Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘মধ্যরাতে ‘গণহত্যা’ চালিয়ে লাশ গুম করেছে সরকার’ : ১৮ দলীয় জোট

পরিকল্পিতভাবে মধ্যরাতে সরকার গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এ ঘটনায় সহস্রাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে জানিয়ে জোট নেতারা বলেছেন, এর জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বৈঠক করেন।

বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় মধ্যরাতে সরকার ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত বা আহতদের সংখ্যা সংবাদ মাধ্যম বলতে পারছে না। ভবিষ্যৎই বলে দেবে- এ পরিকল্পিত হত্যাকান্ডে কত রাজনৈতিক নেতার প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতারাও এ হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতারা যে উদ্দেশ্যে তাদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন মানুষ তার মর্যাদা দেবে।

সরকার গণদাবি উপেক্ষা করে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যা চালিয়েছে- যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে দাবি করেন এম কে আনোয়ার।

তিনি বলেন, সরকারের অনুমতি নিয়েই শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতারা অবস্থান নিয়েছিলেন।

‘গণহত্যা’র খবর দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি প্রচার করায় তাদের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে তাদের বাকশালী চরিত্র ফুটিয়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো এখন আওয়ামী লীগের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

রবিবারের সহিসংতার জন্য সরকারকে দায়ী করে এম কে আনোয়ার বলেন, ‘দেবাশীষ’ নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্ব্বে বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিভিন্ন দোকানে অগ্নিসংযোগ করে হেফাজতে ইসলামের নামে অপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সরকারই সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। কারণ তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘গণহত্যা’ চালিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যাবে না। গতরাতের ঘটনায় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহাণি ঘটেছে বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবর পাচ্ছি।

প্রয়োজনে ৬০ লাখ লোকের রক্ত দিয়ে দেশকে রক্ষা করা হবে উল্লেখ করে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে যথাযথ কর্মসূচি দেয়া হবে।

সন্ধ্যার পরে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে যে- এ গণহত্যার হতাহতের কাছাকাছি সংখ্যা বেরিয়ে আসবে বলে জানান দেন সাদেক হোসেন খোকা।

শাহবাগ মঞ্চের বিষয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, খবরে দেখেছি- শাহবাগের মঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মঞ্চ ভাঙার জন্য আমরা তিন মাস ধরে বলে আসছিলাম। আজ এ মঞ্চ সংঘাত-হানাহানির জন্ম দিয়েছে। মঞ্চ ভাঙার মাধ্যমে প্রমাণ হলো আমরা এতোদিন যা বলছি- তা সঠিক ছিল।

বিকেলে ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সমাবেশের অনুমতির জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি। পরে তারা সভা-সমাবেশ স্থগিত করে আমাদের অধিকার রহিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, ড. আব্দুল মঈন খান,  চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট