Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি- গোলাম আযমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন

কোন তামাশা না করে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আহবান জানিয়েছেন তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে তিনি এই  আহবান জানান। আফিফা আযম বলেন, আর কত নাটক করবেন? অনেক তো হলো! প্রহসনের এক ‘ট্রাইব্যুনাল’ নাটক করে সমগ্র বিশ্বের কাছে দেশের মান সম্মান সব খুইয়েও আপনার আত্মা তৃপ্ত হয় নি! ফাঁসিতেই যখন ঝোলাবেন, তাহলে এত তামাশা না করে আপনার সৃষ্ট শাহবাগ মঞ্চে (যেখানে আপনার মন পড়ে থাকে বলে আপনি সংসদে আবেগ সহকারে বক্তব্য দিয়েছেন) প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আপনার আত্মাকে শান্তি দিন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আপনার স্বনামধন্য এক প্রতিমন্ত্রী (যার ধমনিতে আপনাদের ভাষায় “স্বাধীনতার শত্রু”র রক্ত বইছে বলে সকলেই বলে) একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বলেছেন ‘আরও ফাঁসির রায় আসছে’। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোন ব্যক্তি বিচার বিভাগের রায় সম্পর্কে এমন আগাম বক্তব্য দিলে তার কি পরিণতি হতো তা বোঝার ক্ষমতা আপনার না থাকার কথা নয়। যদি এবারই প্রথম সরকারের কোন কর্তাব্যক্তির এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হতো তাহলে হয়তো ধরে নেয়া যেতো যে তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন।  কিন্তু, বিগত ৪ বছর ধরে আপনার দল ও জোটের  প্রায় ডজনখানেক মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতা এই ফাঁসিতে ঝোলানোর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিচারের দরকার নেই, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই হলো, দু’চারটাকে লটকিয়ে দিলেই আর এত লাফালাফি হতো না, অমুক তারিখের মধ্যে ফাঁসির রায় আসছে, গোলাম আযমকে পাঁজাকোলা করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবো, ইত্যাদি কথা আপনার মন্ত্রী ও নেতাদের মুখে মুখে। এগুলো আপনি শোনেননি বা জানেন না তা পাগলও বিশ্বাস করবে না। এরপরও আপনি তাদেরকে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এ ধরনের বা যে কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত না রেখে প্রমাণ করেছেন  আপনার ইচ্ছায়, ইঙ্গিতে, অনুমোদনে, প্ররোচনায়ই এসব বক্তব্য এসেছে, এখনও আসছে। এর অর্থ হলো, আপনার মনের ইচ্ছারই প্রকাশ ঘটাচ্ছেন আপনার মন্ত্রীপারিষদ।
আফিফা আযম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি পারেন না এমন কোন কাজ নেই। প্রথমে আপনি ১৯৫ জন পাকিস্তানী সামরিক ব্যক্তি যারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তালিকাভূক্ত এবং বিনা বিচারে মুক্তিপ্রাপ্ত, তাদের জন্য প্রণীত ১৯৭৩ সালের আইন ২০১০ সালে সংশোধন করে বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল সাজালেন নিজের মনমতো। দলীয় আইনজীবীদেরকে প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে সাজানো নাটক শুরু করলেন। সেই নাটকের এক অধ্যায় শেষ হয়েছিল “স্কাইপ” কেলেঙ্কারির মাধ্যমে। সমগ্র বিশ্ব আশা করেছিল, অস্বচ্ছ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অগ্রহণযোগ্য এই ট্রাইব্যুনাল বাতিল করা হবে। যে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান স্বয়ং এই স্কাইপ কেলেঙ্কারির দায়ভার নিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন সেই ট্রাইব্যুনাল আপনি বাতিল না করে নির্দ্বিধায় তা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতটুকু করেই আপনি ক্ষান্ত নন। ট্রাইব্যুনাল আপনার পছন্দমতো রায় না দেয়ার ফলে এই নাটকে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য আপনি নাস্তিক-ব্লগার বামদের দিয়ে শাহবাগে এক আন্দোলন শুরু করে মন্ত্রী-এমপিদের পাঠিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করলেন। এরপর সংসদে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদেরকে আহবান জানালেন (যা পরোক্ষভাবে তাদের জন্য হুকুম) যেন, রায়ে ফাঁসি চাই দাবির প্রতিফলন ঘটানো হয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘ, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবীদের সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব প্রথম থেকেই এই ট্রাইব্যুনালের “নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা” নিয়ে দৃঢ়ভাবে সন্দেহ পোষণ করলেও আপনি তোয়াক্কা করেননি। কারণ, আপনি জানেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে আপনার পক্ষে ক্ষমতার “চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত” সম্ভব নয়। সমগ্র বিশ্বের দিকে চেয়ে দেখুন- কোথাও ইসলামি আন্দোলনকে জেল, জুলুম, মামলা, হামলা, হত্যা, ফাঁসি ইত্যাদি দিয়ে দমিয়ে রাখা যায়নি। বাংলাদেশেও যাবে না। এদেশের মাটিতে ইসলামের শিকড় অতি শক্ত। আপনার ধর্ম নিরপেক্ষতার বুলডোজার দিয়ে তা বেশি দিন দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। যেভাবে আপনার পিতাও লাল ঘোড়া দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেন নি। এদেশের মাটিতে ইসলামের পতাকা একদিন বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ্‌।
আফিফা আযম বলেন, মনে রাখবেন, জীবন ও মৃত্যুর ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আপনাদের লক্ষ্য দুনিয়া, তাই এই দুনিয়াতেই ক্ষমতা পেয়েছেন, এবং এর দাপটে আখেরাত বিস্মৃত হয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে এই নিরীহ, বৃদ্ধ ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে এত জুলুম করছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে আখেরাতে বিশ্বাস করি এবং সকল জুলুমের প্রতিফল আল্লাহর কাছেই কামনা করি। সময়ই বলে দেবে কে সঠিক আর কে বেঠিক। আমার বৃদ্ধ নিরীহ স্বামীর উপর আপনার নির্যাতন আর সইতে পারছি না। তাই, সত্বর অধ্যাপক গোলাম আযমকে আপনার শাহবাগ মঞ্চে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাড়াতাড়ি ‘জান্নাতে’ যাওয়ার পথ সুগম করে দিন। দোহাই, আর দেরি করবেন না। আর হ্যাঁ, হাশরের ময়দানে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট