নিয়েই সরকার আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও নবীপ্রেমিক নিরস্ত্র জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের ভয়াল কালো রাতের হত্যাযজ্ঞকে হার মানিয়েছে। গণহত্যার সংখ্যা নিয়ে সরকার ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিতর্কের ধূম্রজাল সৃষ্টি করে জনগণের প্রতিক্রিয়া ঠেকানোর অপকৌশল নিয়েছে। মিশরের হোসনি মুবারক ও সিরিয়ারের বাশার আল-আসাদের পথ ধরে এ দেশে নাস্তিক্যবাদের বিজয় অর্জিত হওয়ার স্বপ্ন কখনও বাস্তবায়িত হবে না।
‘হেফাজতের ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা ছিল’ এমন মন্তব্যের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি দলবাজ ডিএমপি কমিশনারের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে আসা ভ্রান্ত চিন্তার ফসল, উদ্ভট তথ্য, আজগুবি অভিযোগ। আমরা এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ করছি। প্রমাণ করতে না পারলে তার এহেন মিথ্যাচারের জন্য আমীরে হেফাজত আল্লামা আহমদ শফী, আলেম-ওলামা ও দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হবে।
একজন এসআইকে কুপিয়ে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতের কর্মীরা ঢাকায় দা-কুড়াল, পেট্রোল-করাত নিয়ে নয়, জায়নামাজ আর তসবিহ নিয়ে গিয়েছিল, তারা পুলিশের এসআইকে কুপিয়েছে এমন অভিযোগ কোন শিশু ও পাগলের পক্ষেও বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ও নাস্তিকদের দোসর কিছু গণমাধ্যমের সম্মিলিত অপপ্রচার ও কল্পকাহিনী সম্পর্কে জনগণ সজাগ রয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দেশের লাখ লাখ আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও হেফাজতকর্মীকে আসামি করে অর্ধশত মামলা করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব প্রখ্যাত আলিমেদীন আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ আটককৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। দায়েরকৃত মিথ্যাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। আমরা আশা করি, এর প্রয়োজন পড়বে না, এর আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন- সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা ইদরিস, মাওলানা সলিমুল্লাহ প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট